বাইবেলে বর্ণিত অধিকারের দোহাই দিয়ে গোটা মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরে হাকাবি যে মন্তব্য করেছেন তার প্রতিক্রিয়ায়ই এই নিন্দা।
ইসরায়েলে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবির সাম্প্রতিক এক বিতর্কিত মন্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে আরব ও মুসলিম দেশগুলো।
বাইবেলে বর্ণিত অধিকারের দোহাই দিয়ে গোটা মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরে হাকাবি যে মন্তব্য করেছেন তার প্রতিক্রিয়ায়ই এই নিন্দা।
মার্কিন রক্ষণশীল টক শো উপস্থাপক টাকার কার্লসনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হাকাবি ইসরায়েলের ‘সম্প্রসারণবাদকে’ সমর্থন দিয়ে মন্তব্য করেন।
আরব ও মুসলিম দেশগুলো তার বক্তব্যকে ‘বিপজ্জনক ও উসকানিমূলক’ বলে যৌথ বিবৃতি দিয়েছে। শুক্রবার হাকাবির সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচার করা হয়।
কার্লসন প্রশ্ন করেছিলেন, বাইবেল অনুযায়ী ইসরায়েল কি ‘পুরো মধ্যপ্রাচ্য’ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অধিকার রাখে? জবাবে হাকাবি বলেন, “তারা যদি সবটাই নিয়ে নেয়, তহালে দারুণ ব্যাপার হবে।”
তবে তিনি বলেন যে, “ইসরায়েল তা করছে না; তারা কেবল বর্তমানে তাদের অধিকৃত অঞ্চলটুকু রাখা এবং নিজেদের জনগণকে রক্ষা করতে চাইছে।”
হাকাবির এই মন্তব্য সম্প্রচার হওয়ার পরই জর্ডান, মিশর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ এক ডজনেরও বেশি মুসলিম দেশ এক যৌথ বিবৃতিতে তার মন্তব্যকে ‘বিপজ্জনক এবং উত্তেজক’ অভিহিত করে বলেছে, “এ ধরনের মন্তব্য গাজা যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করবে।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হাকাবি পরোক্ষভাবে অধিকৃত পশ্চিম তীরসহ আরব রাষ্ট্রগুলোর ভূমি ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে নেওয়াকে বৈধতা দিতে চেয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।
এটি গাজা যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নিজস্ব পরিকল্পনারও বিরোধী, যেখানে ফিলিস্তিনিদের জন্য একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের কথা বলা হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), মিশর, জর্ডান ছাড়াও এই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছে ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, তুরস্ক, সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, ওমান, বাহরাইন, লেবানন, সিরিয়া এবং ফিলিস্তিন।
তাছাড়া, ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি), আরব লিগ এবং জিসিসি-ও এই নিন্দায় শামিল হয়েছে। হাকাবি অবশ্য পরে তার ‘সবটাই নিয়ে নেওয়া’ সংক্রান্ত মন্তব্যকে কিছুটা ‘অতিশায়োক্তি’ বলে বর্ণনা করেছেন।
উল্লেখ্য, মাইক হাকাবি দীর্ঘদিন ধরেই অধিকৃত পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন, যা গত কয়েক দশকের মার্কিন নীতির পরিপন্থি।
১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর থেকে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে প্রায় ১৬০টি বসতি গড়ে তুলেছে ইসরায়েল, যেখানে প্রায় ৭ লাখ ইহুদি বাস করে।
অন্যদিকে ফিলিস্তিনিরা গাজা ও পশ্চিম তীর নিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবি জানিয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এই বসতিগুলো অবৈধ।
ইসরায়েলের কট্টরপন্থি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অবশ্য বরাবরই দখলদারিত্বের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
২০২২ সালের শেষদিকে তার নেতৃত্বে কট্টর ডানপন্থি জোট ক্ষমতায় আসার পর এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে ঢুকে হামাস যোদ্ধাদের হামলার পর গাজায় যুদ্ধ শুরু হলে ইহুদি বসতি স্থাপনের তৎপরতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।





