যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ

Screenshot 2026-10-19 060427

আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিক্ষোভ করেছেন ‘নো কিংস’ আন্দোলনকারীরা।

শনিবার ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক ও লস অ্যাঞ্জেলেসসহ বড়-ছোট বিভিন্ন শহরে পথে নামেন বিক্ষোভকারীরা।

কোথাও গাড়ির বহর নিয়ে হর্ন বাজিয়ে, কোথাও সংগীতানুষ্ঠান ও জমায়েতের মাধ্যমে কর্মসূচি পালন করা হয়। বড় সমাবেশের বদলে ছোট ছোট কর্মসূচিতে ভোটারদের কাছে পৌঁছানো এবং আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটারদের উৎসাহিত করাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য।

ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো ‘নো কিংস’ কর্মসূচি হলো। গত বছরের জানুয়ারিতে তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর এ আন্দোলনের সূচনা হয়।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ট্রাম্প নিজেকে আইনের ঊর্ধ্বে বা রাজার মতো প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছেন, যা মার্কিন সংবিধানের পরিপন্থী।

এবার শুধু ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশেই সীমাবদ্ধ থাকেননি আন্দোলনকারীরা।

ভোটার নিবন্ধন ও ভোট দেওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন তাঁরা। বিশেষ করে যেসব এলাকায় আগাম ভোট শুরু হয়েছে, সেখানে ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়ানোই তাদের লক্ষ্য।
ওয়াশিংটনের ক্যাপিটল ভবনের কাছে ছাতা হাতে দাঁড়িয়েছিলেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সাবিন কার্লসন। তার ছাতায় লেখা ছিল, ‘ভোট, ক্ষমতা, জনগণ’। ৬৬ বছর বয়সী এই ডেমোক্র্যাট বলেন, ক্ষোভ প্রকাশ ও অভিযোগের অনেক কারণ থাকলেও সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো ভোট দেওয়া।

কার্লসনের মতে, কোথায় ও কীভাবে ভোট দিতে হবে, ভোটার নিবন্ধন ঠিক আছে কি না—এসব বিষয়ে মানুষের পরিষ্কার ধারণা থাকা দরকার। ভুল ভোটকেন্দ্রে গিয়ে যাতে কেউ সমস্যায় না পড়েন, সে বিষয়েও সচেতনতা জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ এলাকায় নির্বাচনের নির্ধারিত দিনের কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে চাইছেন ‘নো কিংস’ আন্দোলনের আয়োজকেরা।

ভোটাধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘কমন কজের’ তৃণমূল সংগঠক আলমা কুভার্থি বলেন, ভোট দেওয়াকে মানুষ যেন ক্ষমতা প্রয়োগ, দায়িত্ব পালন ও আনন্দের কাজ হিসেবে দেখেন, সেটিই আমাদের লক্ষ্য।

ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। একই সময়ে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তাও রেকর্ড কমছে। এমন পরিস্থিতিতে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে পারে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টি।

Pin It