নিয়োগ পেতে ‘মিথ্যা তথ্য’, পুতুলের বিরুদ্ধে চার্জশিট

Screenshot 2026-10-19 062947

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগ পেতে জীবনবৃত্তান্তে (সিভি) ‘মিথ্যা তথ্য’ দেওয়ার অভিযোগে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রোববার (১৮ অক্টোবর) দুদকের সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংস্থাটির সচিব মো. সাইদুর রহমান খান।

দুদক সচিব সাইদুর রহমান বলেন, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য প্রদান করে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং রাষ্ট্রীয় সুনাম ক্ষুণ্ন করার মাধ্যমে ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগ লাভ করেন। তার এ ধরনের কর্মকাণ্ড দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

জানা গেছে, ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগের জন্য জমা দেওয়া সিভিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে (বর্তমান বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) ‘অনারারি স্পেশালিস্ট/এক্সপার্ট’ হিসেবে কাজ করার তথ্য দেন পুতুল। তদন্তে ওই তথ্যকে ‘মিথ্যা’ ও ‘বানোয়াট’ বলে উল্লেখ করেছে দুদক।

দুদকের অভিযোগ, সিভিতে ওই অভিজ্ঞতার তথ্য ব্যবহার করে পুতুল আন্তর্জাতিক সংস্থাটির গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ পাওয়ার সুযোগ তৈরি করেন। ন্যাশনাল অ্যাডভাইজরি কমিটি অন অটিজম অ্যান্ড নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার এবং সূচনা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি এ কার্যক্রম চালান বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় সিভিতে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র তৈরি ও যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ‘প্রভাব খাটানো’ হয়। এক্ষেত্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নথি খোলা এবং তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ না দিয়েই চাপ প্রয়োগের অভিযোগ আনা হয়েছে। পরে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন, জাতিসংঘের কার্যালয় ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ডব্লিউএইচওর সদর দপ্তরে সংশ্লিষ্ট তথ্য পাঠানো হয়। এসব তথ্যের ভিত্তিতেই পুতুল ওই পদে নিয়োগ পান বলে দাবি দুদকের।

দুদকের তদন্তে আরও বলা হয়, সিভিতে মিথ্যা তথ্য দেওয়া এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে পুতুল রাষ্ট্রের সুনাম ক্ষুণ্ন করেছেন। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে কমিশন।

২০২৫ সালের ২০ মার্চ দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ মামলাটি করা হয়। তদন্ত শেষে এখন মামলাটিতে অভিযোগপত্র দাখিলের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

Pin It