হত্যাচেষ্টা, ভাঙচুর, হামলা ও সরকারি কাজে বাধার অভিযোগে করা পৃথক দুই মামলায় সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। তবে তার বিরুদ্ধে আরও মামলা থাকায় আপাতত তিনি কারামুক্তি পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
রোববার (২ আগস্ট) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। চিন্ময় কৃষ্ণের জামিন প্রশ্নে ইতোপূর্বে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে আদালত এই সিদ্ধান্ত জানান।
আদালতে চিন্ময় দাসের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দা সাজিয়া শারমিন।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, হত্যাচেষ্টা এবং ভাঙচুরসহ সরকারি কাজে বাধার অভিযোগে করা পৃথক দুই মামলায় গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট চিন্ময় দাসের জামিন প্রশ্নে রুল জারি করেছিলেন। সেই রুলের ওপর গত ২৬ জুলাই শুনানি শেষে আদালত আজকের দিনটি রায়ের জন্য ধার্য করেছিলেন। আজ আদালত রুলটি ‘অ্যাবসলিউট’ (যথাযথ) ঘোষণা করায় ওই দুই মামলায় তার জামিন নিশ্চিত হয়।
রায়ের পর আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য গণমাধ্যমকে বলেন, চিন্ময় কৃষ্ণের বিরুদ্ধে মূলত ছয়টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম হত্যা মামলার বিচার ট্রাইব্যুনালে চলমান। এছাড়া রাষ্ট্রদ্রোহের একটি মামলায় তার জামিন বর্তমানে স্থগিত রয়েছে। বাকি চারটি মামলার মধ্যে আজ দুটিতে তিনি জামিন পেলেন। অবশিষ্ট দুই মামলায় জামিন প্রশ্নে রুল শুনানির জন্য আগামী ১৬ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন আদালত।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করেন তৎকালীন চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান। যদিও পরবর্তীতে ফিরোজ খানকে বিএনপি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ওই মামলায় ২৫ নভেম্বর ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় চিন্ময় দাসকে।
পরদিন ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রামে তার জামিন নামঞ্জুর হওয়াকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সময় আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় সাইফুলের বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা করেন। এ ছাড়াও ওই দিনের সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ এবং আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় আরও চারটি পৃথক মামলা করা হয়। এরপর থেকেই চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী কারাগারে রয়েছেন।




