চাকরি গেল ৩২ যুগ্ম সচিব ও পুলিশের ৩৩ কর্মকর্তার

Screenshot 2026-07-28 005200

বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো এসব কর্মকর্তাদের অনেকে ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় ডিসি ছিলেন এবং এতদিন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ওএসডি ছিলেন।

একযোগে ৩২ যুগ্ম সচিবকে বাধ্যতামূলকভাবে অবসরে পাঠিয়েছে সরকার; যাদের অনেকে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

যুগ্ম সচিব পদের এসব কর্মকতা বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

একাদশ নির্বাচনের সময় এসব কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক হিসেবে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন, যে নির্বাচন নিয়ে বিরোধী দলের তরফে কারচুপির অভিযোগ ছিল। দেশে-বিদেশে এ নির্বাচন ‘রাতের ভোট’ হিসেবে সমালোচিত হয়েছিল, যাতে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছিল আওয়ামী লীগ।

সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পৃথক প্রজ্ঞাপনে ৩২ যুগ্ম সচিবকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর আদেশ প্রকাশ করে।

এর আগে পুলিশের ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার ৩৩ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায় সরকার। এসব কর্মকর্তার বেশির ভাগ ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিভিন্ন জেলায় এসপির দায়িত্বে ছিলেন।

সোমবার যু্গ্ম সচিবদের চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার প্রজ্ঞাপনের সবার ক্ষেত্রে একই কারণ বলা হয়েছে।

এতে বলা হয়, তাদের চাকরিকাল ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ায় সরকার জনস্বার্থে সরকারি চাকরি হতে অবসর প্রদানের প্রয়োজন মনে করেছে। এ কারণে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ৪৫ ধারার প্রদত্ত ক্ষমতাবলে তাদের অবসরে পাঠানো হয়েছে।

বিধি অনুযায়ী এসব কর্মকর্তা অবসরজনিত সুবিধা পাবেন।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো এসব কর্মকর্তা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ডিসি হিসেবে কর্মরত ছিলেন; যারা পদাধিকারবলে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলেও ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ উঠে। অধিকাংশ ভোট আগের রাতে হয়ে যাওয়ার অভিযোগের মধ্যে বিরোধীরা মাত্র সাতটি আসনে জয় পায়। বিরোধিরা সে নির্বাচনের নাম দেয় ‘নিশিরাতের নির্বাচন’।

জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার পতনের পর ক্ষমতায় এসে ভোটের কারচুপির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। তখন তাদের বিভিন্ন দায়িত্ব থেকে সরিয়ে ওএসডি করা হলেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

বিএনপি সরকার গঠনের পাঁচ মাস পর এখন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হল।

বাধ্যতামূলক অবসরে ৩৩ পুলিশ কর্মকর্তা

তাদের বেশির ভাগ ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় বিভিন্ন জেলায় এসপির দায়িত্বে ছিলেন।

পুলিশের ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার ৩৩ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার।

রোববার রাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাদের অবসরে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে।

অবসরে পাঠানো কর্মকর্তাদের মধ্যে ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম ও ডিআইজি মো. সাইফুল ইসলাম বর্তমানে গ্রেপ্তার রয়েছেন। গ্রেপ্তার হওয়ার আগে মোল্যা নজরুল রাজশাহীর সারদায় ও সাইফুল ইসলাম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত ছিলেন। বাকি ৩১ জন ছিলেন পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে।

এর মধ্যে সিলেট রেঞ্জ অফিসে সংযুক্ত ছিলেন ডিআইজি মিরাজ উদ্দিন আহমেদ, ডিআইজি মো. ইলিয়াছ শরীফ, ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান ও অতিরিক্ত ডিআইজি মো. নিজামুল হক মোল্যা।

রংপুর রেঞ্জ অফিসে সংযুক্ত ছিলেন ডিআইজি শাহ মিজান শাফিউর রহমান, অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আলমগীর কবীর, অতিরিক্ত ডিআইজি সঞ্জয় কুমার কুন্ডু, অতিরিক্ত ডিআইজি ড. শামসুন্নাহার, অতিরিক্ত ডিআইজি সাইফুল্লাহ আল মামুন ও অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ রফিকুল ইসলাম।

রাজশাহীর সারদায় সংযুক্ত ছিলেন ডিআইজি এস এম মোস্তাক আহমেদ খান, ডিআইজি মইনুল হক, অতিরিক্ত ডিআইজি মো. বরকতুল্লাহ খান ও অতিরিক্ত ডিআইজি টি. এম. মোজাহিদুল ইসলাম।

চট্টগ্রাম রেঞ্জ অফিসে সংযুক্ত ছিলেন ডিআইজি জিহাদুল কবির, ডিআইজি মো. শাহ আবিদ হোসেন, ডিআইজি মো. জাকির হোসেন খান ও অতিরিক্ত ডিআইজি মোল্লা জাহাঙ্গীর হোসেন।

ডিআইজি শ্যামল কুমার নাথ, অতিরিক্ত ডিআইজি মুহাম্মদ সাইদুর রহমান খান, অ্যান্টি টেরোরিজম সংযুক্ত ডিআইজি মো. জামিল হাসান ও অতিরিক্ত ডিআইজি এস এম এমরান হোসেন এপিবিএনে সংযুক্ত ছিলেন।

খুলনা রেঞ্জে সংযুক্ত ছিলেন ডিআইজি মো. মাহবুবুর রহমান ও অতিরিক্ত ডিআইজি মো. সাজিদ হোসেন। অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আনোয়ার হোসেন খান সংযুক্ত ছিলেন বরিশাল রেঞ্জে।

রাজশাহী রেঞ্জে সংযুক্ত ছিলেন অতিরিক্ত ডিআইজি মোহা. মনিরুজ্জামান, অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মেহেদুল করিম, অতিরিক্ত ডিআইজি খান মুহাম্মদ রেজোয়ান, অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ।

রংপুর পিটিসিতে সংযুক্ত ছিলেন অতিরিক্ত ডিআইজি মো. রশীদুল হাসান। আর ময়মনসিংহ রেঞ্জ অফিসে সংযুক্ত ছিলেন পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আরেফ।

সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারীর চাকরির মেয়াদ ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার পর সরকার জনস্বার্থে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই তাকে চাকরি থেকে অবসরে (বাধ্যতামূলক অবসর) পাঠাতে পারে।

অবসরে পাঠানো এসব পুলিশ কর্মকর্তার বেশির ভাগ ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিভিন্ন জেলায় এসপির দায়িত্বে ছিলেন।

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলেও ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ উঠে। অধিকাংশ ভোট আগের রাতে হয়ে যাওয়ার অভিযোগের মধ্যে বিরোধীরা মাত্র সাতটি আসনে জয় পায়। বিরোধিরা সে নির্বাচনের নাম দেয় ‘নিশিরাতের নির্বাচন’।

জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার পতনের পর ক্ষমতায় এসে ভোটের কারচুপির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেয় অন্তর্বর্তী সরকার।

Pin It