১৪ বছরে সর্বনিম্ন বৈদেশিক ঋণের প্রতিশ্রুতি, বিপরীতে ঋণ পরিশোধে রেকর্ড

dollar-6873dace01e21-6a7f0245e53f2 (1)

গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে বৈদেশিক ঋণের প্রতিশ্রুতি পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অর্থবছরে বাংলাদেশ ৫.২৪৩ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক ঋণের প্রতিশ্রুতি পেয়েছে, যা গত ১৪ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

রোববার (২ আগস্ট) ইআরডি বৈদেশিক ঋণের হালনাগাদ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এর আগে ২০১১-১২ অর্থবছরে এর চেয়ে কম অর্থাৎ ৪.৭৬৪ বিলিয়ন ডলারের ঋণের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গিয়েছিল। এরপর আর কোনো অর্থবছরে প্রতিশ্রুতির পরিমাণ এতটা নিচে নামেনি। যদিও ২০১৪-১৫ অর্থবছরে প্রতিশ্রুত ঋণের পরিমাণ ছিল ৫.২৫৮ বিলিয়ন ডলার, যা সদ্য বিদায়ী অর্থবছরের প্রায় সমান।

প্রতিশ্রুতি কমলেও বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে নতুন রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ পরিমাণ ঋণ পরিশোধ করেছে। এ সময়ে পরিশোধিত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪.৪৯৪ বিলিয়ন ডলার। এর আগের অর্থবছরে ঋণ পরিশোধের এই পরিমাণ ছিল ৪.০৮৭ বিলিয়ন ডলার।

উল্লেখ্য, ইআরডি নিয়মিতভাবে উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে ঋণের এই প্রবাহ ও পরিশোধের তথ্য পর্যবেক্ষণ ও প্রকাশ করে থাকে।

দেশের বাজারে ডলারের দাম কমল

এক সপ্তাহের ব্যবধানে রেমিট্যান্সের ডলারের দাম ১ টাকা পর্যন্ত কমেছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দেশের বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক ব্যাংক ১২২.৭০ টাকা দরে ডলার কিনেছে। এর আগের সপ্তাহে রেমিট্যান্সের ডলারের দর ছিল ১২৩.৬০ থেকে ১২৩.৭০ টাকা।

রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ায় আমদানিকারকদের ঋণপত্র (এলসি) নিষ্পত্তির খরচও হ্রাস পাওয়ায় গতি এসেছে বাণিজ্যে।

বাজারে ডলারের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় আগামী সপ্তাহে এলসি নিষ্পত্তির ব্যয় আরও কমতে পারে, যা ব্যবসা-বাণিজ্যে আরও গতি সঞ্চার করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ডলারের দাম কমার পেছনে মূল কারণ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে নিট ওপেন পজিশন (এনওপি) দীর্ঘমেয়াদে নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমার কাছাকাছি থাকা। সহজ কথায়, ব্যাংকগুলোর কাছে বর্তমানে পর্যাপ্ত ডলার রয়েছে।

ফলে ব্যাংকগুলো যেমন চড়া দামে রেমিট্যান্স কিনতে আগ্রহী হচ্ছে না, তেমনি তাদের কাছে থাকা ডলার দ্রুত বিক্রি করতে ব্যবসায়ী গ্রুপগুলোকে তুলনামূলক কম দামে এলসি নিষ্পত্তির সুবিধা দিচ্ছে।

এদিকে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও ইতিবাচক ধারা দেখা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার দেশের মোট (গ্রস) রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়ায় ৩৭.০৬৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ (BPM6) হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩২.২৬০ বিলিয়ন ডলারে।

‎দেশের রিজার্ভ আরও বেড়েছে

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। একই সময়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাবপদ্ধতি বিপিএম৬ অনুযায়ী রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার।

‎‎বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, সোমবার দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ৩৬ হাজার ৯৬১ দশমিক ৯৫ মিলিয়ন ডলার। আর বিপিএম৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ৩২ হাজার ১৪৫ দশমিক ৯২ মিলিয়ন ডলার।

‎দুই হিসাবের মধ্যে ব্যবধান প্রায় ৪ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলার। গ্রস রিজার্ভে বিভিন্ন ধরনের সম্পদ ও দায়ের হিসাব অন্তর্ভুক্ত থাকলেও বিপিএম৬ পদ্ধতিতে আন্তর্জাতিকভাবে তুলনাযোগ্য ও ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভের হিসাব করা হয়। ফলে বৈদেশিক খাতের প্রকৃত সক্ষমতা মূল্যায়নে বিপিএম৬ হিসাবটি বেশি গুরুত্ব পায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১০ আগস্ট পর্যন্ত গ্রস রিজার্ভ ৩৬ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম৬ রিজার্ভ ৩২ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার। বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্থিতিশীলতা, রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং আমদানি ব্যয়ের চাপ— এই তিনটি বিষয় আগামী দিনে রিজার্ভের গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Pin It