বাণিজ্য মেলায় ‘শেষ শুক্রবারে’ বেচা-কেনার ধুম

ditf-240120-05 (1)

মাসব্যাপী ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার শেষ শুক্রবারে ছুটির দিনে ব্যাপক বেচা-কেনা হয়েছে।

বিক্রেতা ও স্টল মালিকরা বলছেন, এ বছর বাণিজ্য মেলায় অন্যান্য শুক্রবারের তুলনায় এদিন দর্শনার্থীদের কেনাকাটার প্রবণতা ছিল তুলনামূলক বেশি।

তবে এর মধ্যেও বিক্রি নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারেননি অনেক স্টল মালিক। বরাবরের মতোই মেলার সময় বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

এবারের ২৫তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা শুরুর পর কয়েক দিন বৃষ্টির কবলে পড়তে হয়েছিল স্টল মালিকদের। সরকারি কয়েকটি কর্মসূচির জন্য একটি পূর্ণদিবস এবং দুটি অর্ধদিবস বন্ধ রাখতে হয়েছিল মেলা। এছাড়া স্টলে আগুন লাগার ঘটনায়ও বন্ধ রাখতে হয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে মেলা প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, ভেতরের অলিগলি এবং বাইরের সড়কগুলোতে দর্শনার্থীদের ভিড়। সবার হাতেই শোভা পাচ্ছে প্লাস্টিক পণ্য, শুকনো খাবার, পোশাক, গৃহস্থালি পণ্যসহ হরেক রকম আসবাব।

মেলার ভেতরে অধিকাংশ দর্শনার্থীকে দেখা গেছে কেনাকাটায় ব্যস্ত থাকতে।

মেয়েদের বিভিন্ন পোশাকপণ্যের স্টল ছোঁয়া কালেকশনের বিক্রয় প্রতিনিধি ইসরাফিল জানান, মেলা চালাকালে প্রতি শুক্র ও শনিবারই বেচাবিক্রি ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বাড়ে।

“তবে আজকে অন্যান্য শুক্রবারের চেয়ে বেচাবিক্রি আরও বেড়েছে। আশা করি, দিন শেষে ভালো একটা বেচাকেনা হবে,” বলেন তিনি।

ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন ও অন্যান্য কারণে এবার বেশ কয়েক দিন মেলা বন্ধ রাখতে হয়েছিল উল্লেখ করে সময় কিছুটা বাড়ানোর দাবি জানান এই স্টলকর্মী।

তবে বেচাবিক্রি নিয়ে এখনও সন্তুষ্ট নন মণিপুরী তাতশিল্প স্টলের বিক্রেতা মোস্তাক হোসেন। খারাপ আবহাওয়া ও কয়েক দিন মেলা বন্ধ থাকাকে এর জন্য দায়ী করেন তিনি।

“মাঝখানে দুই দিন দুপুরের পর মেলা শুরু হয়। ওই দুই দিন দর্শনার্থী তেমন আসেনি। আবার একটা দিন পুরোটাই বন্ধ ছিল। এসব বন্ধ তো বেচাবিক্রির ক্ষতি করেছেই। এখন কর্তৃপক্ষ যদি কয়েক দিন সময় বাড়ায় তাহলে হয়ত শেষ দিকে ভালো একটা বেচাকেনা হবে,” বলেন তিনি।

৩০ জানুয়ারি ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তারিখ ধরে শৃঙ্খলার স্বার্থে ২৯ ও ৩০ জানুয়ারি মেলা বন্ধ রাখার প্রস্তাব দিয়েছিল আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে নির্বাচন দুই দিন পিছিয়ে এখন ১ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে।

সেই হিসাবে ৩১ জানুয়ারি শুক্রবারও মেলা বন্ধ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের একজন কর্মকর্তা।

মিরপুরের শেওড়াপাড়া থেকে আসা কে এম নাসির উদ্দিনের কাছে জানতে চাওয়া হয়- মেলা থেকে কী কেনাকাটা করেছেন।

জবাবে তিনি  বলেন, এক কথায় বলতে গেলে অনেক কিছু। বাণিজ্য মেলায় পছন্দের সব কিছু একসাথে পাওয়া যায়। তাই প্রতিবছরই মেলায় আসা হয়।

“যা কিছু কেনাকাটা করি তার বাইরে অনেক কিছু দেখারও থাকে। বাজারে নতুন কোনো পণ্য আসলে তা তো আগে মেলায় হাজির হয়। সব মিলিয়ে মেলার অভিজ্ঞতা চমৎকার,” বলেন নাসির।

মিরপুর-১ নম্বর থেকে আসা নওরীন ইসলামের হাতে দেখা গেল সাজসজ্জার বিভিন্ন সামগ্রী। পাশাপাশি শপিং ব্যাগে রয়েছে কামিজ, শার্টসহ আরও কিছু পোশাক। কিনেছেন শ্রীমঙ্গলের চা পাতাও।

কর্মজীবী এই নারী বলেন, শুক্রবার সকাল সকাল তিনি মেলায় প্রবেশ করেছেন। দুপুরের দিকে ভিড় বেড়ে যাওয়ায় এখন বাড়ির পথ ধরেছেন।

“বাণিজ্য মেলায় আহামরি কিছু নেই। তবে বাসার কাছে এত বড় আয়োজনে না এসে পারি না। যেসব কেনাকাটা করেছি তা যে খুব প্রয়োজনীয় তা কিন্তু নয়। সব মিলিয়ে মেলার অভিজ্ঞতা চমৎকার,” বলেন নওরীন।

যাত্রাবাড়ী থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মেলায় এসেছেন সেখানকার বাসিন্দা শাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেন, “প্রতিবছরই বাণিজ্য মেলায় আসি। এবার আসব আসব করে আসা হয়নি। তাই ছুটির দিনে ছেলে ও ছেলের মাকে নিয়ে চলে আসলাম। তাদের পছন্দের কিছু কেনাকাটা করব।”

মেলায় গাড়ি পার্কিং নিয়ে অসন্তোষের কথা জানালেন শিল্প মন্ত্রণালয়ে কর্মরত মোহাম্মদ আকাশ।

তিনি বলেন, এবারের মেলায় গাড়ি পার্ক করার এলাকা বাড়ানো হলেও তা কিন্তু পর্যাপ্ত নয়। ভবিষ্যতে পূর্বাচলে যদি মেলা স্থানান্তর করা হয় সেখানে যাতে পর্যাপ্ত পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকে সেই দাবি থাকবে।

Pin It