অবসরে যেসব কাজ ফোন রাখবে দূরে

Screenshot 2026-07-28 013854

ফোনের পর্দার দিকে কাটাছে সময়, সঙ্গে হারাচ্ছে জীবনের সংযোগ আর কমছে মনোযোগ।

প্রযুক্তির জগতে অবসর মানেই হাতে ফোন। কাজের ফাঁকে, দুপুরের বিশ্রামে কিংবা ছুটির দিনেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, রিলিস, ভিডিও দেখে সময় কেটে যায়।

এতে মুহূর্তের বিনোদন মিললেও ধীরে ধীরে মনোযোগ কমে, সৃজনশীলতা হ্রাস পায় এবং বাস্তব জীবনের সঙ্গে যোগাযোগও কমতে থাকে।

মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সব সময় পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকার পরিবর্তে নতুন কোনো অভ্যাস গড়ে তোলা মানসিক প্রশান্তি দেয়। আর এমন কাজ ঘরের ভেতরেই করা সম্ভব।

যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদিত মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শক, লেখক এবং ‘মেন্ড উইথ মেয়ার’–এর প্রতিষ্ঠাতা মেরেডিথ বিয়ার্ডমোর এবং যুক্তরাষ্ট্রের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান অক্টেভ–এর অনুমোদিত মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ সামান্থা হিল এমন কয়েকটি অভ্যাসের কথা বলেছেন, যা মানুষকে ফোন থেকে দূরে রেখে আরও ইতিবাচক জীবনযাপনে সহায়তা করতে পারে।

হাতে লেখা একটি চিঠি

অনেকটা বছর আগে প্রিয়জনের সঙ্গে যোগাযোগের সৃজনশীল মাধ্যম ছিল হাতে লেখা চিঠি। এখন সেই জায়গা নিয়েছে ফোনের তাৎক্ষণিক বার্তা। তবে হাতে লেখা চিঠির আবেগ এখনও, অন্য যেকোনো যোগাযোগের চেয়ে আলাদা।

মেরেডিথ বিয়ার্ডমোর রিয়েলসিম্পল ডটকম-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেন, “হাতে লিখতে বসলে চিন্তার গতি ধীর হয়। এতে নিজের অনুভূতিগুলো আরও স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। অনেক দিনের জমে থাকা ধন্যবাদ, পুরোনো বন্ধুর জন্য বার্তা কিংবা হারিয়ে যাওয়া কোনো প্রিয় মানুষকে উদ্দেশ করে লেখা কয়েকটি বাক্যও মনকে অনেকটা হালকা করে দিতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “হাতে লেখা নিজের অনুভূতি বুঝতে সাহায্য করে। এমনকি চিঠির খাম নিজের হাতে সাজানো বা ছোট কোনো নকশা আঁকার মতো কাজও সৃজনশীলতার আনন্দ এনে দেয়।”

নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচয়

প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর নতুন বন্ধু তৈরি করা অনেকের কাছেই কঠিন মনে হয়। তবে একই আগ্রহের মানুষের সঙ্গে কোনো দলগত আড্ডা বা কোন কাজে অংশ নিলে সেই সংকোচ অনেকটাই কমে যায়।

সামান্থা হিলের মতে, “অনলাইনে যোগাযোগের সুবিধা থাকলেও মুখোমুখি আলাপের বিকল্প নেই। সামনাসামনি কথা বললে মুখের অভিব্যক্তি, চোখের ভাষা ও শরীরের অঙ্গভঙ্গি বোঝা যায়। এতে বিশ্বাস, আন্তরিকতা ও সম্পর্ক আরও সহজে তৈরি হয়।”

রান্না শেখা, মাটির কাজ, বই পড়ার আসর কিংবা কোনো সৃজনশীল কর্মশালায় অংশ নেওয়া নতুন কিছু শেখায়। একই সঙ্গে নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচয়ের সুযোগও তৈরি করে।

একা নিজের জন্য সময় কাটানো

একা কোথাও যেতে অস্বস্তি বোধ হয়? হয়ত মনে হয় অন্যরা লক্ষ করছে।

তবে এই বিশেষজ্ঞদের মতে, একা কোথাও সময় কাটানো আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য কার্যকর।

মেরেডিথ বিয়ার্ডমোর বলেন, “একা কোনো খাবারের জায়গায় বসা, কোনো প্রদর্শনী দেখা কিংবা নিজের পছন্দের জায়গায় সময় কাটানো প্রথমে অস্বস্তিকর লাগতে পারে। তবে ধীরে ধীরে নিজের সঙ্গও উপভোগ করা যায়।”

অর্থাৎ একা সময় কাটানো শেখায়, নিজের ভালো থাকার জন্য সব সময় অন্য কারও উপস্থিতি প্রয়োজন হয় না।

পরিচিত ধারা ছেড়ে নতুন ধরনের বই

একই ধরনের বই বারবার পড়তে পড়তে অনেক সময় আগ্রহ কমে যায়। তাই ভিন্ন ধরনের কোনো বই হাতে নেওয়া হতে পারে নতুন অভিজ্ঞতার শুরু।

সামান্থা হিল বলেন, “হাতে বই ধরে পড়ার একটি আলাদা মানসিক প্রভাব রয়েছে। বইয়ের পৃষ্ঠা উল্টানোর অভিজ্ঞতা বর্তমান মুহূর্তে ধরে রাখে। এতে মনোযোগ বাড়ে এবং চিন্তার জগৎও প্রসারিত হয়।”

নিয়মিত বই না পড়লেও প্রতিদিন একটি বা দুটি অধ্যায় পড়ার অভ্যাস করা যেতে পারে।

দক্ষ নন এমন কাজের চেষ্টা

মেরেডিথ বিয়ার্ডমোরের মতে, “নতুন কোনো বাদ্যযন্ত্র বাজানোর চেষ্টা, জলরংয়ে ছবি আঁকা, সূচিকর্ম শেখা কিংবা অন্য কোনো সৃজনশীল কাজ, শুরুতে কঠিন লাগতেই পারে। তবে এই অস্বস্তিই মানসিকভাবে আরও শক্ত অনুভব করায়।

Pin It