শহরের প্রবেশ পথে চত্বরের বেশ কিছুটা জায়গা নিয়েই একটি বেদীতে সেই ভাস্কর্য নির্মাণ করা হচ্ছিল।
ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় ২০২৪ সালের সরকার পতনের পর হামলার শিকার বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের অসমাপ্ত ভাস্কর্যটি আবার ভাঙা হচ্ছে।
তবে কারা বা কোন কর্তৃপক্ষ সেটি ভাঙছে, সে বিষয়ে কেউ কথা বলছেন না। পৌরসভাও এর দায়িত্ব নিচ্ছে না।
মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী ঝিনাইদহের সন্তান হামিদুর রহমানের স্মরণে শহরের প্রবেশ পথে একটি বেদীতে এই ভাস্কর্য নির্মাণের কাজ শুরু হলেও তা আর শেষ হয়নি।
২০১২ সালে ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুল করিম মিন্টু পৌরসভার মেয়র থাকাকালে মাগুরা সড়কের চার রাস্তা মোড়ে ‘বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর’ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ৩২ লাখ টাকা।
তবে কাজ শুরু হয় অনেক দিন পর। ২০১৬ সালে কিছু কাজ করার পর সেটি অসমাপ্ত থাকে। ভাস্কর্যটি আর উদ্বোধন হয়নি। সেভাবেই পড়ে ছিল।
শুক্রবার দুপুরে দেখা যায়, কয়েকজন শ্রমিক চত্বরের বেদীর অংশ ভাঙছেন। সেই ভাঙা টুকরো একটি পিকআপ ভ্যানে রাখা হচ্ছে। তবে বেদীর উপরের অংশটি এখনও অক্ষত রয়েছে।
জানতে চাইলে ঝিনাইদহ পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক রথীন্দ্র নাথ রায় বলেন, ২০২৪ সালে সরকার পতনের পর ‘কিছু জনতা’ এ ভাস্কর্য ভাঙচুর করে।
কিন্তু এখন কারা এটি ভেঙে নিচ্ছে, সেটি ‘জানা নেই’ এবং এ প্রকল্প সংক্রান্ত কোনো ফাইলও দেখেননি বলে তার ভাষ্য।
ঝিনাইদহ পৌরসভার একজন কর্মকর্তা শুক্রবার রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তখন প্রকল্পটিতে ১১ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়েছিল। তারপরেই সেটি বন্ধ হয়ে যায়।”
তবে কী কারণে সেটি বন্ধ হয়েছিল এবং এখন কারা এটি ভাঙছে এ নিয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করেন পৌরসভার ওই কর্মকর্তা।
যে সময় ‘বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর’ নির্মাণের প্রকল্প চলছিল, তখন পৌরসভার কাউন্সিলর ছিলেন মো. মহিউদ্দিন। শুক্রবার বিকালে এ ব্যাপারে কথা বলতে চাইলে অসুস্থতার কথা বলে তিনি এড়িয়ে যান।
ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন বলেন, কারা এটি ভাঙছে তা তিনি জানেন না।
তবে তিনি বলেন, “জেলায় দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন কমিটির সভায় সদস্যদের মাঝ থেকে ভাঙাচোরা ভাস্কর্যের পরিত্যক্ত অংশ অপসারণ করার দাবি ওঠে। একটি ভালো জায়গা দেখে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।”
মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ঝিনাইদহ জেলার সাবেক কমান্ডার কামালুজ্জামান বলেন, তারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। এ ব্যাপারে মুক্তিযোদ্ধারা বৈঠক করবেন। তারপর সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান ১৯৫৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার খর্দ্দ খালিশপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি প্রথম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সিপাহী ছিলেন।
১৯৭১ সালের ২৮ অক্টোবর মৌলভীবাজারের ধলাই সীমান্তঘাঁটি দখলের লড়াইয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে তিনি শহীদ হন।
মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের স্বীকৃতিতে তাকে দেশের সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।





