বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হলেন রিজভী-আমান-ফরহাদ-জবিউল্লাহ

1786786897-b0286e2af2ed292804394fda1a63f047

সাংগঠনিক গতিশীলতা বৃদ্ধি ও দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চার নেতাকে জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি।

মনোনীত নেতারা হলেন– অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, মো. আমান উল্লাহ আমান, ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার ও মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

শনিবার (১৫ আগস্ট) বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

বার্তায় বলা হয়, দলের সাংগঠনিক গতিশীলতা বৃদ্ধি ও দলীয় সিদ্ধান্তের আলোকে উল্লিখিত চার নেতাকে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।

বিএনপির পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে, মনোনীত নেতারা তাদের মেধা, অভিজ্ঞতা ও বিচক্ষণতার মাধ্যমে সুচিন্তিত পরামর্শ দিয়ে দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

একইসঙ্গে দল ও জনগণের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে তারা অবদান রাখবেন বলে আশা করছে বিএনপি।

বুলেটের ক্ষত থেকে স্থায়ী কমিটিতে রিজভী, চার দশকের রাজনৈতিক পথচলায় নতুন মাইলফলক

বামপন্থি ছাত্র সংগঠন থেকে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তাল রাজপথ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা; দীর্ঘ সেই পথ পেরিয়ে এবার বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে জায়গা হলো অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদের।

শনিবার (১৫ আগস্ট) বিএনপির পক্ষ থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে রিজভীসহ চার নেতাকে জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত করার কথা জানানো হয়।

দলের সাংগঠনিক গতিশীলতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। রিজভীর এই নতুন দায়িত্বে পৌঁছানোর গল্পটি অবশ্য আজকের নয়।এর শিকড় বহু দশক আগের।

শৈশব ও শিক্ষাজীবন: কুড়িগ্রাম থেকে রাজশাহী

রুহুল কবির রিজভী আহমেদের জন্ম ঢাকার হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে।

তাঁর পৈতৃক নিবাস কুড়িগ্রামে। শৈশবে তিনি পড়াশোনা করেন বগুড়া জিলা স্কুল, কুড়িগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও বগুড়া বাংলা স্কুলে।
পরে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে রাজশাহী কলেজ ও রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজে অধ্যয়ন করেন।রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ভূগোল ও ইতিহাস, দুটি বিষয়ে স্নাতকোত্তর এবং আইন বিভাগ থেকে এলএলবি (আইন) ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে আইন পেশায় যুক্ত হয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেন। দীর্ঘ বিরতির পরও উচ্চশিক্ষার প্রতি আগ্রহ ধরে রাখেন তিনি। ২০২৩ সালে কারাগারে থাকা অবস্থায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলএম পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অনুমতি পেয়েছিলেন।

বামপন্থি আদর্শ থেকে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে

শিক্ষাজীবনের সেই পথই একসময় তাকে নিয়ে যায় রাজনীতির পথে। উচ্চমাধ্যমিকের পর বামপন্থি সংগঠন বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নের মাধ্যমে ছাত্ররাজনীতিতে প্রবেশ করেন রিজভী। সংগঠনটির রাজশাহী সরকারি কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি।

১৯৭৯ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল গঠিত হলে এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে রিজভী যোগ দেন ছাত্রদলে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে তিনি প্রথমে রাবি শাখা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক এবং পরে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

যে বুলেট মৃত্যুকে পরাজিত করেছিল

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রজীবনেই রিজভীর রাজনৈতিক জীবনে আসে সবচেয়ে ভয়াবহ অধ্যায়। ১৯৮৪ সালের ২২ ডিসেম্বর স্বৈরশাসক এরশাদবিরোধী আন্দোলন চলাকালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতিহার চত্বরে তিনি পেটে মারাত্মকভাবে গুলিবিদ্ধ হন। বুলেটের আঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে তার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর গায়েবানা জানাজাও অনুষ্ঠিত হয়। তবে অলৌকিকভাবে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসেন তিনি।

সেই বুলেটের ক্ষত দীর্ঘদিন তার শরীরে ছাপ রেখেছিল। পরবর্তীতে শারীরিক জটিলতার কারণে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশেও যেতে হয়েছে তাকে। তবে শারীরিক এই দুর্বলতা কখনোই তার রাজনৈতিক পথচলাকে থামাতে পারেনি।

রাকসুর ভিপি থেকে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি

গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরও থামেনি রিজভীর রাজনৈতিক পথচলা। ১৯৮৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে বিপুল ভোটে সহ-সভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন তিনি এবং ১৯৯০ সাল পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করেন। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে রাকসুর ভিপি হিসেবে রাজপথের সামনের সারিতে ছিলেন তিনি।

১৯৯২ সালের ১৬ মে সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত হন রিজভী। ওই কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক হন এম ইলিয়াস আলী। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সেই অধ্যায় শেষ করে তিনি ধীরে ধীরে বিএনপির মূল রাজনীতিতে প্রবেশ করেন।

কর্মজীবন: আইন পেশা ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব

শুধু রাজনীতি নয়, পেশাগত জীবনেও রিজভীর পরিচয় রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি বিভিন্ন সময় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। তিনি রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) চেয়ারম্যান এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

বিএনপির মূল রাজনীতিতে উত্থান

ছাত্ররাজনীতির সেই অধ্যায় পেরিয়ে রিজভী ধীরে ধীরে বিএনপির মূল রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন। ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটিতে যুগ্ম মহাসচিব ও দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসেবে কাজ করেন। এই সময় থেকেই নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, সাংগঠনিক যোগাযোগ এবং গণমাধ্যমে বিএনপির বক্তব্য তুলে ধরার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।

২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের পর তিনি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন। একইসঙ্গে দীর্ঘদিন দলের দফতরের দায়িত্বও পালন করেন। ফলে নয়াপল্টন কার্যালয় এবং রিজভীর নাম কার্যত সমার্থক হয়ে ওঠে। দলের কঠিন সময়গুলোতেও কেন্দ্রীয় কার্যালয়কেন্দ্রিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন তিনি।

২০২৬ সালেও তার দায়িত্বের পরিধি আরও বাড়ে। বছরের শুরুতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পান তিনি। পরবর্তীতে সরকারি দায়িত্বেও যুক্ত হন এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সরকারের মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পান।

অবশেষে শনিবার (১৫ আগস্ট) বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নের রাজশাহী সরকারি কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক থেকে শুরু করে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি, রাকসুর ভিপি, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব, দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার পর রিজভী জায়গা করে নিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে।

ছাত্রদল থেকে বিএনপির স্থায়ী কমিটি: আমানউল্লাহ আমানের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য পদে মনোনীত হয়েছেন ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য আমানউল্লাহ আমান।

ছাত্ররাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতিতে

ঢাকার কেরানীগঞ্জের হযরতপুর ইউনিয়নে ২৫ জানুয়ারি ১৯৬২ সালে জন্মগ্রহণ করেন আমানউল্লাহ আমান। তার পিতা মেঘু মিয়া এবং মা করিমন নেসা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সময়ই তিনি রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মাধ্যমে আমানউল্লাহ আমানের রাজনৈতিক পথচলা শুরু। ছাত্রজীবনেই তিনি নেতৃত্বের দক্ষতার পরিচয় দেন। ১৯৯০-এর দশকে স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদবিরোধী গণআন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ছাত্র ও সাধারণ জনগণকে সংগঠিত করার মধ্য দিয়ে ওই আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ছিলেন।

১৯৯০-৯১ শিক্ষাবর্ষে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি নির্বাচিত হন। ডাকসুর এই নেতৃত্বের মধ্য দিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে তার অবস্থান আরও সুদৃঢ় হয়।

প্রথম বার সংসদ সদস্য

ছাত্ররাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশের পর ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আমানউল্লাহ আমান। ওই নির্বাচনে তিনি ৯৭ হাজার ২৯৯ ভোট পেয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোস্তফা মোহসিন মন্টুকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

নির্বাচনি রাজনীতিতে তার ধারাবাহিক সাফল্যের কারণে পরবর্তী সময়েও তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকেন এবং তার রাজনৈতিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী হয়।

প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে

১৯৯১ সালের নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করলে আমানউল্লাহ আমানকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করা হয়। এ দায়িত্বে থাকাকালে তিনি জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে বিভিন্ন নীতি ও কার্যক্রমে ভূমিকা রাখেন।

২০০১ সালে বিএনপি পুনরায় সরকার গঠন করলে তিনি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন। দুই দফায় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে তিনি প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

প্রতিকূলতার মধ্যেও দলে সক্রিয়

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা রাজনৈতিক চাপ, জেল-জুলুম ও ব্যক্তিগত প্রতিকূলতার মুখোমুখি হলেও তিনি দলের আদর্শ ও নীতির প্রতি অটল ছিলেন। গত ১৭ বছরে, বিশেষ করে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েও বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন তিনি। এ সময়ে দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আস্থাও অর্জন করেন।

কেরানীগঞ্জে আমানউল্লাহ আমানের রাজনৈতিক প্রভাব দীর্ঘদিনের। স্থানীয় মানুষের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ এবং বিভিন্ন সংকটের সময় পাশে থাকার কারণে এলাকায় তার একটি শক্তিশালী জনভিত্তি তৈরি হয়েছে।

কেরানীগঞ্জে শক্ত অবস্থান

আমানউল্লাহ আমানের রাজনৈতিক প্রভাব শুধু নির্বাচনি সাফল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কেরানীগঞ্জকে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আধুনিক ও উন্নত নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি বিভিন্ন সময়ে কাজ করেছেন। স্থানীয় মানুষের সঙ্গে তার যোগাযোগ, সহানুভূতি ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড তাকে কেরানীগঞ্জের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে এসেছে।

চলতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি ঢাকা-২ আসন থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচিত হন। এখন পর্যন্ত কোনো নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে তিনি পরাজিত হননি। তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ভিত্তি ও জনপ্রিয়তার কারণে কেরানীগঞ্জে তার শক্ত অবস্থান রয়েছে।

দলীয় নেতৃত্বে নতুন দায়িত্ব

রাজনৈতিক জীবনে সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন আমানউল্লাহ আমান। এর আগে বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়কের দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি।

ছাত্র আন্দোলন থেকে সংসদীয় রাজনীতি, সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে দলীয় গুরুত্বপূর্ণ পদ—দীর্ঘ এই রাজনৈতিক পথচলায় আমানউল্লাহ আমান বিএনপির রাজনীতিতে একটি পরিচিত মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।

ব্যক্তিজীবন

রাজনীতির বাইরে আমানউল্লাহ আমানকে সজ্জন, ও আদর্শবান ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তিনি বিবাহিত। তার স্ত্রী সাবেরা আমান। তারা বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতা ও পরিবর্তনের মধ্যেও আমানউল্লাহ আমান বিএনপির নীতি ও আদর্শের সঙ্গে থেকেছেন। জনসম্পৃক্ততা, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে তার অন্তর্ভুক্তি দলীয় রাজনীতিতে নতুন দায়িত্ব ও গুরুত্বের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

পেশাজীবী নেতা থেকে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে ফরহাদ হালিম

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে সাধারণত দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় নেতারাই স্থান পান। তবে এবার সেই ছক ভেঙে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে জায়গা করে নিয়েছেন প্রখ্যাত ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ও পেশাজীবী নেতা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার।

মূলধারার রাজনীতিতে খুব একটা সরব না থাকলেও দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নেপথ্যে থেকে ভূমিকা রেখেছেন তিনি।

পেশাগত জীবনে ফরহাদ হালিম একজন স্বনামধন্য চিকিৎসক এবং ক্যানসার বিশেষজ্ঞ।

দেশের ক্যানসার চিকিৎসা, চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণায় তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তিনি জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের প্রথম প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

দেশে আধুনিক ক্যানসার চিকিৎসার প্রসারে তার ভূমিকা সর্বজনস্বীকৃত।চিকিৎসা পেশার পাশাপাশি পেশাজীবী সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সঙ্গে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত।

ড্যাবের সাবেক আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পর বর্তমানে সংগঠনটির প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন তিনি।

পেশাগত পরিচয়ের আড়ালে বিএনপির রাজনীতিতেও ফরহাদ হালিম সমানভাবে সক্রিয়। তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক হিসেবেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও সাংগঠনিক দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে গঠিত বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটিরও অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি।

উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রেও ফরহাদ হালিম প্রজ্ঞার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। চলতি বছরের জুলাইয়ে তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পেশাজীবী সংগঠনের সফল নেতৃত্ব, নির্বাচন পরিচালনায় দক্ষতা এবং দলের নীতিনির্ধারণী কাজে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততার অভিজ্ঞতাই তাকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় স্থান করে দিয়েছে।

ইসমাইল জবিউল্লাহ: আমলা থেকে বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে

ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে সদ্য নিয়োগ পেয়েছেন সাবেক সচিব মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও দলের প্রতি একনিষ্ঠতার স্বীকৃতিস্বরূপ শীর্ষ এই ফোরামে স্থান করে নিয়েছেন তিনি।

মূলধারার রাজনীতিতে আগে খুব বেশি দৃশ্যমান না থাকলেও কীভাবে তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে এলেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে কৌতূহল।

ইসমাইল জবিউল্লাহর গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নে।

সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও বিভাগে সচিব হিসেবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের এক বর্ণাঢ্য অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।

২০০৫ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের আমলে তিনি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়াও তিনি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবেও নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন।

রাজনীতিতে সক্রিয়তা ও দলের প্রতি বিশ্বস্ততা

চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার পর বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত হন সাবেক এই আমলা।

দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। স্থায়ী কমিটিতে জায়গা পাওয়ার আগে তিনি দলের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবেও তিনি পর্দার আড়ালে থেকে কাজ করেছেন।

দলীয় সূত্র জানায়, প্রশাসনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার সমন্বয়ের কারণেই বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন ইসমাইল জবিউল্লাহ। বর্তমানে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের পূর্ণমন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।

Pin It