কেমন হবে “শেরেবাংলা নগরে সচিবালয়” ?

Screenshot 2026-10-19 012053রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পুরোনো বাণিজ্যমেলার মাঠে বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে মন্ত্রিসভা বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়।

বর্তমানে পল্টন ও গুলিস্তানের পাশে আব্দুল গনি রোড থেকে সচিবালয় স্থানান্তরের এই মূল ভাবনা বা আইডিয়াটি সরকারের নিজস্ব ছিল, যা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৯ সালে নতুন জায়গায় অফিস শুরু হবে।এজন্য নিজস্ব অর্থায়নে শিগগিরই নির্মাণ কাজ শুরু হবে।

মন্ত্রিসভা বৈঠকের পর সন্ধ্যায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে বৈঠকের সিদ্ধান্তের কথা জানান।

ঢাকার শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ সচিবালয় স্থাপন তথা স্থানান্তরের প্রস্তাব করে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, সচিবালয়কে ঢাকা শহরের একটি নির্দিষ্ট জায়গায় (যেখানে আগে থেকেই মাস্টার প্ল্যানে জায়গা বরাদ্দ আছে, প্রায় ৩১ একর জায়গা) শিফট বা স্থানান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এটি খুব নান্দনিক একটি বিষয় হবে এবং লুই আই কানের মূল ভাবনার সাথে সম্পর্কিত হলেও এটি আলাদা একটি যোগসূত্র তৈরি করবে। সেখানে প্রায় ৩১ লাখ বর্গফুটের মতো বিল্ডিং নির্মাণ করা হবে এবং ২০২৯ সালের মধ্যে সেখানে অফিস করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নতুন সচিবালয়ের নকশা নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, পুরাতন পরিকল্পনা অনুযায়ী পূরাতন বাণিজ্যমেলার মাঠে প্রায় ৩১ দশমিক ৫৮ একর জায়গায় প্রায় ৩৩ দশমিক ১৬ লাখ বর্গফুট স্পেস সম্বলিত, তিনটি বেজমেন্টসহ ৩ হাজার ৮০০ গাড়ি পার্কিং, ১৪টি ১২তলা ভবন, মসজিদ, দুটি মাল্টিপারপাস হল, ক্যাফেটেরিয়া, ডাকঘর এবং যান চলাচল ঠিক রাখার জন্য বেশ কিছু আন্ডারগ্রাউন্ড রাস্তা ও আন্ডারপাস নির্মাণ করা হবে।সচিবালয় স্থানান্তরের প্রেক্ষাপট নিয়ে তিনি বলেন, সচিবালয়ের অলরেডি ১৬টি মন্ত্রণালয় বাইরে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে এই সচিবালয়ে অফিস করছেন এবং পুরো সরকারকে আরও দ্রুত ও কনসার্টেড ওয়েতে মুভ করাতে এবং ২০২৯ সালের মধ্যেই এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটার সম্পূর্ণ অর্থায়ন বাংলাদেশ সরকারই করবে।লুই আই কানের মডেলের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, লুই আই কানের মূল নকশার ফর্মুলা এবং আর্কিটেকচার অক্ষুণ্ণ রেখে, সেটার সাথে সামঞ্জস্য রেখে এবং নতুন কিছু ইনপুট দিয়ে সচিবালয় স্থানান্তরের নতুন পরিকল্পনা বা নকশা অনুমোদন করা হয়েছে।

এই নকশা অনুযায়ী মাস্টার প্ল্যান এবং অন্যান্য ডিটেইল নকশাগুলো (যেমন ইলেকট্রিক্যাল, প্লাম্বিং, আর্কিটেকচারাল ও ইঞ্জিনিয়ারিং স্ট্রাকচারাল প্ল্যান) বিভিন্ন ধাপে তৈরি ও অনুমোদন করা হবে।

সচিবালয় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বাংলাদেশ সচিবালয়ের বর্তমান অবস্থানে ১৭ দশমিক ৫৭ একর জায়গায় মোট ১৩টি ভবন আছে, তন্মধ্যে ৮টি ভবন স্বাধীনতা-পূর্বকালে নির্মিত। সচিবালয়ের পুরোনো ১ ও ২, ৩ ও ৮ নম্বর ভবনসমূহ ১৯৩৭ থেকে ১৯৩৯ সালে, ৫ নম্বর ভবনটি ১৯৪৭ সালে নির্মিত হওয়ায় ভূমিকম্প সহনীয় হিসেবে নির্মিত হয়নি।

তিনি জানান, ঢাকা শহর ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় উক্ত স্থাপনাসমূহে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়/বিভাগের কার্যক্রম পরিচালনা করা ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া, ভবনসমূহে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যবহারযোগ্য পর্যাপ্ত স্পেস না থাকায় স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ব্যহত হচ্ছে। ভবনসমূহে পর্যাপ্ত সংখ্যক ওয়াশ-ব্লক নেই, ধারণক্ষমতার অধিকসংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্তৃক ব্যবহৃত হওয়ায় স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

নাসিমুল গনি জানান, বিদ্যমান বাংলাদেশ সচিবালয়ে মোট অফিস স্পেস প্রায় ১৮ দশমিক ৭৬ লাখ বর্গফুট। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত অফিস স্পেসের চাহিদা এবং সচিবালয়ের কমপাউন্ডের বাইরে অবস্থিত বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগের স্থান সংকুলানের জন্য আরো প্রায় ১০ লাখ বর্গফুটের বেশি অফিস স্পেস প্রয়োজন। এ বিষয়ে একনেক সভার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে, লুই আই কান-এর মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী ঢাকার শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠ প্রাঙ্গনে বাংলাদেশ সচিবালয় স্থাপনের লক্ষ্যে স্থাপত্য অধিদপ্তর কর্তৃক ধারণাগত স্থাপত্য নকশা প্রণয়ন করা হয়।

বর্তমানের সচিবালয়ের জায়গা কী হিসেবে ব্যবহার করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুরনো ঢাকার আদালতসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর জন্য ব্যবহার করা হতে পারে।

Pin It