জামায়াত মন্দ কাজগুলো করে মাজারের ওপর দোষ চাপাচ্ছে: ফরহাদ মজহার

Untitled-15-6a09f6318e39a

অনৈতিক কাজের অভিযোগ তুলে রাজধানীর শাহ আলী মাজারে হামলা হয়েছে। এ হামলায় জামায়াতে ইসলামীর জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। সেই প্রসঙ্গ টেনে কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার বলেছেন, এখন তো প্রমাণিত হচ্ছে, মন্দ কাজগুলো আপনারাই করে মাজারের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন।

রোববার দুপুরে মিরপুরের শাহ আলী মাজার প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

শাহ আলী মাজারে ভক্ত ও আশেকানদের ওপর হামলার প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে সাধুগুরুভক্ত ও অলি-আউলিয়া আশেকান পরিষদ এবং ভাববৈঠকী। এর আগে মাজারে হামলার ঘটনায় আরও একজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হলো।

ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মোস্তাক সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি যুগান্তরকে জানান, গ্রেফতার ব্যক্তিদের হামলায় সরাসরি অংশ নিতে দেখা গেছে।

বিক্ষোভ সমাবেশে ফরহাদ মজহার বলেন, অভিযোগ উঠেছে, এই হামলার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী জড়িত। আমি দুঃখ পেয়েছি শুনে। আমি পত্রিকায় দেখেছি। আমি শফিক ভাইকে (জামায়াত আমির) এর আগেও বলেছি, নির্বাচনের আগে আপনি কীসের ভিত্তিতে বলেছিলেন যে ইসলামে নারী নেতৃত্ব হারাম? আপনাকে তো আমি বাহাসে ডেকেছিলাম, কোনো টেলিভিশন শোতে। আপনি তো আসেননি। আপনারা বলছেন গান হারাম। বাহাসে ডেকেছি, আসেননি। কোথায় গান হারাম? কোন আয়াত নিয়ে বলছেন গান হারাম? কোন ধরনের গান হারাম? তর্ক আছে।

জামায়াতের উদ্দেশে ফরহাদ মজহার বলেন, এর আগেও বলেছি, মাজারে যেসব খারাপ কাজ বলে আমরা মনে করি-অনৈতিক কাজ এগুলো বন্ধ হওয়া দরকার। কিন্তু এখন তো প্রমাণিত হচ্ছে-মন্দ কাজগুলো আপনারাই করে মাজারের ওপর দোষ দিচ্ছেন।

সমাবেশে অংশ নিয়ে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, মাজারে হামলাকে শুধু মাজারে হামলা হিসাবে দেখা যাবে না। এটাকে ভিন্নমতের ওপর হামলা হিসাবে দেখতে হবে।

জামায়াতের বিরুদ্ধে অভিযোগ ভিত্তিহীন: জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, মিরপুরের শাহ আলী মাজারে ঘটে যাওয়া অপ্রত্যাশিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উত্থাপন করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ অপ্রমাণিত, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

রোববার এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।

বিবৃতিতে জুবায়ের আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি দায়িত্বশীল, গণতান্ত্রিক ও আদর্শিক রাজনৈতিক সংগঠন। দলটি কখনো মাজার, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান কিংবা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ধর্মীয় অধিকার ও স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে না এবং হামলা-সহিংসতার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না।

তিনি বলেন, সম্প্রতি কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার জামায়াতে ইসলামীকে জড়িয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত। সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দলকে দায়ী করে বক্তব্য একজন সচেতন বুদ্ধিজীবী ও চিন্তকের কাছ থেকে জাতি প্রত্যাশা করে না।

জুবায়ের শাহ আলী মাজারে সংঘটিত ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত এবং বিচারের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

শাহ আলী মাজারে হামলার ঘটনায় গ্রেফতার ৩

 রাজধানীর মিরপুরের ঐতিহ্যবাহী শাহ আলী মাজারে জিয়ারতকারী ও ভক্তদের ওপর হামলার ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৬ মে) রাতে মিরপুরের কয়েকটি স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ।

রোববার (১৭ মে) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোঃ মোস্তাক সরকার।

তিনি জানান, সিসিটিভি ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এই তিনজনকে হামলায় সরাসরি অংশ নিতে দেখা গেছে এবং মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

জানা গেছে, হামলায় গুরুতর আহত রেশমি বেগম নামে এক নারী শনিবার রাতে রাজধানীর শাহ আলী থানায় বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

মামলার আসামিরা হলেন- মো: আলী আকবর, মো: বাপ্পা, মো: বাবু, মো: কাউসার, মো: আজম, শেখ মো: সাজ্জাদুল হক রাসেল, কাজী জহির, মো: মিজান এবং কাজী পনির। মামলায় অজ্ঞাত ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে রেশমি বেগম উল্লেখ করেন, তিনি দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে শাহ আলী মাজার জিয়ারত ও ওরসের সময় ভক্তদের স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে সহযোগিতা করে আসছেন। বৃহস্পতিবার (১৫ মে) দিবাগত রাত ১২টার দিকে যখন মাজার প্রাঙ্গণে হাজার হাজার মানুষের সমাগম ছিল, ঠিক তখন জামায়াতে ইসলামী ও এর সহযোগী সংগঠনের ১০০ থেকে ১৫০ জন নেতাকর্মী লাঠিসোঁটাসহ মাজারের প্রধান গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে আকস্মিক তাণ্ডব শুরু করে।হামলাকারীরা মাজারের শিরনির ডেগের ঐতিহ্যবাহী লাল কাপড় ছিঁড়ে ফেলে এবং মোমবাতি জ্বালানোর প্লেটসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষঙ্গ ভাঙচুর করে। এতে ভিকটিম বাধা দিতে গেলে তাকেও নির্মমভাবে মারধর করা হয় এবং পরনের কাপড় ছিঁড়ে তার শ্লীলতাহানি করা হয়। এই হামলায় মাজারের প্রায় ৩০ হাজার টাকার জিনিসপত্র ভাঙচুর করা হয়েছে এবং হামলাকারীরা জিয়ারত করতে আসা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রায় ৯০ হাজার টাকা ছিনতাই করে নিয়ে গেছে বলে বাদী এজাহারে দাবি করেছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, বাকি আসামিদের আইনের আওতায় আনতে তাদের চিরুনি অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে শাহ আলী মাজারে বাউল-ফকিরদের ওপর হামলা, নির্যাতন এবং মাজার প্রাঙ্গণ থেকে তাদের জোরপূর্বক তাড়িয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (১৭ মে) সকাল ১১ টার দিকে মাজার প্রাঙ্গনে সাধু-গুরুভক্ত ও ওলি আউলিয়া আশেকান পরিষদ ও ভাববৈঠকী এই বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে।

প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, ৩ দিনব্যাপী মহা সমারোহে বাৎসরিক ওরস মোবারক উদযাপিত হওয়ার পূর্বে এমন অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করা ন্যক্কারজনক ঘটনা। ৫ই আগস্টের পর রাজবাড়ি ও কুষ্টিয়ায় মাজারের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে কিন্তু অন্তবর্তীকালীন সরকার ও বর্তমান সরকার নিরব ভূমিকা পালন করছে।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কবি ফরহাদ মজহার বলেন, ভারতের শুভেন্দু অধিকারী নীতিতে বাংলাদেশ পরিচালিত হবে না। তাদের উস্কানিতে তৌহিদি জনতার ব্যানারে মাজার ভাঙচুর করলে বাংলাদেশের যে দলের হোক না কেন তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। মাজার কমিটিতে সুফি, সাধক, সন্ন্যাসী না থাকলে সেই কমিটির কাউকে মাজারে প্রবেশ করতে দেওয়াা হবে না।

এর আগে শনিবার (১৬ মে) এনসিপির যুগ্ম আহবায়ক সারোয়ার তুষারের নেতৃত্বে এনসিপির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল মাজার প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করে এবং হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ও আহত ভক্তদের সঙ্গে কথা বলে সংহতি প্রকাশ করে। প্রতিনিধি দলে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ফরিদুল হক, প্রীতম দাশ, হুমায়রা নূরসহ অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতৃরা উপস্থিত ছিলেন।

Pin It