সবার ওপরে ব্রাজিল, ব্যবধান কমাচ্ছে আর্জেন্টিনা

Screenshot 2026-05-20 040458

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ কড়া নাড়ছে দুয়ারে। ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই টুর্নামেন্টের মঞ্চে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব টিকিয়ে রাখতে লড়াই করে যাচ্ছে পরাশক্তিরা।

বিশ্বমঞ্চে ট্রফি জয়ের পাশাপাশি ম্যাচের পর ম্যাচ জিতে নিজেদের এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে গুটি কয়েক দল।
নতুন আসর শুরুর আগে দেখে নেওয়া যাক বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জেতা শীর্ষ ১০টি দেশের তালিকা এবং তাদের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস:

১০. বেলজিয়াম (২১টি জয়)

কেভিন ডি ব্রুইনা, এডেন হ্যাজার্ড এবং রোমেলু লুকাকুদের মতো তারকাদের নিয়ে গড়া বেলজিয়ামের ‘সোনালী প্রজন্ম’ দলটিকে ফুটবলের অন্যতম সফল পরাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

বিশেষ করে ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে খেলার গৌরব তাদের এই সাফল্যের পথকে আরও মসৃণ করে।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত দলটি ২১টি ম্যাচে জয়ের দেখা পেয়েছে।

যা তাদের তালিকায় শীর্ষ দশে জায়গা করে দিয়েছে।

৯. উরুগুয়ে (২৫টি জয়)

ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সফলতম দেশ উরুগুয়ে।

১৯৩০ সালে বিশ্বকাপের প্রথম আসরের চ্যাম্পিয়নরা এ পর্যন্ত ২৫টি জয় এবং দুটি বিশ্বখেতাব নিজেদের শোকেসে তুলেছে। জনসংখ্যা এবং আর্থিক ক্ষমতার দিক থেকে বড় দেশগুলোর চেয়ে পিছিয়ে থাকলেও মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের ঐতিহ্যকে ঠিকই ধরে রেখেছে লা সেলেস্তেরা।

৮. নেদারল্যান্ডস (৩০টি জয়)

ফুটবল ইতিহাসের এক অদ্ভুত বাস্তবতা হলো, কখনো বিশ্বকাপ না জিতেও নেদারল্যান্ডস বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দল। আক্রমণাত্মক ফুটবল দর্শন এবং একের পর এক কিংবদন্তি খেলোয়াড় উপহার দেওয়া ডাচরা এ পর্যন্ত বিশ্বকাপে ৩০টি ম্যাচে জয়লাভ করেছে।

৭. স্পেন (৩১টি জয়)

২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর স্প্যানিশ ফুটবলের মোড় পুরোপুরি ঘুরে যায়। বিশ্বমঞ্চে লা রোহাদের মোট জয়ের সংখ্যা ৩১টি। ২০১০-এর সেই স্বর্ণালী সময়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছিল তারা।

৬. ইংল্যান্ড (৩২টি জয়)

বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের জয়ের সংখ্যা ৩২টি। থ্রি লায়ন্সদের ফুটবল ইতিহাস মূলত ১৯৬৬ সালের সেই একমাত্র বিশ্বকাপ ট্রফি জয়কে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়। এরপর তারা আর ট্রফি ছোঁয়া না পেলেও বড় টুর্নামেন্টগুলোর শেষদিকের লড়াইয়ে নিয়মিতই নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়ে যাচ্ছে।

৫. ফ্রান্স (৩৯টি জয়)

আধুনিক ফুটবলের অন্যতম প্রধান পরাশক্তি ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো তারকাদের ওপর ভর করে ফরাসিরা এ পর্যন্ত ৩৯টি জয় তুলে নিয়েছে। ১৯৯৮ বিশ্বকাপজয়ী ফ্রান্স ২০১৮ ও ২০২২ অর্থাৎ টানা দুই বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলে নিজেদের ইতিহাসের অন্যতম সফল প্রজন্ম হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে ‘লে ব্লুজ’রা।

৪. ইতালি (৪৫টি জয়)

টানা দুটি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে না পেরে নিজেদের ইতিহাসের অন্যতম কঠিন সময় পার করছে ইতালি। তবুও ৪টি বিশ্বকাপ এবং ৪৫টি জয় নিয়ে তারা টুর্নামেন্টের অন্যতম সফল দল। ১৯৩৪ থেকে ১৯৩৮ সালের মধ্যে টানা ৭টি ম্যাচ জিতে বিশ্বমঞ্চে এক অনবদ্য রেকর্ড গড়েছিল আজ্জুরিরা।

৩. আর্জেন্টিনা (৪৭টি জয়)

২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর থেকে হু হু করে টেবিলের ওপরের দিকে উঠছে আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির হাত ধরে আসা তৃতীয় বিশ্বকাপ ট্রফির পাশাপাশি আলবিসেলেস্তেদের মোট জয়ের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৭-এ, যা ইউরোপের পরাশক্তিদের সঙ্গে তাদের ব্যবধান অনেকটাই কমিয়ে এনেছে।

২. জার্মানি (৬৮টি জয়)

ধারাবাহিকতাকে এক অনন্য শিল্পে রূপ দেওয়া দলটির নাম জার্মানি। এ পর্যন্ত ৬৮টি জয় নিয়ে তারা ইউরোপের সবচেয়ে সফল দেশ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সেমিফাইনাল, ফাইনাল কিংবা শিরোপার লড়াইয়ে জার্মানির নিয়মিত উপস্থিতি তাদের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে টিকিয়ে রেখেছে।

১. ব্রাজিল (৭৬টি জয়)

বিশ্বকাপের কথা উঠলেই সবার ওপরে থাকবে ব্রাজিলের নাম। একমাত্র দল হিসেবে ৫টি বিশ্বখেতাব জেতার পাশাপাশি ১১৪টি ম্যাচের মধ্যে রেকর্ড ৭৬টি জয় নিয়ে তালিকার শীর্ষস্থানটি নিজেদের দখলে রেখেছে সেলেসাওরা। বিশ্বমঞ্চে তাদের জয়ের হার অবিশ্বাস্য (৬৭ শতাংশ) এবং ২০০২ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে টানা ১১টি ম্যাচ জেতার অনন্য কীর্তি রয়েছে তাদের। ২০২৬ বিশ্বকাপেও ব্রাজিল নামছে বিশ্বমঞ্চের অবিসংবাদিত রাজা হিসেবে।

২০২৬ বিশ্বকাপে কি বদলাবে সমীকরণ ?

এবারের ২০২৬ বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা এবং ম্যাচের সংখ্যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ফলে এই ঐতিহাসিক র‍্যাংকিংয়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ব্রাজিল চাইবে তাদের রাজত্ব ধরে রাখতে, জার্মানি ছুটবে শীর্ষস্থানের খোঁজে, আর কাতার বিশ্বকাপের আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান আর্জেন্টিনা চাইবে জয়ের গ্রাফটাকে আরও উঁচুতে নিয়ে যেতে।

Pin It