‘বাংলাদেশের জয় কল্পনা নয়, বাস্তবের পথে’

2-6a804b2d0aaf4

ঘরের মাঠে বাংলাদেশের বিপক্ষে চাপে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল। পরাজয় এড়াতে লড়ছেন প্যাট কামিন্সরা। ২২৮ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করা অস্ট্রেলীয়দের অস্বস্তিতে রেখেছেন বাংলাদেশি বোলাররা।

স্বাগতিকরা কোনোমতে দুই সেশন পার করলেও অলআউট হয়েছে দ্রুতই। তাদের ইনিংস থেমেছে ১৯৮ রানে। অস্ট্রেলিয়া খেলতে পেরেছে মাত্র ৫৩ ওভার।

জবাবে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে করে ৪২৬ রান। ২২৮ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে তৃতীয় দিনের খেলা শেষে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১৬১ রান। তৃতীয় দিনের খেলা শেষে এখনো ৬৭ রানে পিছিয়ে রয়েছে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া।

খেলার এমন অবস্থায় অস্ট্রেলিয়ার জয়ের সম্ভাবনা ১৫%। বললেন কিংবদন্তি ক্রিকেটার মার্ক ওয়াহ। কোনো সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম বাংলাদেশ চালকের আসনে, আবার কোনোটির শিরোনাম জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ।

আসলে ডারউইন টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ এমন এক জায়গায় দাঁড়িয়ে, যেখান থেকে জয় এখন আর কল্পনা নয়; বরং বাস্তব সম্ভাবনা।

ক্রীড়া বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ফক্স স্পোর্টস তাদের উইন প্রেডিকটর বা জয় নির্ধারণী নির্দেশকে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের সম্ভাবনা দেখাচ্ছে ১৫%। তা দেখে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটার মার্ক ওয়াহরও মনে হচ্ছে, এই ভবিষ্যদ্বাণী বা পূর্বাভাস ভুল নয়।

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজে ধারাভাষ্যকারের দায়িত্বে আছেন মার্ক ওয়াহ। ডারউইন টেস্টে আজ তৃতীয় দিনের খেলা শেষে তিনি বলেছেন, ‘এই হিসাব (১৫% সম্ভাবনা) খুব একটা ভুল নয়।’

তবে বাংলাদেশ সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও অস্ট্রেলিয়ার ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ আছে বলে মনে করেন মার্ক ওয়াহ, ‘আগামীকাল প্রথম সেশনে অস্ট্রেলিয়া যদি কোনো উইকেট না হারায় এবং ৬৭ রানের ঘাটতি মুছে ফেলতে পারে, তাহলে তাদের জয়ের সম্ভাবনা প্রায় ৩০ শতাংশে উঠে যেতে পারে।’

বল স্টাম্পে আঘাত করলেও নিশ্চিত আউট থেকে বাঁচলেন গ্রিন!

 ডারউইন টেস্টে ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই দাপট দেখাচ্ছে বাংলাদেশ। স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে চাপে রেখে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে টাইগাররা। তবে প্রতিপক্ষের জন্য যেন বারবার সহায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে ভাগ্য। কখনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি, আবার কখনো অল্পের জন্য উইকেট না পড়ায় রক্ষা পাচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা।
শনিবার (১৫ আগস্ট) অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে শুরুতেই তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে চাপ বাড়ায় বাংলাদেশ। তবে সেই সংখ্যা আরও বাড়তে পারত, যদি ভাগ্য সহায় না হতো ক্যামেরন গ্রিনের।

ইনিংসের ৩১তম ওভারে তাসকিন আহমেদের একটি ডেলিভারি গ্রিনের ব্যাটের কানায় লেগে স্টাম্প স্পর্শ করে। বলটি লেগ স্টাম্পে আঘাত করলেও বেলস ফেলে দেওয়ার মতো জোর ছিল না। ফলে নিশ্চিত বিপদ থেকেও রক্ষা পান অস্ট্রেলিয়ার এই অলরাউন্ডার।

পরবর্তীতে টেলিভিশন রিপ্লেতে দেখা যায়, বলটি সত্যিই স্টাম্পে স্পর্শ করেছিল। ঘটনাটি দেখে ধারাভাষ্যকক্ষে থাকা সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার অ্যালিসা হিলি মজার ছলে মন্তব্য করেন, ট্র্যাভিস হেড কি বেলসগুলোতে আঠা লাগিয়ে গিয়েছিল?

এর আগেও প্রথম ইনিংসে ভাগ্যের সহায়তা পেয়েছিলেন স্টিভেন স্মিথ। ইবাদত হোসেনের একটি ডেলিভারি স্মিথের ব্যাট ছুঁয়ে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের গ্লাভসে জমা হলেও আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা আউট দেননি। এরপর বাংলাদেশ রিভিউ নিলে আল্ট্রএজে কোনো স্পাইক দেখা যায়নি, ফলে সিদ্ধান্ত বদলানোর সুযোগও মেলেনি।

মজার বিষয় হলো, ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে স্মিথ নিজেই স্বীকার করেন যে তিনি বল ব্যাটে লাগার অনুভূতি পেয়েছিলেন। ফলে প্রযুক্তিগত ত্রুটি এবং ভাগ্যের সহায়তায় অস্ট্রেলিয়ার দুই ব্যাটারের বেঁচে যাওয়ার ঘটনা এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

Pin It