চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশের জনশক্তি রপ্তানি খাতে বড় ধাক্কা লেগেছে। এ সময়ে জনশক্তি রপ্তানি কমেছে প্রায় ২৮ শতাংশ।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে কর্মীদের বিদেশ গমনে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হওয়ায় জনশক্তি রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে ধারণা করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
অথচ চলতি ২০২৬ সালের একই সময়ে এ সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৬৬৭ জনে। আলোচ্য সময়ে আগের থেকে বিদেশে কাজের জন্য ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩৭০ জন কর্মী কম গেছেন।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির প্রধান বাজার মধ্যপ্রাচ্য।
জনশক্তি রপ্তানি খাতের ব্যবসায়ীরা জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব শুধু তাৎক্ষণিক নয়, দীর্ঘমেয়াদেও এর নেতিবাচক প্রভাব থাকতে পারে।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, জানুয়ারি-জুন মেয়াদের ঘাটতির বড় অংশই তৈরি হয়েছে সংঘাত শুরুর পরবর্তী সময়ে। চলতি বছরের মার্চ-জুন—এই চার মাসে দেশ থেকে বিদেশে গেছেন ২ লাখ ৪ হাজার ৯৪১ জন কর্মী। অথচ আগের বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৪৭ জন। অর্থাৎ, এই চার মাসেই জনশক্তি রপ্তানি কমেছে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৮০৬ জন।
সংঘাত চলাকালে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি এবং বিমান চলাচলে বিঘ্নের কারণে কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। এ সময় সংঘাতে ছয়জন প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত হন।
মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশের প্রধান শ্রমবাজার দীর্ঘ সময় কার্যত স্থবির থাকায় জনশক্তি রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) সহসভাপতি মোহাম্মদ আবু জাফর।
তিনি বলেন, চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়েছে সৌদি আরবে কর্মী পাঠানোর ওপর। যুদ্ধের কারণে দেশটিতে নতুন ভিসা ইস্যু উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এমনকি যেসব ভিসা ইস্যু হয়েছিল, তারও অনেকগুলো বাতিল করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের কারণেই জনশক্তি রপ্তানি কমেছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের জন্য দুবাই ও ওমানের শ্রমবাজারও এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি। সব মিলিয়ে বিদেশে কর্মী পাঠানো কমে গেছে।’
সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে যে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে, তার ইঙ্গিত আগেই পাওয়া গিয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আবু জাফর বলেন, যুদ্ধের কারণে সৌদি আরবে ভিসা ইস্যু কমে যায়। অনেক ক্ষেত্রে অনুমোদিত ভিসাও বাতিল করা হয়।
পরিস্থিতির উন্নতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ হয়ে স্থিতিশীলতা ফিরলে জনশক্তি রপ্তানিও স্বাভাবিক হবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত প্রসঙ্গে আবু জাফর বলেন, ইরানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সামরিক উত্তেজনার প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে ঘিরে বিস্তৃত হয়েছে। এসব ঘটনার কারণে সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে শ্রমবাজারেও।
আবু জাফর বলেন, এখন পর্যন্ত কেবল যুদ্ধবিরতির মতো একটি সমঝোতা হয়েছে। চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি হয়নি। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়েছে—এমনটি বলার সুযোগ এখনো নেই। তাই আগামী কয়েক মাসেও জনশক্তি রপ্তানিতে এর প্রভাব অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করেন তিনি।




