শেষ দিনে পাকিস্তান অনায়াসেই হারিয়ে সিরিজ জিতে নেবে বাংলাদেশ, বিশ্বাস বোলিং কোচ শন টেইটের।
শন টেইট নিজে টেনশনে ছিলেন না বলেই দাবি করলেন। তবে তার আশেপাশে দু-একজন যে দুর্ভাবনায় ছিলেন, সেটিও জানালেন বাংলাদেশের বোলিং কোচ। সালমান আলি আগা ও মোহাম্মাদ রিজওয়ানের জুটিতে কিছুটা কালো মেঘের ওড়াওড়ি কিছুটা ছিল বটে। তবে তাইজুল ইসলামের শেষের জোড়া আঘাতে আপাতত দূর হয়ে গেছে শঙ্কার মেঘ। টেইট বললেন, দিনশেষে ড্রেসিং রুমে হাসি ঝলমলে মুখই তিনি দেখেছেন।
নতুন বলের প্রথম ওভার শেষে পাকিস্তানের রান ছিল ৫ উইকেটে ২৯০। পরের ওভারটি করতে এসে তাইজুল প্রথম বলে দেন ফুল টস, সালমান আলি আগা সেটিকে বাউন্ডারিতে পাঠান গুলির বেগে। ম্যাচের বাস্তবতায় বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ার কারণ ছিল বৈকি।
তবে ওই ওভারেই দারুণ এক ডেলিভারিতে সালমানকে বোল্ড করে ১৩৪ রানের জুটি ভাঙেন তাইজুল। নিজের পরের ওভারে তিনি বিদায় করে দেন হাসান আলিকেও। ম্যাচের লাগাম তাতে আরও ভালোভাবেই চলে আসে বাংলাদেশের মুঠোয়। রিজওয়ান যদিও টিকে আছেন ৭৫ রান নিয়ে। তবে পাকিস্তানের প্রয়োজন এখনও ১২১ রান, উইকেট বাকি মোটে ৩টি।
বাংলাদেশের জন্য দিনটি খুব আদর্শ নয়। চতুর্থ দিনেই ম্যাচ শেষ করে দেওয়ার ইচ্ছে তাদের ছিল। কিন্তু গোটা সিরিজে বোলারদের জন্য সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং দিনটি আসে এ দিনই।
তবে দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে টেইট বললেন, সব মিলিয়ে তারা এখন খুশিই।
“ক্রিকেটের জন্য দিনটি শেষ পর্যন্ত বেশ ভালোই ছিল। দুই দলই ভালো ক্রিকেট খেলেছে। ওরা খুব ভালো ব্যাটিং করেছে। উইকেটও ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ ভালো ছিল। আমার মনে হয়, আমাদের ছেলেরা লড়াইয়ে টিকে ছিল, প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিল। ওরা কিছু সময়ের জন্য আমাদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেছিল বটে। শেষের দিকে ওই দুটো উইকেট নেওয়াটা জরুরি ছিল। শেষ পর্যন্ত আমরা বেশ খুশিমনেই ড্রেসিংরুমে ফিরছি।”
সিরিজজুড়ে বাংলাদেশ দারুণ বোলিং করলেও এ দিন যথেষ্ট ধারাবাহিক ও গোছানো তারা ছিল না। তবে বোলিং কোচ এতটা কঠোরভাবে বিচার করতে চান না। বরং পারিপার্শ্বিক নানা চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরলেন তিনি।
“আমার মনে হয় ওরা বেশ ভালো বোলিং করেছে। দেখুন, সাম্প্রতিক সময়ে বোলাররা আমাদের দারুণ কিছু সময় এনে দিয়েছে এবং এতে যা হয়, প্রতিদিন আপনারা একই রকম আশা করেন। কিন্তু ক্রিকেটে সবসময় তা সেভাবে কাজ করে না। আমার মনে হয় ওরা যথেষ্ট ভালো বোলিং করেছে, যা আমাদের এখন একটি ভালো অবস্থানে নিয়ে এসেছে।”
“কাজটা কঠিন ছিল, প্রচণ্ড গরম ছিল, আমার মনে হয়, আজই ছিল সবচেয়ে বেশি গরম। আমার কাছে তেমনই মনে হয়েছে। কঠিন পরিস্থিতি ছিল। উইকেটও আজকে সত্যিই ভালো হয়ে গিয়েছিল। যদিও এসব কোনো অজুহাত নয়। তবে যেটা বললাম, সবকিছুর পরও আমরা ভালো অবস্থানে আছি।”
সালমান ও রিজওয়ানের জুটি যখন লম্বা সময় হতাশ করে রেখেছে, তখন ড্রেসিং রুম ও ডাগ আউটের চিত্র তুলে ধরলেন বোলিং কোচ।
“কিছুটা উত্তেজনা ছিল…ওই রান আউটটা খুব ‘ক্লোজ’ ছিল। ডাগআউটে কিছুটা উত্তেজনা ছিল, কারণ আমারদের মনে হচ্ছিল, ব্রেক থ্রু জরুরি। এরপর তাইজুলের মাধ্যমে তা এলো…।”
“কিছুটা উত্তেজনা ছিল, তবে টেনশন? আমি নিশ্চিত নই। আমি ব্যক্তিগতভাবে টেনশনে ছিলাম না, কিন্তু আমার আশেপাশে হয়তো দু-একজন কিছুটা টেনশনে ছিল।”
জুটি ভাঙাটা জরুরি, এটা অনুভব করছিলেন টেইটও। তবে পাকিস্তানকেও কৃতিত্ব দিলেন সাবেক এই ফাস্ট বোলার।
“হ্যাঁ, তখন (জুটির সময়) মনে হয়েছে, একটা উইকেট পেলে ভালো হতো। এমন একটা অনুভূতি কাজ করছিল। এটুকুই, আর কিছু নয়। আপনি যদি যথেষ্ট পরিমাণে টেস্ট ক্রিকেট দেখেন, তাহলে জানা থাকার কথা যে, দিনের শেষ ভাগে পরিস্থিতি খুব দ্রুত পাল্টে যেতে পারে। আমরা ড্রেসিংরুমে আলোচনা করছিলাম, যতটা সম্ভব লড়াইয়ে টিকে থাকার ব্যাপারে, কারণ কেউ জানে না, কখন কী ঘটে যেতে পারে।”
“আমরা জানতাম, যথেষ্ট ভালো বোলিং করলে এবং সারাদিন ধরে যথেষ্ট সময় লড়াইয়ে টিকে থাকলে শেষ সময়ে দু-একটা উইকেট তুলে নেওয়া যায়, যা আমরা পেরেছি। আমি জানি, এমন অনেকেই আছেন যারা আজ এখানে এসেছেন এটা ভেবে যে খেলা শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু পাকিস্তান আজ সত্যিই খুব ভালো খেলেছে।”
শেষ দিনেও এরকম ভালো খেললে তো পাকিস্তান বিশ্বরেকর্ড গড়ে জিতেও জেতে পারে! বাংলাদেশের বোলিং কোচ তেমন কিছুর সুযোগই দেখছেন না।
“আমার মনে হয় আমরা ওদেরকে অল আউট করে দেব। ওদেরকে গুটিয়ে দেব, আশা করি…।”
পাকিস্তানের বিপক্ষে ইতিহাস গড়ার পথে বাংলাদেশ
দুই ম্যাচের সিরিজের প্রথম টেস্টে ঢাকায় ১০৪ রানের ব্যবধানে জয় পায় স্বাগতিক বাংলাদেশ। সিলেট টেস্টেও জয়ের অপেক্ষায় নাজুমল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন দলটি।
সিলেট টেস্টের চতুর্থ দিনের খেলা শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ৩১৬ রান। শেষ দিনে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন মাত্র ৩ উইকেট। তবে পরাজয় এড়াতে হলে আরও ১২০ রান করতে হবে পাকিস্তানকে।
৭৫ রানে অপরাজিত আছেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ রিজওয়ান। তার পক্ষে টেলেন্ডার তিন ব্যাটসম্যান সাজিদ খান, খুররম শেহজাদ ও মোহাম্মদ আব্বাসকে সঙ্গে নিয়ে পরাজয় এড়ানোয় লড়াই চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব।
তিন বোলারকে নিয়ে পঞ্চম দিনে পুরো তিন সেশন তথা ৯০ ওভার প্রতিরোধ গড়ে তোলা রিজওয়ানের জন্য কার্যত অসম্ভব। শেষ দিনের খেলা বৃষ্টিতে ভেসে না গেলে; বাংলাদেশ ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের স্বাদ পাবে।
তবে শেষ দিনে রোমাঞ্চকর কিছু হবে না, এমনটিও হলফ করে বলা যায় না। দলটি যেহেতু ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ পাকিস্তান; তাদের দিয়ে সবকিছু্ই সম্ভব! তারা শেষ দিনে অবিশ্বাস্য কিছু দেখাতেও পারে!





