অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের দুর্দান্ত শুরুর সবচেয়ে বড় সাক্ষী হাসান মাহমুদের ৬ উইকেট। ডারউইন টেস্টের প্রথম দিনে ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে স্বাগতিকদের ব্যাটিং ধসিয়ে দিয়েছেন এই পেসার।
বাংলাদেশের বোলিংয়ের এমন ধারাবাহিকতায় মুগ্ধ হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নারও।
ফক্স ক্রিকেটে বিশ্লেষণের সময় বাংলাদেশের বোলিং নিয়ে ওয়ার্নার বলেন, ‘আমি অনেক দলকে অস্ট্রেলিয়ায় এসে খেলতে দেখেছি।
তবে প্রথমবারের মতো দেখলাম, কোনো প্রতিপক্ষ দল শুরু থেকেই তাদের বোলারদের দিয়ে সঠিক জায়গায় বল করাচ্ছে।’
এরপরই বাংলাদেশের বোলিংয়ের ধারাবাহিকতার প্রশংসা করে তিনি যোগ করেন, ‘তারা অবিশ্বাস্যভাবে একই কাজ করে যাচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ায় এসে এমনটা করা সহজ নয়।’
ওয়ার্নারের এই মন্তব্যের পেছনে অবশ্যই বড় কারণ হাসান মাহমুদের নেতৃত্বে বাংলাদেশের পেস আক্রমণের দারুণ পারফরম্যান্স।
হাসান ১৭ ওভারে মাত্র ৫৫ রান দিয়ে নিয়েছেন ৬ উইকেট। তার সঙ্গে এবাদত হোসেন ও তাসকিন আহমেদও অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের ওপর চাপ ধরে রাখেন।
বাংলাদেশের বোলারদের সবচেয়ে বড় সাফল্য ছিল অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের কোনো সুযোগ না দিয়ে বারবার একই জায়গায় বল করে যাওয়া।
সেই ধারাবাহিকতাতেই ১৯৮ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা। দিন শেষে বাংলাদেশ ১ উইকেটে ৯৬ রান তুলে নিয়ে বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যাটিংয়েও আধিপত্যের ইঙ্গিত দিয়েছে।
সাদমানকে আউট করে বিশ্বরেকর্ড, বাঁহাতি বোলারদের ‘চূড়ায়’ স্টার্ক
শ্রীলঙ্কান কিংবদন্তি রঙ্গনা হেরাথকে টপকে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল বাঁহাতি বোলার হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন অভিজ্ঞ অস্ট্রেলীয় ফাস্ট বোলার মিচেল স্টার্ক।
ডারউইনের মারারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে ওপেনার সাদমান ইসলামকে আউট করে এই ঐতিহাসিক মাইলফলকে পৌঁছান স্টার্ক।
এই উইকেটের মধ্য দিয়ে টেস্টে তার উইকেট সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৩৪টি, যা হেরাথের ৪৩৩ উইকেটের রেকর্ডকে এক ধাপ পেছনে ফেলে দেয়। ১০৬তম টেস্টে এসে এই কীর্তি গড়লেন ৩৬ বছর বয়সী এই অসি পেসার।
বর্তমানে ৪৩৪ উইকেট নিয়ে ভারতের সাবেক অধিনায়ক কপিল দেবের পাশে অবস্থান করছেন তিনি।
এছাড়া ৪৩৯ উইকেট নিয়ে টেস্ট ইতিহাসের সর্বকালের সেরা উইকেটশিকারির তালিকায় দশম স্থানে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকান কিংবদন্তি ডেল স্টেইনকে স্পর্শ করতে স্টার্কের প্রয়োজন আর মাত্র ৬ উইকেট।
স্টার্কের এই সাফল্য টেস্ট ক্রিকেটের বাঁহাতি বোলারদের তালিকায় শীর্ষ অবস্থানকে আরও মজবুত করেছে। বাঁহাতি বোলারদের তালিকায় ৪৩৩ উইকেট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন রঙ্গনা হেরাথ।
৪১৪ উইকেট নিয়ে তৃতীয় স্থানে পাকিস্তানের কিংবদন্তি ওয়াসিম আকরাম। নিউ জিল্যান্ডের ড্যানিয়েল ভেটোরি (৩৬২) ও শ্রীলঙ্কার চামিণ্ডা ভাস (৩৫৫) রয়েছেন পরবর্তী স্থানগুলোতে। আর ৩৪৮ উইকেট নিয়ে এই তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে অবস্থান করছেন ভারতের রবীন্দ্র জাদেজা।
বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সিরিজ শুরুর আগেই ৪৩৩ উইকেট নিয়ে কপিল দেব ও ডেল স্টেইনকে টপকে যাওয়ার সুযোগ ছিল স্টার্কের সামনে। তবে সিরিজের আগে ব্যক্তিগত মাইলফলক নিয়ে কথা বলতে গিয়ে পুরো বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই নিয়েছিলেন তিনি। আইসিসির বরাতে স্টার্ক বলেছিলেন, ‘এর মানে দাঁড়ায় আমি বেশ কিছুদিন ধরে খেলছি। এসব মহাতারকাদের সঙ্গে নিজের নাম উচ্চারিত হতে দেখা অবশ্যই দারুণ অনুভূতি। তবে খেলা চালিয়ে যাওয়ার সময় এসব বিষয় খুব একটা প্রাধান্য পায় না। খুব বেশি দূর নিয়ে ভাবারও সুযোগ থাকে না।’
চলতি ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ (ডব্লিউটিসি) সাইকেলে অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম সেরা পারফর্মার এই ফাস্ট বোলার। বাংলাদেশ সিরিজের আগে ৮ টেস্টে ৪৬টি উইকেট শিকার করেছেন তিনি, যার মধ্যে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অ্যাশেজ জয়েই একাই নিয়েছিলেন ৩১টি উইকেট।
তবে স্টার্কের এই ঐতিহাসিক অর্জনের দিনে ব্যাটিংয়ে চরম বিপদে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিলেও ডারউইনে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট হয়ে যায় সফরকারীরা। বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদ দারুণ বোলিং করে ক্যারিয়ারসেরা ৫৫ রানে ৬ উইকেট শিকার করে অস্ট্রেলীয় ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে দেন। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে স্টিভ স্মিথ সর্বোচ্চ ৭১ রান করলেও দলের আর কোনো ব্যাটার ৩০ রানের কোটা পার হতে পারেননি।
জবাবে বোলিংয়ে নেমে বাংলাদেশকে শুরুতেই ধাক্কা দেন মিচেল স্টার্ক। সাদমান ইসলামকে ফেরানোর মাধ্যমেই হেরাথকে টপকে নিজের ৪৩৪তম টেস্ট উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি।
দিন শেষে ১ উইকেটে ৯৬ রান তুলে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ দল। এখনও লিডের দেখা পেতে ১০২ রান করতে হবে শান্তদের। ৩২ রানে অপরাজিত আছেন তানজিদ হাসান তামিম; কাল তার সঙ্গে ক্রিজে নামবেন ৩৫ রানে অপরাজিত থাকা মুমিনুল হক।





