প্রশাসক ও ভিসি পদে দলীয় নিয়োগ জুলাই স্পিরিটের পরিপন্থি: জামায়াত

AB-Party-Ifter-69b9717662fab===

সরকার দলীয় লোকদের ১১টি সিটি কর্পোরেশন ও ৪২টি জেলা পরিষদে প্রশাসক এবং ৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য (ভিসি) হিসেবে নিয়োগদানের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, এ ধরনের দলীয় নিয়োগ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও জুলাই বিপ্লবের চেতনার পরিপন্থি।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দলটির পক্ষ থেকে এ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম।

এ সময় দলের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জাহিদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সরকার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে উপেক্ষা করেছে, যা সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত। জনগণের প্রত্যাশা ছিল স্থানীয় সরকার নির্বাচন স্বাভাবিক নিয়মে অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু সরকার নির্বাচনের পরিবর্তে গত ২২ ফেব্রুয়ারি ৬টি এবং পরবর্তীতে আরও ৫টিসহ মোট ১১টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে।

এসব নিয়োগে দলীয় বিবেচনার প্রাধান্য লক্ষ করা যাচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী ও দলের সুবিধাবঞ্চিত ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা কোনোভাবেই জনমতের প্রতিফলন নয়। সরকারের এ ধরনের পদক্ষেপ গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার ওপর আঘাত হেনেছে এবং জুলাইয়ের স্পিরিটকে ব্যাহত করেছে। দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামের মূল লক্ষ্যই ছিল জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা। কিন্তু বর্তমান সিদ্ধান্তগুলো সেই চেতনার পরিপন্থি।

গত ১৫ মার্চ ৪২টি জেলা পরিষদে দলীয় বিবেচনায় প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, এর ফলে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে এটি স্থানীয় নির্বাচনে সুবিধা নেওয়ার একটি প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে, যা অগ্রহণযোগ্য। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা সচল রাখতে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচন জরুরি বলে তিনি মত দেন।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উপাচার্য নিয়োগ প্রসঙ্গে মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, দেশের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যোগ্যতার পরিবর্তে দলীয় বিবেচনাকে প্রাধান্য দেওয়ায় জনমনে প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি জাতীয় নির্বাচনে সরকারি দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীকেও ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এসব পদক্ষেপ জুলাই বিপ্লবের ‘কোটা না মেধা’ স্লোগানকে ধারণ করে না।
এ সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান পদে পরিবর্তন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে মেধা ও যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পরিবর্তনের সমালোচনা করে আবদুল হালিম আরও বলেন, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সরকার একজন ব্যবসায়ীকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর করে অতীতের নিয়মকে পদদলিত করেছে।

পরিশেষে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী গণতান্ত্রিক পদ্ধতি ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান তিনি। জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে সরকারকে সব ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণেরও তাগিদ দেয় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

Pin It