ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করতে গিয়ে তোপের মুখে আমির হামজা

June 10, 2026

Untitled-1-6a298f43d4ef6

কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করতে গিয়ে তুমুল হট্টগোলের মুখে পড়েন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল সাড়ে দশটার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও কলেজ সূত্রে জানা গেছে, সকালে প্রধান অতিথি হিসেবে সরকারি কলেজ মাঠে আন্তঃবিভাগ মিনিবার ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করতে যান মুফতি আমির হামজা। এ সময় মঞ্চে বক্তব্য দেওয়ার সময় সাধারণ শিক্ষার্থীর ব্যানারে একদল শিক্ষার্থী মঞ্চের সামনে জড়ো হয়ে ভুয়া ভুয়া স্লোগান দিতে থাকেন। পরে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনের জন্য মাঠে প্রবেশ করলে ওই শিক্ষার্থীরা সেখানে গিয়েও আমির হামজাকে ঘিরে ধরে স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় তারা মাঠের মধ্যে বসে পড়েন। এই পরিস্থিতিতে কলেজের অধ্যক্ষ আমির হামজাকে নিয়ে তার কার্যালয়ে চলে যান।

শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের কার্যালয়ে গিয়েও একইভাবে স্লোগান দিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। খবর পেয়ে পুলিশ অধ্যক্ষের কার্যালয়ে যান। এসময় এমপি আমির হামজা পুলিশের সঙ্গে বেরিয়ে কলেজ ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।

এদিকে, এ ঘটনার পর আমির হামজার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাসে লেখা হয়, ‘কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ পরিদর্শনকালীন সময়ে মাননীয় সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে ছাত্রদলের নেতা কর্মীরা’। তবে এই স্ট্যাটাসের নিচে লেখা রয়েছে এডমিন।

এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে আমির হামজার ব্যক্তিগত মুঠোফোনে বারবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ অস্বীকার করে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোসাদ্দেক হোসেন রাব্বী বলেন,গাছ কেটে মঞ্চ তৈরি করার কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানিয়েছেন এমনটাই জানতে পেরেছি। এখানে ছাত্রদলের কোন সম্পৃক্তা নেই।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কুষ্টিয়ার সরকারি কলেজে আন্তঃবিভাগ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মাঠ পরিষ্কার করতে ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বর্ধনে লাগানো বিভিন্ন প্রজাতির বনজ, ফলজ ও ঔষধি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এঘটনার প্রতিকার এবং জড়িতদের শাস্তি দাবিতে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন শিক্ষক্ষ-শিক্ষার্থীরা। এর প্রতিবাদ জানিয়ে মঙ্গলবার মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোল্লা মো. রুহুল আমিন বলেন, এমপি মহোদয় আন্ত:বিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। সেখানকার অনুষ্ঠান শেষ করে তিনি আমার কক্ষে ছিলেন। তাকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনা ঠিক না। গাছ কাটার ব্যাপারে কিভাবে এবং কারা করেছে তা তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান অধ্যক্ষ।

জানতে চাইলে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, খবর পেয়ে তিনি ফোর্স নিয়ে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয়ে যান। এসময় তিনি আমির হামজাকে অধ্যক্ষের সঙ্গে আলাপ করতে দেখেন। তবে আমির হামজাকে অবরুদ্ধ করে রাখার বিষয়টি অস্বীকার করেন ওসি। তিনি বলেন, আমির হামজা অধ্যক্ষের কার্যালয় থেকে তার সঙ্গেই বেরিয়ে আসেন এবং কলেজ ক্যাম্পাস ত্যাগ করে চলে যান।

লালনের মাজার নিয়ে সংস্কৃতিমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন রাখলেন আমির হামজা

সংসদ সদস্য আমির হামজা বলেছেন, কুষ্টিয়ার লালন সাঁইয়ের মাজারে সংস্কৃতির নামে অনৈতিক কাজ চলে। সেখানে সংস্কৃতির নামে যেসব অনৈতিক কাজ ও মাদকের কারবার চলে, সেগুলো বন্ধে সংস্কৃতিমন্ত্রীর কোনো পদক্ষেপ আছে কিনা, জাতীয় সংসদে তা জানতে চেয়েছেন তিনি।

বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর কাছে এ প্রশ্ন রাখেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের এই সংসদ সদস্য।

আমির হামজা বলেন, কুষ্টিয়ার লালন সাঁইয়ের মাজার এলাকাকে মাদকদ্রব্যমুক্ত করার জন্য কোনো উদ্যোগ আছে কিনা, তা জানা প্রয়োজন। কারণ, প্রশাসনের পাহারায় লালন সাঁইয়ের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তিন দিন করে মোট ছয়দিনের অনুষ্ঠান হয়।

আমির হামজার এই প্রশ্নের জবাবে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, শুধু কুষ্টিয়ার লালন সাঁইয়ের স্মৃতিবিজড়িত মাজার এলাকাতেই নয়, বরং পুরো দেশকেই মাদকমুক্ত করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সারা বাংলাদেশকে মাদকমুক্ত করতে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে এবং এর জন্য বড় ধরনের কর্মপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

মাদক নির্মূলের বিষয়টিকে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করে মন্ত্রী আরও বলেন, সমাজে যখন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পায়, তখনই কেবল সমাজকে পুরোপুরি মাদকমুক্ত করা সম্ভব হয়।

তিনি আরও দাবি করেন, বিগত ১৮ বছর দেশে যে ঘন অন্ধকার যুগ চলেছে, সেই সময়েই মাদক দেশজুড়ে ব্যাপক বিস্তার লাভ করেছিল। এমনকি তৎকালীন অনেক সংসদ সদস্য, মন্ত্রী এবং রাজনৈতিক নেতাও এই মাদক ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। বিগত সরকার দেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য সবকিছু ধ্বংস করে দিয়ে সমাজকে একটি অন্ধকার যুগে ঠেলে দিয়েছিল।

তবে, সেই অন্ধকার পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে বর্তমান সরকার একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার জোরালো উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বিগত আমলের অবসান ঘটিয়ে বর্তমান সরকার দেশে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার নবজাগরণ আনতে চায়। সারা দেশের তরুণ সমাজকে সেই অন্ধকার যুগ থেকে বের করে আনা হবে। অর্থনৈতিক উন্নতির মাধ্যমে সামগ্রিক সমাজকে পরিবর্তন করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।


Powered By vQsolution