বাজেটের নীতি কাঠামো সুচিন্তিত, আর্থিক কাঠামো অতিরঞ্জিত

5-6a2b14c4ca188

নতুন সরকারের প্রথম বাজেট। নিঃসন্দেহে জনপ্রত্যাশা খুব বেশি। একইসঙ্গে বিদ্যমান অর্থনৈতিক সংকটকে বিবেচনায় রাখতে হবে। বাজেট প্রণয়নকালে অর্থমন্ত্রী যে দর্শনের কথা বলেছেন, বাজেটের ভেতরে তার কিছুটা প্রতিফলনের চেষ্টা ছিল। এর মধ্যে অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ন ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা অন্যতম। এক্ষেত্রে তিনি পদ্ধতি বেছে নিয়েছেন উদারীকরণ এবং বিনিয়ন্ত্রণ। বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যবসায় খরচ কমানোর উদ্যোগ আছে। আবার সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা বাড়ানোর কথা বলেছেন। বিনিয়োগের জন্য কর না বাড়ানোর কথা বলেছেন। সেই বিবেচনায় বলতে হয় সাম্প্রতিক সময়ে আমরা যেসব বাজেট দেখেছি, সেই তুলনায় এবারের বাজেটে অর্থনৈতিক দর্শন ও প্রতিফলন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে অর্থনৈতিক দর্শন বাস্তবায়নের জন্য আর্থিক ব্যবস্থাপনা দরকার। আর্থিক ব্যবস্থাপনার মধ্যে অন্যতম হলো সম্পদ সংগ্রহ। এক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে সম্পদ সংগ্রহের যে প্রাক্কলন করা হয়েছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। আবার এনবিআরের মাধ্যমে যে রাজস্ব আয় হচ্ছে, সেখানে ভ্যাট অর্থাৎ পরোক্ষ করের হার বেশি। এখানে এসে আমাদের হোঁচট খেতে হয়। কারণ মানবিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে হলে অবশ্যই প্রত্যক্ষ করের ভূমিকা বাড়বে। অর্থাৎ বিত্তশালীরা কর বেশি দেবেন। পাচার করা টাকা আদায় হবে। আমি এখানে আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেছিলাম।

দ্বিতীয়ত, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক সুরক্ষা খাতে তুলনামূলকভাবে বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সমস্যা হলো এই, যে বর্ধিত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তার অনেকগুলোর ক্ষেত্রেই দেখা গেছে থোক বরাদ্দ। এই থোক বরাদ্দ কীভাবে আগামীদিনে রক্ষিত হবে, সেটি পরিষ্কার নয়। একদিকে নীতির কথা বলা হয়েছে, অপরদিকে সেই নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অর্থ বরাদ্দ বা অর্থ সংগ্রহের ক্ষেত্রে আমরা কিছু কিছু বৈপরীত্য দেখতে পেয়েছি। ব্যয়ের ক্ষেত্রে আরও যেটা একটু বিশ্বাস সৃষ্টি করেছে, সেটা হলো সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন বৃদ্ধি করাটা প্রয়োজন। অনেকদিন তারা এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত। কিন্তু বেতন বৃদ্ধির জন্য স্বচ্ছভাবে অর্থ বরাদ্দ না করে থোক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এখন সেই থোক বরাদ্দের কারণে আবার সেই একই প্রশ্ন উঠবে।

শিক্ষক-ছাত্র, যুবসমাজকে প্রশিক্ষিত করা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে আধুনিক অর্থনীতি গড়ে তোলার পদক্ষেপ এসেছে। এগুলো ইতিবাচক। এছাড়াও মানবিক অর্থনীতি, বাণিজ্য উদারীকরণ এবং বিনিয়ন্ত্রণের কথা আছে। ডিজিটাল পদ্ধতি বা ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে জোর দেওয়া হয়েছে। এই জোরের ক্ষেত্রে সব উপাদান অর্থাৎ ইন্টারনেট সুবিধা ইন্টারনেটের দাম, কম্পিউটারের দাম এগুলোর ব্যাপারে আরও পরিষ্কারভাবে কিছু কর্মপরিকল্পনা থাকলে ভালো হতো।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

লেখক : বিশেষ ফেলো সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)

Pin It