ইত্যাদি এবার জামালপুরে, যা থাকছে আসন্ন পর্বে

Screenshot 2026-09-20 032344

দর্শকনন্দিত ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র এবারের পর্ব ধারণ করা হয়েছে সীমান্তবর্তী জেলা জামালপুরে। অনুষ্ঠানের মূল মঞ্চটি নির্মাণ করা হয়ে বকশীগঞ্জ উপজেলার গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত সবুজ বনানী ও নৈসর্গিক লেক পরিবেষ্টিত ‘লাউচাপড়া অবসর বিনোদন কেন্দ্রের উন্মুক্ত চত্বরে’।

ইত্যাদির ধারণকে ঘিরে পুরো জামালপুর জেলাজুড়েই ছিল উৎসবের আবহ। বরাবরের মতোই স্থানীয় জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানেই দর্শকদের মাঝে বিতরণ করা হয় অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র।

সাধারণত রাতের আলোকিত মঞ্চে ‘ইত্যাদি’ ধারণ করা হলেও, মেঘালয় সীমান্তঘেঁষা লাউচাপড়ার নয়নাভিরাম সৌন্দর্য তুলে ধরতে এবার দিনের আলোতেই ধারণ শুরু হয়।
দেখতে দেখতে নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই পুরো প্রাঙ্গণ দর্শকে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে।

অনুষ্ঠানটি বকশীগঞ্জে আয়োজিত হলেও শুধু এই উপজেলাই নয়, জেলার দূর-দূরান্তের বিভিন্ন উপজেলা, এমনকি পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকেও নানা বয়সের হাজারো মানুষ ছুটে আসেন তাদের প্রিয় এই অনুষ্ঠান উপভোগ করতে।
গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি কিংবা ভ্যাপসা গরমের অস্বস্তি- কোনো কিছুই দমাতে পারেনি দর্শকদের এই বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস ও বিপুল উদ্দীপনাকে।

ধারণক্ষমতার চেয়ে বহুগুণ বেশি দর্শক উপস্থিত হওয়ায় কেউ গাছে উঠে, কেউবা পাহাড়ের চূড়ায় বসে উপভোগ করেছেন ধারণ অনুষ্ঠান।

এবারের পর্বে থাকছে দুটি ভিন্ন ধরণের গান। এর একটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন শ্রোতাপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী পান্থ কানাই ও তসিবা বেগম, টেলিভিশন পর্দায় যাদের প্রথম আবির্ভাব ঘটেছিল ইত্যাদির মাধ্যমেই। লিটন অধিকারী রিন্টুর কথায় গানটির সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন সুমন কল্যাণ।

বরাবরের মতো এবারও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে জেলা পরিচিতিমূলক নৃত্যগীত। দ্বৈতকণ্ঠে গেয়েছেন মিজান মাহমুদ রাজীব ও সিঁথি সাহা। যাদের বাড়িও এই জামালপুরে। মনিরুজ্জামান পলাশের কথায় গানটির সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন উজ্জ্বল সিনহা। এস কে জাহিদের মনোমুগ্ধকর নৃত্য পরিচালনায় এই গানটির সঙ্গে স্থানীয় বাঙালি ও গারো নৃত্য পরিবেশনা পুরো মঞ্চকে প্রাণবন্ত করে তোলে। উপস্থিত হাজারো দর্শক করতালি আর উচ্ছ্বাসে গান দুটি উপভোগ করেন।

‘ইত্যাদি’র নিয়মিত আয়োজন দর্শকপর্বের প্রথা অনুযায়ী, ধারণস্থান জামালপুরকে কেন্দ্র করে করা প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে উপস্থিত দর্শকের মধ্য থেকে নির্বাচিত করা হয় চারজন দর্শককে। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে মনোনীত এই দর্শকরা জামালপুরের চারজন স্মরণীয়-বরণীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের কালজয়ী চারটি গানের অংশবিশেষ পরিবেশন করেন, যা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধতায় ভরিয়ে দেয়।

‘ইত্যাদি’র নিয়মিত পর্বগুলোর মতো এবারও থাকছে বেশ কিছু তথ্যবহুল ও হৃদয়স্পর্শী প্রতিবেদন। জামালপুরের অর্থনীতি ও সংস্কৃতির অনন্য প্রতীক ‘নকশিকাঁথা’ এবং ঐতিহ্যবাহী খাবার ‘মিল্লি বা পিঠালি’র ওপর বিশেষ প্রতিবেদনের পাশাপাশি জামালপুর জেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদের ওপর একটি তথ্যভিত্তিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

দেশের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহত্তম জামালপুরের ‘তুলসীপুর ঘোড়ার হাট’-এর ওপর রয়েছে একটি ভিন্নধর্মী প্রতিবেদন। জামালপুরে নদীভাঙনে বাস্তুচ্যুত পরিবার, অভাবের তাড়নায় বাল্যবিবাহের ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার-এসব নিয়ে রয়েছে একটি মানবিক প্রতিবেদন। এছাড়া জামালপুরের জন্ম নেওয়া চারজন কালজয়ী গুণী ব্যক্তিত্বের অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হয়েছে।

সবশেষে, শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে নিজেদের পরিশ্রমে স্বাবলম্বী হওয়া ফেরদৌস হাসান বাপ্পী ও ওসনাই খাতুন দম্পতির অদম্য জীবনসংগ্রামের গল্প নিয়ে থাকছে এক অনুপ্রেরণাদায়ক মানবিক প্রতিবেদন।

এবারের বিদেশি প্রতিবেদন পর্বে থাকছে প্রাচীন ঐতিহ্য ও আধুনিক প্রযুক্তির অপূর্ব মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা চীনের নয়নাভিরাম ‘সুঝৌ’ সিটির ওপর একটি বিশেষ চিত্রায়ন।

থাকছে কাশেম টিভির রিপোর্টার এবং নাতির প্রাণবন্ত আলাপ। এছাড়াও ইত্যাদির নিয়মিত আয়োজন চিঠিপত্র পর্ব ছাড়াও রয়েছে বেশ কিছু সামাজিক অসংগতি ও সমসাময়িক প্রসঙ্গনির্ভর তীক্ষ্ণ ও তীর্যক নাট্যাংশ। স্বল্প প্রাণ ভাইরাল গান, ডিজিটাল ট্রলের ট্রমা, ভক্তের অন্ধ ভক্তি, ফাঁপা পূর্তির ফূর্তি, সম্মান দিলে সম্মান মিলে, অনলাইন সোলজার, তৈল বিদ্যা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, লাইভ টকের ঝুঁকি, পরজীবী মানুষসহ বেশ কয়েকটি নাট্যাংশ।

এবারের ইত্যাদিতে উল্লেখযোগ্য শিল্পীরা হলেন- সোলায়মান খোকা, মীর নাসিমুল ইসলাম সেলিম, সুভাশিষ ভৌমিক, আবদুল্লাহ রানা, আব্দুল আজিজ, জিল্লুর রহমান, আমিন আজাদ, আনন্দ খালেদ, মুকিত জাকারিয়া, সুমন পাটোয়ারী, সাইদুর রহমান পাভেল, আশরাফুল আলম সোহাগ, এমএনইউ রাজু, আনোয়ার শাহী, তারিক স্বপন, মুকুল সিরাজ, সুজাত শিমুল, আবু হেনা রনি, সুর্বনা মজুমদার, সাবরিনা নিসা, নূরে আলম নয়ন, সাজ্জাদ সাজু, রাজিব সালেহীন, নিপু, মিরাজ, নজরুল ইসলাম, আনোয়ারুল আলম সজল, বেলাল আহমেদ মুরাদসহ আরো অনেকে।

বরাবরের মত এবারও ইত্যাদির শিল্প নির্দেশনা ও মঞ্চ পরিকল্পনায় ছিলেন ইত্যাদির নিয়মিত শিল্প নির্দেশক মুকিমুল আনোয়ার মুকিম। পরিচালকের সহকারী হিসাবে ছিলেন যথারীতি রানা সরকার ও মোহাম্মদ মামুন।

ইত্যাদির এই পর্বটি আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর প্রচারিত হবে বাংলাদেশ টেলিভিশনে। ইত্যাদি রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত। নির্মাণ করেছে ফাগুন অডিও ভিশন। ইত্যাদি স্পন্সর করেছে যথারীতি কেয়া কসমেটিকস লিমিটেড।

Pin It