সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠা সবার জন্য আনন্দের নাও হতে পারে

Screenshot 2026-05-18 065247

সবাইকে যে ‘মর্নিং পার্সন’ হতেই হবে এমন কোনো কথা নেই।

যারা ভোরে ঘুম থেকে ওঠেন, তারাই বেশি সফল, কর্মঠ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ এই ধারণা সবার কাছেই পরিচিত।

অন্যদিকে যারা দেরি করে ঘুম থেকে ওঠেন বা রাতে বেশি সক্রিয় থাকেন, তাদের অনেক সময় অলস, অগোছালো কিংবা কম উৎপাদনশীল হিসেবেও দেখা হয়।

তবে আধুনিক গবেষণা ও বিশেষজ্ঞদের মতামত বলছে, বিষয়টি এতটা সরলও নয়। কারণ কাজের ধরন, মনোযোগ ও শক্তির সময় সবার ক্ষেত্রে একরকম হয় না।

অনেকে আছেন, যারা বহু চেষ্টা করেও ভোরে ওঠার অভ্যাস তৈরি করতে পারেন না। সকালে কাজ শুরু করলে মাথা ঝাপসা লাগে, মনোযোগ কমে যায়, এমনকি পুরো দিনটাও অগোছালো হয়ে পড়ে।

অথচ রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের চিন্তা পরিষ্কার হয়, কাজের গতি বাড়ে এবং সৃজনশীলতাও বাড়তে থাকে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কোনো দুর্বলতা নয়; বরং শরীর ও মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যের অংশ।

কেন সকাল এত গুরুত্বপূর্ণ?

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের থেরাপিস্ট কিয়ানা শেলটন রিয়েলসিম্পল ডটকম-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেন, “এমন অনেক প্রবাদ ও ধারণা রয়েছে, যা সকাল-প্রিয় মানুষদের ইতিবাচকভাবে তুলে ধরে। ফলে ধীরে ধীরে ‘ভোরে ওঠা’ একটি ব্যক্তিত্বের প্রতীক হয়ে গেছে। মানুষ ধরেই নেয়, যারা সকালে ওঠেন, তারা বেশি দায়িত্বশীল, পরিশ্রমী ও সংগঠিত।”

অন্যদিকে রাতজাগা মানুষদের অনেক সময় নেতিবাচকভাবে দেখা হয়। তাদের ঘুমের অভ্যাসকে অস্বাস্থ্যকর বা অলসতার সঙ্গে যুক্ত করা হয়।

কিয়ানা শেলটনের মতে- সকাল-প্রিয় মানুষদের জীবনেও কিছু সীমাবদ্ধতা থাকে।

তিনি বলেন, “খুব ভোরে ওঠার কারণে অনেকেই সন্ধ্যার পর ক্লান্ত হয়ে পড়েন। ফলে সামাজিক সম্পর্ক বা সন্ধ্যার পরের কোনো কাজের জন্য তাদের শক্তি কমে যায়। এমনকি কঠোর সময়সূচি মেনে চলতে গিয়ে মানসিক চাপও তৈরি হতে পারে।”

রাতজাগা মানুষদের ভিন্ন শক্তি

অনেক মানুষের মস্তিষ্ক সন্ধ্যা বা রাতের দিকে বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে।

মার্কিন মনোবিজ্ঞানী ডারা হোপ একই প্রতিবেদনে বলেন, “সন্ধ্যার সময় মস্তিষ্কের যে অংশ সৃজনশীলতা ও সমস্যা সমাধানের সঙ্গে যুক্ত, সেটি অনেকের ক্ষেত্রে বেশি সক্রিয় থাকে।”

অর্থাৎ সবার সেরা চিন্তা বা সৃজনশীল কাজ সকালেই হবে— এমন ধারণা সঠিক নয়। অনেকে আছেন, যাদের গুরুত্বপূর্ণ ভাবনা বা সৃজনশীলতা রাতের নীরব সময়েই সবচেয়ে বেশি কাজ করে।

অন্যদিকে কিয়ানা শেলটন এই বিষয়টিকে ‘ঘুমের ক্রোনোটাইপ’ নামে ব্যাখ্যা করেন। এটি হল শরীর ও মস্তিষ্কের স্বাভাবিক সক্রিয়তার সময়।

কারও শরীর সকালে বেশি কর্মক্ষম থাকে, আবার কারও বিকাল বা রাতে।

তিনি বলেন, “রাতজাগা মানুষদের ক্ষেত্রে সন্ধ্যা ও রাতের সময়টিই সবচেয়ে কার্যকর হতে পারে। কারণ তখন চারপাশ তুলনামূলক শান্ত থাকে এবং মনোযোগে বাধা কম আসে।

নীরবতার ভেতর মনোযোগ

রাতের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হল- নীরবতা। দিনের ব্যস্ততা, ফোন, কাজের চাপ বা সামাজিক প্রত্যাশা তখন তুলনামূলক কম থাকে। ফলে নিজেদের চিন্তার সঙ্গে সময় কাটানো যায়।

এই বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নিরিবিলি পরিবেশ সৃজনশীল কাজের জন্য সহায়ক হতে পারে।

কিয়ানা শেলটন বলেন, “একাকিত্ব ও নীরবতা অনেকের কাজের দক্ষতা বাড়ায়। কারণ তখন বাইরের চাপ কম থাকে এবং মন নিজের ছন্দে কাজ করতে পারে।”

নিজের ছন্দ খুঁজে নেওয়ার গুরুত্ব

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল নিজের শরীর ও মনের ছন্দ বোঝা। চাপ বা অন্যদের অভ্যাস দেখে নিজেকে বিচার করলে অযথা হতাশা তৈরি হতে পারে।

কিয়ানা শেলটন মনে করেন, চাইলে প্রয়োজনে নিজের অভ্যাস কিছুটা বদলানো যেতে পারে। তবে সেটি এমনভাবে হওয়া উচিত, যাতে শরীর ও মনের ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।

অনেকে আছেন, যারা সকাল নয়টার আগে মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে পারেন না। আবার কেউ সন্ধ্যার পর আর কোনো কাজ করতে চান না। আসলে দুই অবস্থাই স্বাভাবিক।

Pin It