“দেশে প্লাস্টিকের ব্যবহার হয় বন্ধ করতে হবে, নয়ত এর ব্যবস্থাপনাটা বৈজ্ঞানিক উপায়ে করতে হবে,” বলেন গবেষক ফিরোজ জামান।
নদ-নদীর মাছ কিংবা টুথপেস্ট—নানা মাধ্যমে খাদ্যচক্রে ঢুকে পড়া মাইক্রোপ্লাস্টিক মানবদেহের জন্য কতটা বিপজ্জনক, সেই জিজ্ঞাসা ক্রমে জোরালো হচ্ছে।
প্লাস্টিকের এ ক্ষুদ্র কণা শরীরে ঢুকলেই কি বিপদ ডেকে আনতে পারে; কিংবা কতটুকু প্রবেশ করলে ক্ষতি হয়, আর কতটুকুতে ক্ষতি হয় না— এমন নানা প্রশ্ন আছে মানুষের।
গবেষকরা বলছেন, খাদ্যচক্রের মাধ্যমে মাইক্রোপ্লাস্টিক শরীরে ঢুকে পড়লেই যে তা বিপদ ঘটাবে, সেটা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে শরীরে এর পরিমাণ বেড়ে গেলে যে নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হবে, সেটা অনেকটা নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সম্প্রতি বেসরকারি সংস্থা এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) দাবি করেছে, দেশে বিক্রি হওয়া ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে তারা ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক পেয়েছে।
তিন বছরের গবেষণা শেষে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের একদল গবেষক বলেছে, সাগর ও নদ-নদী মিলিয়ে তারা ১৩ ধরনের মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিক পেয়েছে।
এসব গবেষণার মানে দাঁড়াচ্ছে, প্লাস্টিকের এসব ক্ষুদ্র কণা মানবদেহে প্রবেশ করছে। মানবদেহে এসব প্লাস্টিক কণা কী কী বিপদ ঘটাচ্ছে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিস্তর গবেষণা হয়নি।
তবে বাংলাদেশের একদল গবেষকের দাবি, মানবদেহে এর ক্ষতিকর প্রভাব বুঝতে তারা ইঁদুরের ওপর দুই বছর ধরে গবেষণা চালিয়েছেন। তাতে মানবদেহে মাইক্রোপ্লাস্টিকের সাত ধরনের ঝুঁকি তৈরির প্রমাণ পেয়েছেন তারা।
এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, হয় প্লাস্টিকের ব্যবহার থেকে ক্রমে সরে আসতে হবে, নয়ত বৈজ্ঞানিক উপায়ে এর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।
ইঁদুরের ক্ষেত্রে কী প্রভাব
মাইক্রোপ্লাস্টিক হলো, ৫ মিলিমিটার বা তার চেয়ে ছোট আকারের ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা, যা সাধারণত খালি চোখে দেখা যায় না।
এই প্লাস্টিক কণার প্রভাব নিয়ে বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞদের তৈরি গবেষণা প্রতিবেদনটি সপ্তাহ দুয়েক আগে ছাপা হয় আন্তর্জাতিক ‘ইমার্জিং কনটামিনেন্টস’ সাময়িকীতে।
চারজন মিলে এ গবেষণা করেছেন, যাদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ ফিরোজ জামানও আছেন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টেফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “মানবশরীরে কী প্রভাব পড়তে পারে, সেটা পরীক্ষা করার জন্য আমরা নমুনা প্রাণী হিসেবে স্তন্যপায়ী ইঁদুরকে নিয়েছি। এর মানে হলো, ইঁদুরের যেভাবে ক্ষতি হচ্ছে, মানবদেহেরও একই রকম ক্ষতি হবে।”
মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণের ফলে স্তন্যপায়ী প্রাণীর দেহে নানা প্রভাব পড়ার তথ্য তুলে ধরেন এ গবেষক।
ফিরোজ জামান বলেন, “অনেক রকমের ক্ষতি আছে। আয়ুষ্কাল কমিয়ে দেয়; কিডনির ক্ষতি করে, লিভারে ক্ষতি করে, কোষ ড্যামেজ করে। ছয় থেকে সাতটা প্রভাব আছে।”
তিনি বলেন, “আমরা দুই বছর কাজ করেছি। মাইক্রোপ্লাস্টিকের ফিড তৈরি করে ওদেরকে খাইয়েছি। তারপরে প্রভাব দেখেছি— কোষে কী প্রভাব পড়ে, কিডনিতে কী প্রভাব পড়ে, ব্লাড সেল ডেভলপমেন্টে কীভাবে প্রভাব পড়ে।”
এ গবেষণায় ইঁদুরের খাবারে বিভিন্ন মাত্রায় পিভিসি মাইক্রোপ্লাস্টিক মিশিয়ে এর প্রভাব পরীক্ষা করা হয়। প্রায় ১২৫ মাইক্রোমিটার আকারের এসব মাইক্রোপ্লাস্টিক খাবারের সঙ্গে ৫ শতাংশ, ১০ শতাংশ ও ১৫ শতাংশ হারে মিশিয়ে ১৩ সপ্তাহ ধরে ইঁদুরকে খাওয়ানো হয়।
গবেষণায় দেখা যায়, উচ্চমাত্রার, অর্থাৎ ১০ শতাংশ ও ১৫ শতাংশ মাইক্রোপ্লাস্টিক ইঁদুরের বৃদ্ধি, রক্তকণিকার গঠন এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের নির্দেশকের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। এতে যকৃৎ, অন্ত্র ও কিডনির টিস্যুতেও ক্ষতিকর পরিবর্তন দেখা যায়। তবে মাইক্রোপ্লাস্টিক জমতে দেখা গেছে শুধু অন্ত্রের টিস্যুতে।
উচ্চমাত্রার মাইক্রোপ্লাস্টিক ইঁদুরের বৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়। আবার শরীরের ওজনের তুলনায় যকৃতের ওজন বেড়ে যায়।
মাইক্রোপ্লাস্টিক দেওয়া ইঁদুরগুলোর লোহিত রক্তকণিকার আকৃতি অস্বাভাবিক দেখা গেছে। তবে মোট রক্তকণিকার সংখ্যায় তেমন পার্থক্য পাওয়া যায়নি।
সাগর, নদ-নদী ও খাল-বিলের মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিক
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক মো. শাহজাহানসহ এক দল গবেষক ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ নিয়ে মাছের উপর গবেষণা চালিয়েছেন।
গবেষণা দলের প্রধান এ অধ্যাপক জানান, সাগরের দুটি মাছে (চট্টগ্রাম ও কুয়াকাটায়) লইট্টা ও ছুরি শুটকিতে; বহ্মপুত্র নদে দুটি, চলনবিলে তিনটি মাছে এবং আড়িয়াল বিলে পাঁচটি দেশি মাছে ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা মিলেছে।
আড়িয়াল বিলের পাঁচ মাছ হলো, কই, বাটা, মেনি, গুলশা টেংরা ও পুঁটি।
এছাড়া চট্টগ্রাম ও কুয়াকাটা থেকে সংগৃহীত বোম্বে ডাক, রিবন ফিশ ও ফাইসা মাছেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে।
গবেষণা দেখা গেছে, মাছের অন্ত্র, ফুলকা ও মাংসে মাইক্রোপ্লাস্টিক কণার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কই মাছে গড়ে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে ১ থেকে ১ দশমিক ৯০টি।
অধিকাংশ মাইক্রোপ্লাস্টিক ছিল ফাইবার আকৃতির, যেগুলোর আকার ১০১ থেকে ৩০০ মাইক্রোমিটারের মধ্যে।
মাইক্রোপ্লাস্টিকের সহনীয় মাত্রার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে অধ্যাপক মো. শাহজাহান বলেন, “নরমালি অন্য টক্সিডেন্টের ক্ষেত্রে ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন বা ফুড অর্গানাইজেশন এর মাত্রা ডিটেক্ট করে। কিন্তু মাইক্রোপ্লাস্টিকের ক্ষেত্রে এরকম কোনো স্ট্যান্ডার্ড এখনো বৈশ্বিকভাবে তৈরি হয়নি।”
তিনি বলেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক এখনো কোনো ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে, এরকম প্রতিবেদন নেই। তবে মাইক্রোপ্লাস্টিক যখন ফ্রাগমেন্টেড হয়ে ন্যানোপ্লাস্টিক হয় এবং ন্যানোপ্লাস্টিক আবার ব্লাড স্ট্রিমে বা মাসেলে ডিপোজিট হয়, তখন সেটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
মাইক্রোপ্লাস্টিকের মাত্রা বাড়তে থাকায় উদ্বেগ বাড়েছে বলে মনে করেন এই গবেষক।
তার মতে, “এভাবে চলতে থাকলে ২০৫০ সালে গিয়ে দেখা যাবে, সমুদ্রে যে পরিমাণ মাছ, ওই পরিমাণ মাইক্রোপ্লাস্টিক।”
২০২৫ সালে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে অধ্যাপক শাহজাহান বলেন, কর্ণফুলী টানেল তৈরির সময় দেখা যায়, তলদেশ প্রায় দুই-তিন ফুট স্তর হয়ে গেছে প্লাস্টিক মেটেরিয়ালস পলিথিন দিয়ে। এই পলিথিনই তো ভাঙতে ভাঙতে মাইক্রোপ্লাস্টিক হয়।
“ব্রাশ ব্যবহার করি, টুথপেস্ট ব্যবহার করি, প্রসাধনী ব্যবহার করি— এগুলোতেও মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকে। এগুলোই তো পরিবেশে যাচ্ছে।”
মানবদেহে কী প্রভাব
খাদ্যচক্রে মাইক্রোপ্লাস্টিক ঢুকে পড়ার তথ্য তুলে ধরে অধ্যাপক ফিরোজ জামান বলেন, “মাইক্রোপ্লাস্টিকগুলো ইকোসিস্টেমে ফুডের সঙ্গে কনটামিনেটেড হয়ে মাছের মাধ্যমে মানুষের দেহে চলে আসছে। মাছের মাধ্যমে অথবা শস্য যখন উৎপাদন হয়, ওই পানিটা যদি কেউ ব্যবহার করে, পানিটা শস্যের কোষের ধ্যে ঢুকে সেখান থেকে শাক-সবজি যা খাচ্ছি, সেগুলোর মাধ্যমেও চলে আসছে মানব শরীরে।”
দেশে বিক্রি হওয়া ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার দাবি জানিয়েছে বেসরকারি সংস্থা এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)।
মানুষের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক এলেও তা কতটুকু ক্ষতিকর হবে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ গবেষক বলেন, “মানবদেহে ঢুকলেই যে ক্ষতি হবে, তা নয়। এটা পরিমাণমত আসতে হবে। এখন কোন পরিমাণে এলে ক্ষতি হবে, আর কোন পরিমাণে এলে ক্ষতি হবে না, তা আমাদের গবেষণায় তুলে ধরেছি।
“আমাদের শরীরে ক্রমাগত যদি ঢুকতেই থাকে, তাহলে একসময় মাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। আর মাত্রা ছাড়িয়ে গেলে তো শরীরের ক্ষতি হবেই।”
এক্ষেত্রে ফিরোজ জামানের পরামর্শ হলো, “মাইক্রোপ্লাস্টিকের ব্যবহারটা কমাতে হবে। আর যদি ব্যবহার কমাতে অসুবিধা হয়, তাহলে কোনো প্লাস্টিক যেন কেউ পরিবেশে ছুড়ে ফেলতে না পারে, সেটা নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলতে হবে।”
তার মতে, “প্লাস্টিকের ব্যবহার হয় বন্ধ করতে হবে। আর ব্যবহার বন্ধ না করতে পারলে বৈজ্ঞানিক উপায়ে এর ব্যবস্থাপনা করতে হবে, যেমনটা অন্যান্য দেশ করছে।
“জাপানে দেখেছি, তাদের প্রত্যেকটা জায়গায় ওরা প্লাস্টিক ব্যবহার করে। কিন্তু ইন্টারেস্টিং হলো, কোথাও একটা প্লাস্টিকের টুকরাও পাওয়া যাবে না। ওরা এমনভাবে এগুলোর ব্যবস্থাপনা করে, রিসাইক্লিং করে…সেখানে প্লাস্টিকগুলো পরিষ্কার করে ডাস্টবিনের বিশেষ বিশেষ জায়গায় রাখতে হয়। না রাখলে জরিমান হয়।”
‘বেশি বেশি গবেষণা দরকার’
জনস্বাস্থ্য ও রোগতত্ত্ব বিশেষজ্ঞ ড. মুশতাক হোসেন বলেন, “আমাদের এখানে প্লাস্টিকের ব্যবহার একেবারেই অনিয়ন্ত্রিত। কাজেই আমাদের আশঙ্কা যে এখানে বিপজ্জনক মাত্রাতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক আছে।”
কোনো কোনো বিশেষজ্ঞের মতে, মাইক্রোপ্লাস্টিক রক্তের মধ্যে মিশে মস্তিষ্কে চলে যায়। আর দীর্ঘ মেয়াদে সেবা কর্মক্ষমতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।
মাইক্রোপ্লাস্টিকের দূষণ রোধে করণীয় নির্ধারণে আরও গবেষণায় জোর দেন মুশতাক হোসেন।
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক এ প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার পরামর্শ হলো, “আমাদের গবেষণা করতে হবে এর উপরে, এটা কীভাবে কমানো যায়।
“এটা কীভাবে আলাদা করা যায়, সেগুলোর বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি বের করতে হবে। কীভাবে রিমুভ করা যায় খাদ্য শৃঙ্খল, পানীয় শৃঙ্খল, ওষুধপত্র থেকে, তা বের করতে হবে। বিদেশের গবেষণার দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না, আমাদের নিজেদেরও করতে হবে।”
তার মতে, “প্রথমেই তো প্লাস্টিকের বোতলে পানি খাওয়া বন্ধ করতে হবে। একবার ব্যবহারযোগ্য পলিথিন ব্যবহার বন্ধ করা, এগুলো পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য অলরেডি বলা হয়েছে। সেগুলো মেনে চলার জন্য মানুষের মধ্যে একটা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে। সেগুলোতে আবার নজরদারি চালানো উচিত।”
প্লাস্টিক দূষণ
বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিদিন আট লাখ টন প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হয়। এর মধ্যে শতকরা ৩৬ ভাগ পুনর্চক্রায়ণ, ৩৯ ভাগ ভূমি ভরাট এবং বাকি ২৫ ভাগ সরাসরি পরিবেশে দূষণ ঘটাচ্ছে।
খাবার পানির শতকরা ৮০ ভাগ পানি মাইক্রো ও ন্যানো প্লাস্টিকের কণা দ্বারা দূষিত।
গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, পানিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের পরিমাণ একেক ঋতুতে একেক রকম থাকে।
অধ্যাপক শাহজাহান বলেন, “বর্ষাকালে পানিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের ঘনত্ব সর্বাধিক ছিল। গবেষকদের মতে, বৃষ্টির পানির সঙ্গে আশপাশের প্লাস্টিক বর্জ্য বিলের পানিতে প্রবাহিত হয়ে দূষণের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।”
তিনি জানান, এ সময় পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় কণাগুলো পানির স্তরে ভেসে থাকে এবং সরাসরি পানির গুণগত মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় মাইক্রোপ্লাস্টিক কণাগুলো ধীরে ধীরে তলদেশে জমা হয়।
সরকার কী ভাবছে?
প্লাস্টিক হচ্ছে কৃত্রিমভাবে তৈরি পলিমার, যা মূলত জীবাস্ম জ্বালানি বা প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে রাসায়নিক উপায়ে তৈরি করা হয়।
অ্যাক্রাইলিক, পলিস্টাইরিন, পলিভিনাইল ক্লোরাইড, সিনথেটিক রাবার, পলিইথিলিন (পলিথিন) ইত্যাদি প্লাস্টিকের আবিষ্কারের ফলে জীবনের সব স্তরে প্রয়োজনীয় প্রায় সব দ্রব্য ও দ্রব্যাদির অংশবিশেষ প্লাস্টিক দ্বারা তৈরি হচ্ছে।
পরিবেশে অপচনশীল নানা রকম প্লাস্টিক বর্জ্যরে সঙ্গে অতিবেগুনি রশ্মি এবং পরিবেশের অন্যান্য উপাদানের মিথস্ক্রিয়ার ফলে মাইক্রো ও ন্যানো প্লাস্টিকের কণা এবং নানা রকম ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ নির্গত হয়। এসব মাইক্রো ও ন্যানো কণা এবং নিঃসৃত ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ মানুষ ও অন্যান্য জীবের হরমোনাল সিস্টেম নষ্ট করতে পারে।
প্লাস্টিক দূষণ আমাদের স্বাস্থ্য, প্রাকৃতিক সম্পদ, জীববৈচিত্র্য, উন্নত জীবনযাপন এবং নিরাপদ খাদ্যের জন্য বিরাট হুমকি। সময়োপযোগী আইন তৈরি, আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং প্লাস্টিকদূষণের ক্ষতিকর দিক ও করণীয় নিয়ে সমাজের সব স্তরে সচেতনতা বাড়ানোর দাবি সংশ্লিষ্টদের।
মাছ, প্রাণীসহ খাদ্য চক্রে মাইক্রোপ্লিাস্টিকের বিষয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, “এটা এখন বৈশ্বিক সমস্যা; এটা শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়। তাই বিষয়টি নিয়ে আরও জানার চেষ্টা করছি। বিদ্যমান সমস্যা নিয়ে পুরো না জেনে কমেন্ট করতে চাই না।”
দূষণ রোধে ব্যক্তিগত জনসচেতনতার পাশাপাশি সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া দরকার বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, “এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করতে হবে। প্লাস্টিক দূষণের বিষয়ে আরো গবেষণার পাশাপাশি সম্পৃক্ত অনেক মন্ত্রণালয় রয়েছে, বাস্তবায়নের বিষয় রয়েছে। যার যার জায়গা থেকে চিন্তা ও কাজের সমন্বয় করাই সঠিক হবে।”





