রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ইরানের নীরব বিপ্লব

1777548249-95d2eecf0b37ebea12adc51873c0dd07

আধুনিক যুদ্ধের মানচিত্রে নীরবে এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটছে। এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছে ইরান; যে দেশটি সরাসরি অস্ত্র প্রতিযোগিতায় না গিয়েও প্রতিপক্ষের প্রযুক্তিকেই নিজের শক্তিতে রূপান্তর করার কৌশল আয়ত্ত করেছে।

যুদ্ধক্ষেত্রে অবিস্ফোরিত, ভূপাতিত বা পরিত্যক্ত উন্নত অস্ত্র এখন আর কেবল ধ্বংসাবশেষ নয়; সেগুলোই হয়ে উঠছে ভবিষ্যৎ সামরিক প্রযুক্তির নকশা। ‘রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং’ নামে পরিচিত এই কৌশল ধীরে ধীরে ইরানকে একটি ভিন্নধর্মী প্রযুক্তিগত শক্তিতে রূপান্তরিত করছে; যার প্রভাব আঞ্চলিক সীমা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক অস্ত্র প্রতিযোগিতায়ও প্রতিফলিত হতে শুরু করেছে।

মার্কিন অস্ত্র উদ্ধার ও বিশ্লেষণ: সাম্প্রতিক দাবি

ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) তথ্যমতে, সাম্প্রতিক যুদ্ধে ১৫টিরও বেশি ভারী মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। এই অস্ত্রগুলো প্রযুক্তিগত ও গবেষণা ইউনিটে রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের জন্য স্থানান্তর করা হয়েছে।

১৩ হাজার ৬০০ কেজি ওজনের জিবিইউ-৫৭ বাঙ্কার-বাস্টার বোমা এখন ইরানে হাতে। প্রেস টিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু ক্ষেপণাস্ত্র নয়; একটি জিবিইউ-৫৭ বাঙ্কার-বাস্টার বোমাও সফলভাবে নিষ্ক্রিয় করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ জিবিইউ-৫৭ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শক্তিশালী অ-পারমাণবিক বোমা এবং এটি গভীর ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ধ্বংসে ব্যবহৃত হয়।

গত ২৬ এপ্রিল এক বিবৃতিতে আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, জানজান প্রদেশে তিনটি জিবিইউ-৫৭ বাঙ্কার বাস্টার ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও ধ্বংস করা এবং আরও একটি শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম অ-পারমাণবিক বোমা হিসেবে পরিচিত জিবিইউ-৫৭ এমওপি হলো ৩০ হাজার পাউন্ড ওজনের একটি অস্ত্র, যা মাটির গভীরে প্রোথিত সুরক্ষিত স্থাপনা ধ্বংস করার জন্য তৈরি করা।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আইআরজিসি বাহিনী প্রদেশজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোকে দূষিত করার উদ্দেশে শত্রু যুদ্ধবিমান থেকে ফেলা ৯ হাজার ৫০০টিরও বেশি ছোট বোমা শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করেছে।

সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির প্রতিবেদন অনুসারে, আইআরজিসি আরও বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র এবং রকেটও নিষ্ক্রিয় করেছে, যেগুলো এফ-১৫, এফ-১৬ এবং এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান থেকে ছোড়া হয়েছিল। যদিও সেগুলো অকার্যকর ছিল। এছাড়া রকেটগুলোর মধ্যে ৫২টি ধ্বংস করা হয়েছে এবং আরও ১০টি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার জন্য সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র ও কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সাবেক সিআইএ বিশ্লেষকদের উদ্ধৃতি দিয়ে ব্রিটিশ ওয়েবসাইট ‘আই-পেপার’ জানিয়েছে: এমন উদ্বেগ রয়েছে, ইরান যুদ্ধক্ষেত্রে অবিস্ফোরিত উন্নত মার্কিন ও ইসরায়েলি অস্ত্র উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয় সফল হয়েছে; যা পশ্চিমা বিশ্বে নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে।

জিবিইউ-৩৯ ঘটনা: কেন এত উদ্বেগ ?

আইআরজিসির বিবৃতিতে জিবিইউ-৩৯ টাইপ দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্তের কথা জানানো হয়েছে, যেগুলো এর আগে প্রাদেশিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত ও ভূপাতিত করা হয়েছিল। সম্প্রতি ইয়াজদে মাটির প্রায় ১৩ মিটার গভীরে একটি জিবিইউ-৩৯ বোমা নিষ্ক্রিয় করার ছবিও প্রকাশিত হয়েছে; যা ইঙ্গিত দেয়, ইরান শুধু অস্ত্র উদ্ধারই নয় জটিল পরিস্থিতিতে সেগুলো নিষ্ক্রিয় করার সক্ষমতাও অর্জন করেছে।

এর আগে ২০২৪ সালের লেবানন যুদ্ধ চলাকালেও এমন দাবি শোনা গিয়েছিল, হিজবুল্লাহ অন্তত একটি অবিস্ফোরিত মার্কিন বাঙ্কার-বাস্টার বোমা ইরানের হাতে তুলে দেয় যা ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে ব্যবহার করেছিল।

পরবর্তীতে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ধরনের ‘গণিমত’ অস্ত্রের সংখ্যা আরও বেড়েছে। এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক সামরিক মহলে বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করে। যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত লেবাননের কাছে অস্ত্রটি ফেরত চায়। ওয়াশিংটনের এই তড়িৎ প্রতিক্রিয়া একটিই ইঙ্গিত দেয়, এই অস্ত্রের প্রযুক্তি বিশ্লেষণ হলে মার্কিন সামরিক গোপন তথ্য ফাঁস হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

পশ্চিমা সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়; বরং ইরানের দীর্ঘদিনের ‘ক্যাপচার-অ্যান্ড-রিভার্স-ইঞ্জিনিয়ার’ সক্ষমতার ধারাবাহিকতার অংশ। ধরা পড়া প্রতিটি উন্নত অস্ত্র এখন শুধু যুদ্ধের অবশিষ্ট নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি উন্নয়নের সম্ভাব্য কাঁচামাল।

২০১১: আরকিউ-১৭০; এক মোড় ঘোরানো মুহূর্ত

ইরানের রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং কর্মসূচির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘোরানো ঘটনা ঘটে ২০১১ সালে। সে সময় মার্কিন অত্যন্ত গোপন স্টেলথ ড্রোন আরকিউ-১৭০ প্রায় অক্ষত অবস্থায় ইরানের চাহারমাহাল ও বখতিয়ারি অঞ্চলে নামিয়ে আনা হয়।

ইরানি সূত্রে দাবি করা হয়, দেশটির সাইবার প্রতিরক্ষা ইউনিট ড্রোনটির জিপিএস নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা হ্যাক করে সেটিকে নিরাপদে অবতরণ করায়। যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে তৎকালীন প্রশাসন ড্রোন ফেরতের অনুরোধ জানায়, যা ইরান প্রত্যাখ্যান করে।

এই ঘটনাই ইরানের জন্য একটি কাঠামোগত রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং কর্মসূচির সূচনা করে। প্রথমে ১৫ শতাংশ স্কেল মডেল তৈরি করা হয়, পরে ৪০ শতাংশ প্রোটোটাইপ এবং ধাপে ধাপে পূর্ণাঙ্গ ড্রোন উন্নয়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়।

শাহেদ-১৬১: প্রযুক্তিগত রূপান্তরের প্রতীক

এক দশকের গবেষণার পর ইরান উন্মোচন করে শাহেদ-১৬১, একটি স্টেলথ জেটচালিত ড্রোন। এটি শুধু একটি ড্রোন নয়, বরং ইরানের প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে রয়েছে— ২০০ কিমি অপারেশনাল রেডিয়াস, ৭৬০০–৮০০০ মিটার উচ্চতা সক্ষমতা, ২৭৫ কিমি/ঘণ্টা গতি, ৫০ কেজি ওজনের দুটি স্মার্ট বোমা বহন এবং রানওয়ে ছাড়াই ক্যাটাপাল্ট লঞ্চ। এছাড়া, এর মাইক্রো-জেট ইঞ্জিন এটিকে উচ্চ কর্মক্ষমতা ও দীর্ঘ সময় আকাশে অবস্থানের সক্ষমতা দিয়েছে।

শাহেদ পরিবার: একটি পূর্ণাঙ্গ ড্রোন ইকোসিস্টেম

আরকিউ-১৭০’র বিশ্লেষণ ইরানকে একটি পূর্ণাঙ্গ চালকবিহীন বিমান (ড্রোন) ইকোসিস্টেম তৈরির সুযোগ দেয়, যা বর্তমানে শাহেদ পরিবার নামে পরিচিত।

শাহেদ-১৪১

পিস্টন ইঞ্জিনভিত্তিক সংস্করণ, প্রশিক্ষণ ও নজরদারিতে ব্যবহৃত।

শাহেদ-১৯১

এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে রয়েছে— ১৫০০ কিমি রেঞ্জ, ৫০০ কেজি টেক-অফ ওজন, ১০০ কেজি অভ্যন্তরীণ অস্ত্র বহন এবং স্টেলথ নকশা বজায় রেখে আক্রমণ ক্ষমতা

শাহেদ-১৮১

পিস্টন সংস্করণ, সিরিয়া যুদ্ধে ঝাঁক আক্রমণে ব্যবহৃত।

শাহেদ-১৭১ (সিমোর্গ)

এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে রয়েছে— আরকিউ-১৭০-এর পূর্ণাঙ্গ প্রতিরূপ, ৪৪০০ কিমি রেঞ্জ, ১০ ঘণ্টা ফ্লাইট সময়, ৩৭০০ কেজি ওজন এবং উন্নত স্টেলথ কাঠামো। এই ড্রোন ইরানের কৌশলগত গভীর অনুপ্রবেশ সক্ষমতার প্রতীক।

আরকিউ-১৭০’র পূর্ণাঙ্গ প্রতিরূপ হচ্ছে শাহেদ-১৭১ (সিমোর্গ)

অন্যান্য অস্ত্র থেকে প্রযুক্তি অভিযোজন

ইরানের রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং কেবল একটি প্ল্যাটফর্মে সীমাবদ্ধ নয়; এটি এখন বহুমাত্রিক সামরিক প্রযুক্তিতে বিস্তৃত। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরান টমাহক ক্রুজ মিসাইল, এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন, জাসম স্টেলথ মিসাইল এবং জিবিইউ-৫৭ বাঙ্কার-বাস্টার বোমার প্রযুক্তি বিশ্লেষণের চেষ্টা করছে।

এছাড়া, এমকিউ-৯ রিপার ও এমকিউ-১ প্রিডেটর থেকে অনুপ্রাণিত বিভিন্ন শাহেদ মডেল, স্ক্যান ঈগল থেকে তৈরি ইয়াসির ড্রোন, সুইচব্লেড-৩০০ থেকে অনুপ্রাণিত কামিকাজে ড্রোন, সমুদ্র থেকে উদ্ধারকৃত মার্কিন ইউইউভি বিশ্লেষণ করে আন্ডারওয়াটার প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্র থেকে প্রাপ্ত প্রযুক্তির ভিত্তিতে নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়ন এই ধারাবাহিকতা ইঙ্গিত দেয়, ইরান এখন একটি বহুমাত্রিক প্রযুক্তি পুনর্গঠন ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে।

সমুদ্র থেকে আকাশ: বিস্তৃত কৌশল

ইরানের রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং এখন আকাশ থেকে সমুদ্র পর্যন্ত বিস্তৃত। আন্ডারওয়াটার ড্রোন, কামিকাজে ড্রোন এবং স্টেলথ ইউসিএভি; সব ক্ষেত্রেই তারা ধরা পড়া প্রযুক্তিকে পুনর্গঠন করছে। এই বহুমাত্রিক সক্ষমতা ইরানকে একটি ‘অসমমিতিক যুদ্ধ শক্তি’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে, যা প্রচলিত যুদ্ধনীতির বাইরে গিয়ে নতুন কৌশল তৈরি করছে।

পশ্চিমা বিশ্বে উদ্বেগ

পশ্চিমা বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই সক্ষমতা একটি নতুন কৌশলগত বাস্তবতা তৈরি করেছে। এখন কোনো উন্নত অস্ত্র যুদ্ধক্ষেত্রে হারানো মানে শুধু সামরিক ক্ষতি নয়, বরং তা ভবিষ্যতে শত্রুর জন্য নতুন অস্ত্র প্রযুক্তির উৎস হয়ে উঠতে পারে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ২০২৩ সালে সতর্ক করেছিলেন, পশ্চিমা অস্ত্র রাশিয়ার হাতে পড়লে তা ইরানের কাছে পৌঁছাতে পারে এবং রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে নতুন হুমকিতে পরিণত হতে পারে।

কিছু প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে দখল করা জ্যাভেলিন ও স্টিঙ্গারসহ কিছু অস্ত্র রাশিয়ার মাধ্যমে ইরানের কাছে পৌঁছেছে। এই প্রেক্ষাপটে পশ্চিমা উদ্বেগ আরও স্পষ্ট: আজকের যুদ্ধক্ষেত্রে হারানো অস্ত্র, আগামীকালের প্রতিপক্ষের অস্ত্র হয়ে ফিরে আসতে পারে।

প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতার রাষ্ট্রীয় কৌশল

নিষেধাজ্ঞা, অস্ত্র অবরোধ এবং প্রযুক্তি সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ইরান একটি সমন্বিত গবেষণা কাঠামো তৈরি করেছে। সামরিক প্রকৌশলী, বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রতিরক্ষা শিল্প একসঙ্গে কাজ করে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রযুক্তি উৎপাদন চেইন গড়ে তুলেছে। এই কাঠামোর লক্ষ্য শুধুমাত্র অনুকরণ নয়, বরং উন্নয়ন এবং অভিযোজন। ফলে প্রতিটি বিদেশি প্রযুক্তি ইরানে পৌঁছে নতুন রূপে রূপান্তরিত হচ্ছে।

যুদ্ধ প্রযুক্তির নতুন বাস্তবতা

আরকিউ-১৭০ থেকে শুরু হয়ে জিবিইউ-৩৯ এবং জিবিইউ-৫৭ পর্যন্ত বিভিন্ন অস্ত্রের ঘটনা ইরানকে এমন একটি অবস্থানে নিয়ে এসেছে, যেখানে ধরা পড়া প্রতিটি প্রযুক্তি ভবিষ্যতের নতুন অস্ত্রের ভিত্তি হয়ে উঠছে। বিশেষ করে বাঙ্কার-বাস্টার বোমার মতো জটিল অস্ত্র যদি সফলভাবে বিশ্লেষণ করা যায়, তাহলে তা শুধু প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতা নয়, আক্রমণাত্মক সামরিক কৌশলেও বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

পশ্চিমা বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতা আধুনিক যুদ্ধের সংজ্ঞাই বদলে দিচ্ছে। যেখানে হারানো অস্ত্র ভবিষ্যতে আবার ফিরে এসে নতুন রূপে আঘাত হানতে পারে। সব মিলিয়ে, ইরানের রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং কর্মসূচি এখন একটি আঞ্চলিক প্রকল্প নয়, বরং বৈশ্বিক সামরিক প্রযুক্তি প্রতিযোগিতার অন্যতম কেন্দ্রীয় বাস্তবতা হয়ে উঠেছে।

Pin It