পরিসংখ্যানের এক পাতায় আর্জেন্টিনার চেয়ে স্পেনের পাল্লা ভারি !

Screenshot 2026-07-18 030551

গত ১৫ বছরে বিশ্বকাপ, ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ, কোপা আমেরিকা থেকে শুরু করে, বড় আসরগুলোয় ফাইনালের আগে বেশি বিশ্রাম পেয়েছে যারা, শিরোপাও জিতেছে তারা।

বিস্ময়কর শোনাতে পারে, কিন্তু পরিসংখ্যানের একটি পাতায় নিউ ইয়র্কের ফাইনালে আর্জেন্টিনার চেয়ে স্পেনের জয়ের সম্ভাবনা বেশি। এই হিসাবটা মূলত কোন দল, ফাইনালের আগে বেশি বিশ্রাম পেয়েছে, সে অনুযায়ী। শিরোপা লড়াইয়ের আগে স্পেন তিন দিন এবং আর্জেন্টিনা দুই দিন পেয়েছে চূড়ান্ত প্রস্তুতি সেরে নেওয়ার জন্য।

গত ১৫ বছরে, ২০টি ফাইনালের মধ্যে ওই পরিসংখ্যানের ব্যতিক্রমও আছে। তবে, তা স্রেফ তিনটি। দুটি ঘটনা কোপা আমেরিকায়, ২০২১ সালে এক দিন কম বিশ্রাম পেয়েও ব্রাজিলকে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা। এর আগে, ২০১৬ সালে একইভাবে আর্জেন্টিনাকে হারিয়েছিল চিলি। অন‍্যটি ২০১৭ সালের উইমেন’স ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে।

এর বাইরে ২০১১ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত কোপা আমেরিকার বাকি চার আসরে ফাইনালের আগে বিশ্রাম বেশি পাওয়া দলই করেছিল শিরোপা উৎসব- উরুগুয়ে (২০১১), চিলি (২০১৫), ব্রাজিল (২০১৯) ও আর্জেন্টিনা (২০২৪)।

বিশ্বকাপ (ছেলে ও মেয়ে), ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে (ছেলে ও মেয়ে) গত ১৪ ফাইনালের পরিসংখ্যানে, ম‍্যাচের আগে কম বিশ্রাম পাওয়া দলের জেতার নজিরই নেই!

২০১২ ইউরোর সেমি-ফাইনাল স্পেন খেলেছিল আগে। অপর সেমি-ফাইনালে জয়ী ইতালির চেয়ে একদিন বেশি সময় তারা পেয়েছিল ফাইনালের প্রস্তুতি নিতে। শিরোপাও ‘লা রোজা’রা জিতেছিল ৪-০ গোলে। পরের বছর, মেয়েদের ইউরোতেও তিন দিন আগে সেমি-ফাইনাল খেলা জার্মানি হারিয়েছিল ফাইনালের আগে দুই দিন বিশ্রাম পাওয়া নরওয়েকে।

২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরেছিল আর্জেন্টিনা। সেবারও আর্জেন্টিনার চেয়ে একদিন আগে সেমি-ফাইনাল খেলেছিল জার্মানি। পরের বছর মেয়েদের বিশ্বকাপ এই সুবিধা পেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র, তারা হারিয়েছিল একদিন কম বিশ্রাম পাওয়া জাপানকে; ৫-২ গোলে।

২০১৬ সালে ইউরোতেও ঘটেছিল একই ঘটনা। স্বাগতিক ফ্রান্স দুই দিন পেয়েছিল ফাইনালের প্রস্তুতি নিতে, কিন্তু তারা হেরেছিল তিন দিন সময় পাওয়া ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালের কাছে।

পরের বছর মেয়েদের ইউরোতে অবশ্য একটু ব্যতিক্রম হয়েছিল বটে। দিনের পার্থক্য ছিল না। কেননা, সেবার দুই সেমি-ফাইনালের মধ্যে সময়ের ব্যবধান ছিল দুই ঘণ্টার। তবে, এই সময়টুকু কম পাওয়া নেদারল্যান্ডস জিতেছিল ডেনমার্কের বিপক্ষে।

২০১৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্স জিতেছিল ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে। তাদের মধ্যে ফাইনালের চার দিন আগে ফরাসিরা, এবং তিন দিন আগে ক্রোয়াটরা সেমি-ফাইনাল খেলেছিল। পরের বছরে মেয়েদের বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে জেতা যুক্তরাষ্ট্রও একদিন বেশি পেয়েছিল ফাইনালের আগে।

২০২২ ছেলে ও মেয়েদের ইউরোতেও (করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে ২০২১ সালের আসর স্থগিত হয়েছিল) ফাইনালের আগে একদিন সময় বেশি পাওয়া দল ইতালি (ছেলেদের বিভাগে) এবং ইংল্যান্ড (মেয়েদের বিভাগে) চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।

২০২২ বিশ্বকাপেও ফ্রান্সের চেয়ে এক দিন আগে সেমি-ফাইনাল খেলেছিল আর্জেন্টিনা। লুসাইল স্টেডিয়ামে জমজমাট লড়াইয়ের পর টাইব্রেকারে জিতেছিলেন মেসিরা। পরের বছর মেয়েদের বিশ্বকাপেও বাড়তি বিশ্রাম পাওয়া স্পেনই জিতেছিল।

একইভাবে, ২০২৪ ইউরো, ২০২৫ সালের মেয়েদের ইউরো-উভয় বিভাগে জয়ী স্পেন প্রতিপক্ষের চেয়ে একদিন আগে খেলেছিল সেমি-ফাইনাল।

নিউ ইয়র্কে ২০ জুলাই বাংলাদেশ সময় ১টায় (এএম) বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। মেসিরা সেমি-ফাইনাল খেলেছেন দুই দিন আগে, ইয়ামালরা তিন দিন আগে। উপরের পরিসংখ্যানে তাই সম্ভাবনার পাল্লা ঝুঁকে আছে স্পেনের দিকেই।

Pin It