মেক্সিকো সিটিতে ‘দাই দাই’ পরিবেশন করবেন শাকিরা।
এক মহাকাব্যিক আবহে ফুটবল বিশ্বকাপের পর্দা উঠছে। এবারের আয়োজক তিন দেশ- যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে তিন দেশেই।
মেক্সিকোয় মেক্সিকো সিটি, কানাডায় টরন্টো ও যুক্তরাষ্ট্রে লস অ্যাঞ্জেলস; এসব জায়গায় উদ্বোধনী উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে দুই দিনে।
এবিসি নিউজ জানিয়েছে, আয়োজনে সংগীত ও নৃত্য আনছে ভিন্ন মাত্রা। কলম্বিয়ান পপ তারকা শাকিরা, মার্কিন পপ তারকা কেটি পেরি, নোরা ফাতেহী থেকে শুরু করে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আয়োজন মাতাতে আসছেন অনেকে।
শাকিরার ‘দাই দাই’
উদ্বোধনী ম্যাচে বৃহস্পতিবার দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হচ্ছে স্বাগতিক মেক্সিকো। ম্যাচের আগে মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। ২০১০ বিশ্বকাপের মতে এ ম্যাচের ৯০ মিনিট আগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হবে। এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায়।
ফিফা বলছে, অনুষ্ঠানে আদিবাসী শিল্পীদের পরিবেশনা, আধুনিক লোকজ পরিবেশনা থাকছে।
যে তারকা শিল্পী ১৬ বছর আগে ‘ওয়াকা ওয়াকা’ গেয়ে বিশ্বজুড়ে ঝড় তুলেছিলেন, সেই শাকিরা মেক্সিকোতে উদ্বোধনী মঞ্চেও ‘দাই দাই’ পরিবেশন করবেন, তার সঙ্গে থাকবেন বার্না বয়।
ফুটবলের সঙ্গে শাকিরার সম্পর্ক বেশ পুরনো। ২০০৬ ও ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচের আগে লাইভ পারফর্ম করেছেন তিনি।
‘দাই দাই’ শিরোনামের এই শব্দের অর্থ ‘চলো’। ১৯ জুলাই বিশ্বকাপ ফাইনালের বিরতিতেও মঞ্চে গাইবেন শাকিরা; সেদিন তার সঙ্গে থাকবেন ম্যাডোনা ও কে-পপ ব্যান্ড বিটিএস।
১৬ থেকে ১৭ মিনিটের ওই অনুষ্ঠানে শাকিরা, বার্না বয় ছাড়াও ফিফা বিশ্বকাপের অফিশিয়াল অ্যালবামে থাকা শিল্পীদেরও পরিবেশনা থাকছে। তাদের মধ্যে আছেন আলেহান্দ্রো ফার্নান্দেস, বেলিন্দা, ড্যানি ওশান, জে বালভিন, লিলা ডাউনস, লস অ্যাঞ্জেলেস আসুলেস ও মানা। এ ছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার গায়ক-গীতিকার টাইলাও অংশ নেবেন আয়োজনে।
মেক্সিকো সিটির কর্তৃপক্ষ এদিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে।
টরন্টোয় অনুষ্ঠান শুরু ক্ষণগণনায়
কানাডায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে শুক্রবার রাতে। টরন্টোর টরন্টো স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় স্বাগতিক কানাডা মুখোমুখি হবে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার। এর আগে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১১টায় শুরু হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
স্টেডিয়ামে একটি ক্ষণগণনা দিয়ে অনুষ্ঠান শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। সে সময় কানাডার বিভিন্ন গৌরবময় বিষয় তুলে ধরা হবে।
সংগীত ও পরিবেশনার মাধ্যমে কানাডার বৈচিত্র্য তুলে ধরবেন শিল্পীরা। অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে অ্যালানিস মরিসেট, আলেসিয়া কারা, এলিয়ানা, জেসি রেয়েজ, মাইকেল বুবল, নোরা ফাতেহি, সঞ্জয়, ভেজেড্রিম ও উইলিয়াম প্রিন্সের।
কেটি পেরি থাকছেন লস অ্যাঞ্জেলেস
এছাড়া শনিবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হবে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। ম্যাচের আগে ভোর সাড়ে ৫টায় সেখানে শুরু হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
এই অনুষ্ঠানে মঞ্চ মাতাবেন কেটি পেরি, ফিউচার, অ্যানিত্তা, লিসা, রেমা এবং টাইলার মত শিল্পীরা।
এবারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানগুলো প্রযোজনার দায়িত্বে রয়েছেন মার্কো বালিচ।
কার্ডময় ম্যাচে মেক্সিকোর দাপুটে জয়
তিনটি লাল কার্ড, সমান সংখ্যার হলুদ কার্ড—মোট ছয়টি কার্ডের ম্যাচটি অবশ্য যথেষ্ট একপেশে হয়েছে। মেক্সিকোর বিপক্ষে বল দখল, আক্রমণ কিংবা গোলে শট কোথাও পেরে ওঠেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। জয়ও তাদের পক্ষে আসেনি। ঘরের মাঠের সেই সুযোগে ৯৬ বছরের অভিশাপ কাটিয়ে দিয়েছে স্বাগতিকরা।
এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামের নানা নাটকীয়তায় ঠাসা বিশ্বকাপ উদ্বোধনী ম্যাচে পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছেড়েছে মেক্সিকো। দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের শুভসূচনা করেছে স্বাগতিকরা। এর আগে বিশ্বকাপে সাতবার উদ্বোধনী ম্যাচ খেলে একবারও জিততে পারেনি তারা।
অভিশাপ মোচনের ম্যাচে ৮ মিনিট ৩২ সেকেন্ডে জুলিয়ান কুইনোনেসের গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিক দল। ৬৭ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রাউল। শেষ পর্যন্ত সেটিই গড়ে দেন জয়-পরাজয়ের ব্যবধান। ১৬ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে উদ্বোধনী ম্যাচেই দুঃস্বপ্নের শুরু পেয়েছে আফ্রিকা।
দীর্ঘ ১৬ বছর পর বিশ্বকাপে ফের দেখা হয়েছিল মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার। ২০১০ সালের বিশ্বকাপের সেই স্মরণীয় ১-১ ড্রয়ের পর এবার মেক্সিকো হেসেখেলে হারাল দক্ষিণ আফ্রিকাকে। ৬০ শতাংশ বল দখলে রেখে যেখানে ১৬টি শট নিয়েছে মেক্সিকো, সেখানে মাত্র তিনটি শট নেওয়া দক্ষিণ আফ্রিকা রীতিমতো অসহায় আত্মসমর্পণই করেছে।
ম্যাচের ৫ মিনিটের মাথায় রাউলের একটি শট দারুণ দক্ষতায় আটকে দিয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার গোলরক্ষক উইলিয়ামস। তবে ৮ মিনিটের মাথায় স্কোরবোর্ড শূন্য রাখতে পারেননি। জুলিয়ান কুইনোনেসের ক্ষিপ্রতার কাছে হার মানতে হয়েছে। বিরতির আগে কুইনোনেসের আরেকটি শট গোলপোস্টে লেগে ফিরে না এলে ব্যবধান আরও বাড়ত।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই ম্যাচ যেন নাটকীয় মতো মোড় নিতে থাকে। ৪৮ মিনিটে গুতিয়েরেজকে ফাউল করে সিথোলে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে দক্ষিণ আফ্রিকা ১০ জনের দলে পরিণত হয়। সেই সুযোগ দারুণভাবে লুফে নেয় মেক্সিকো। ৬৭ মিনিটে আলভারাদোর নিখুঁত ক্রসে রাউল অসাধারণ হেডে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মেক্সিকো। চতুর্থ বিশ্বকাপে খেলা রাউলের এটাই প্রথম বিশ্বকাপ গোল।
ম্যাচ শেষ হওয়ার ৬ মিনিট আগে জুয়ানে মেক্সিকান খেলোয়াড় আলভারাদোকে চড় মারার অপরাধে লাল কার্ড দেখলে দক্ষিণ আফ্রিকা ৯ জনের দলে নেমে আসে। তখনও নাটকীয়তার বাকি ছিল। যোগ করা সময়ে মাদ্দাওকে ফাউল করে বসেন মেক্সিকোর মন্তেস। সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। তবে ১০ জনের দলে পরিণত হলেও ‘অভিষেকের বাধা’ সহজেই টপকেছে মেক্সিকো।





