বিপ্লবের ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়েছিল: পুলিশ হেডকোয়ার্টার

police_headquarter-5dac82d45c02d

ভোলার বোরহানউদ্দিনে সংঘর্ষে পুলিশসহ সাধারণ মানুষের হতাহতের ঘটনায় পুলিশ সমবেদনা ও দুঃখ প্রকাশ করেছে। রোববার সন্ধ্যায় ঢাকায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ওই ঘটনা সংক্রান্ত যে কোনো বিভ্রান্তি এড়াতে এবং প্রকৃত ঘটনা জনসমক্ষে তুলে ধরতে পুলিশ সচেষ্ট রয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ১৮ অক্টোবর নিজের ফেসবুক আইডি হ্যাক হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বিপ্লব চন্দ্র বৈদ্য (শুভ) নামে এক যুবক সেদিন রাত ৮টায় বোরহানউদ্দিন থানায় জিডি করেন। জিডি করার সময় থানায় অবস্থানকালেই বিপ্লবের মোবাইল ফোনে একটি কল আসে এবং তার কাছে চাঁদা দাবি করা হয়। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে বিপ্লব ওসিকে জানান। ওসি বিষয়টি ভোলার পুলিশ সুপারকে জানান। প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে সেদিন রাতেই বিপ্লব চন্দ্র বৈদ্যের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাককারী ও তার মোবাইলে কলকারী শরীফ এবং ইমন নামে দুই যুবককে পটুয়াখালী ও বোরহানউদ্দিন থেকে আটক করে পুলিশ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বোরহানউদ্দিন থানায় আনা হয়।

ইতোমধ্যে শুভর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে কথিত কমেন্টের জেরে এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসলমান উত্তেজিত হতে থাকেন। ফেসবুকে ধর্মীয় মন্তব্যের অভিযোগে ওই যুবকের ফাঁসি দাবি করেন স্থানীয় আলেম সমাজ। পরদিন সকাল ১১টায় ঈদগাহ মাঠে তারা প্রতিবাদ সভার ঘোষণা দেন। জেলা প্রশাসক, ইউএনও, থানার ওসি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ আলেম সমাজের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে সেদিন সন্ধ্যায় বোরহানউদ্দিন থানায় দীর্ঘ সময় বিষয়টি আলোচনা হয়। আলেম সমাজের অভিযোগের ভিত্তিতে বিপ্লবকে আটক দেখানো হয়। এ বিষয়ে উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নিশ্চয়তা পেয়ে আলেম সমাজ তাদের পূর্বঘোষিত প্রতিবাদ কর্মসূচি বাতিল ঘোষণা করেন।

সমাবেশ বাতিলের ঘোষণা সত্ত্বেও পুলিশ সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকে। পরদিন সকাল থেকেই কিছু লোক ঈদগাহ মাঠে সমবেত হতে থাকে। মাঠের বিভিন্ন পয়েন্টে বসানোর জন্য ১৭টি মাইক আনে একটি মহল। যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সমবেত লোকজনকে সরিয়ে নিতে বললে উপস্থিত আলেমরা নিশ্চিত করেন, লোকজন কোনো রকম বিশৃঙ্খলা করবে না। ইতিমধ্যে এই পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় এবং যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে স্থানীয় পুলিশকে সহায়তা দিতে সকালেই বরিশাল থেকে রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি ভোলায় আসেন। তাকে ও ইউএনওকে নিয়ে পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা করে প্রয়োজনীয় সব আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে তিনি তাদের বার বার আশ্বস্ত করেন। তাদের কথায় আস্থা রেখে সমবেত লোকজন ঈদগাহ মাঠ ত্যাগ করেন। উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে বক্তব্য শেষে পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত ডিআইজিসহ অন্য কর্মকর্তারা মাদ্রাসার একটি কক্ষে অবস্থান নেন। এরই মধ্যে অন্য একটি গ্রুপ ঈদগাহ মাঠে প্রবেশ করে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষকে উত্তেজিত করতে থাকে। তারপর হঠাৎ একদল লোক বিনা উস্কানিতে মাদ্রাসার অফিস কক্ষে অবস্থানরত কর্মকর্তাদের ওপর আক্রমণ চালায়। তাদের এক দল আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পুলিশ ও অন্যান্য কর্মকর্তার ওপর আক্রমণ চালায়। আক্রমণকারীদের গুলিতে পুলিশের একজন সদস্য গুরুতর জখম হন। আহত হন পুলিশের আরেক সদস্য। বরিশাল রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজিও আহত হন। এমন পরিস্থিতিতে ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে আত্মরক্ষার্থে পুলিশ প্রথমে টিয়ার শেল নিক্ষেপ ও পরে শটগানের গুলি চালায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, গুজব ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট না করতে এবং কোনো অবস্থাতেই ধর্মীয় উপাসনালয়ে আক্রমণ না করতে সাধারণ জনগণকে অনুরোধ জানাচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ। পাশাপাশি, গুজবে কান না দিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পুলিশকে সহায়তা করার জন্য সবার প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

Pin It