নবম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি

Screenshot 2026-09-20 023515

দীর্ঘ ১১ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন-ভাতার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। শনিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে নতুন বেতন কাঠামোর নাম ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ দেওয়া হয়েছে। নতুন কাঠামো ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে। তবে একবারে পুরো বেতন হাতে পাবেন না সরকারি চাকরিজীবীরা। গ্রেড ভেদে তিন ধাপে বাড়বে মূল বেতন। আর নতুন হারে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, যাতায়াতসহ অন্যান্য ভাতার পূর্ণ সুবিধা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী নতুন কাঠামোতে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাচ্ছেন নিচের গ্রেডের চাকরিজীবীরা। ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২০ হাজার টাকা। আর প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। নতুন পে-স্কেল কার্যকরের তারিখ থেকে বকেয়া অর্থ সেপ্টেম্বরের বেতনের সঙ্গে পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা। এর আগে ৩১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর বেতন-ভাতাদি সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হলো।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী-সর্বনিম্ন গ্রেডে বেতন বৃদ্ধির হার ১৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডে ১০০ শতাংশ। তবে প্রজ্ঞাপন জারির পর সামনে এসেছে নতুন বাস্তবতা-বেতন বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারকে এখন বিশাল অঙ্কের স্থায়ী ব্যয়ের অর্থসংস্থান করতে হবে। বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী-পুরো পে-স্কেল বাস্তবায়নে বেতন, ভাতা ও পেনশন মিলিয়ে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা হতে পারে। নতুন মূল বেতনের সঙ্গে ভবিষ্যতের বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, পেনশন, বিভিন্ন ভাতা এবং অবসর-সুবিধার ব্যয়ও বাড়বে। ফলে রাজস্ব আয় না বাড়লে সরকারের পরিচালন ব্যয়ের চাপ বাড়তে পারে। উন্নয়ন ব্যয় সংকুচিত করা অথবা অতিরিক্ত ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ানোর ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। ফলে রাজস্ব আয় বাড়ানো, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারি ব্যয়ের অগ্রাধিকার ঠিক রাখাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। এর সঙ্গে নতুন করে বেসরকারি খাত চাপে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা বাড়ায় ইতোমধ্যে বেসরকারি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বেতন-ভাতা বাড়ানোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ায় সেবার মান বৃদ্ধি ও দুর্নীতি কমবে কিনা সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান নতুন পে-স্কেলকে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তবে তিনি জবাবদিহি ও সম্পদ বিবরণীর ওপর জোর দিয়েছেন। তার মতে, সরকারি কর্মচারী এবং তাদের পরিবারের নির্ভরশীল সদস্যদের আয়-ব্যয় ও সম্পদের হিসাব প্রতিবছর হালনাগাদ ও প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা উচিত। নতুন পে-স্কেলের সুবিধাকে বার্ষিক সম্পদ বিবরণী প্রকাশের সঙ্গে যুক্ত করার দাবি জানিয়েছে টিআইবি। নবম পে-স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের বিষয়টি ইতিবাচক হিসাবে দেখা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে সাবেক অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ বলেন, ধাপে ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত ইতিবাচক। পর্যায়ক্রমে বেতন বাড়ালে সরকারের অর্থ ব্যবস্থাপনার ওপর চাপ কিছুটা কম থাকবে। তার পরামর্শ-পে-স্কেল বাস্তবায়নের পাশাপাশি উৎপাদন ও বিনিয়োগ বাড়াতে হবে এবং রাজস্ব আহরণ জোরদার করতে হবে।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়া নিচের গ্রেডের কর্মচারীদের বড় হারে বেতন বৃদ্ধির পক্ষে মত দিয়েছেন। তিনি বলেন, নিচের গ্রেডের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় ও আর্থিক চাপ বেশি হওয়ায় তাদের বেতন সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বলেন, অতীতে আকর্ষণীয় পে-স্কেল দেওয়া হলেও দুর্নীতি বন্ধ হয়নি। তার মতে, বেতন বৃদ্ধি এবং দুর্নীতি হ্রাসের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক নেই। দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারি চাকরি আইন, শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালাসহ প্রশাসনিক ও আইনি সংস্কারও জরুরি।

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুন সতর্ক করে বলেন, বেতন বৃদ্ধির সঙ্গে বাজারে পণ্য ও সেবার সরবরাহ একই হারে না বাড়লে অতিরিক্ত চাহিদা মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। তিনি বলেন, তবে নতুন পে-স্কেলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক যৌক্তিকতা রয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মচারীদের আয় সমন্বয়ের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বেতন বাড়লেই মূল্যস্ফীতি অনিবার্যভাবে বেড়ে যাবে-এমন সরল সিদ্ধান্তও ঠিক নয়। এর প্রভাব নির্ভর করবে অর্থের সংস্থান, পণ্যের সরবরাহ, রাজস্ব ও মুদ্রানীতির সমন্বয়ের ওপর। তিনি বলেন, পে-স্কেল পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হওয়ায় চাহিদার বাড়তি চাপও একবারে আসবে না।

প্রথম ধাপে কত পাবেন, কোন গ্রেডে কত বাড়ল : প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী-১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের নতুন কাঠামোয় যে পরিমাণ মূল বেতন বাড়ছে-তার ৪০ শতাংশ পাবেন কর্মকর্তারা। আর ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পাবেন ৫০ শতাংশ। এ বাড়তি অর্থ ৩০ জুন আহরিত বা প্রাপ্য বেতনের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। এরপর ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত দ্বিতীয় ধাপে নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের জন্য বাড়তি মূল বেতনের ৭০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের জন্য ৭৫ শতাংশ কার্যকর হবে। ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে সবাই নতুন কাঠামোর শতভাগ মূল বেতন পাবেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও সমমর্যাদার পদে বেতন হবে ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা (নির্ধারিত মানে মূল বেতন এটিই থাকবে)। এত দিন তাদের মূল বেতন ছিল ৮৬ হাজার টাকা। এছাড়া সিনিয়র সচিব ও সমমর্যাদার পদের বেতন হবে ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। এত দিন পেতেন ৮২ হাজার টাকা।

অন্যদিকে গ্রেড-১-এ প্রারম্ভিক মূল বেতন ৭৮ হাজার থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা; গ্রেড-২-এ ৬৬ হাজার থেকে বেড়ে ১ লাখ ৩২ হাজার; গ্রেড-৩-এ ৫৬ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা এবং গ্রেড-৪-এ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করা হয়েছে। এভাবে ২০টি গ্রেডে বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে গ্রেড-৫-এ ৪৩ হাজার থেকে বেড়ে ৮৬ হাজার টাকা; গ্রেড-৬-এ ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ৭১ হাজার টাকা, গ্রেড-৭-এ ২৯ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৫৮ হাজার টাকা; গ্রেড-৮-এ ২৩ হাজার থেকে বেড়ে ৪৬ হাজার টাকা; গ্রেড-৯-এ ২২ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৪৪ হাজার টাকা এবং গ্রেড-১০-এ ১৬ হাজার থেকে বেড়ে ৩২ হাজার টাকা করা হয়েছে। গ্রেড-১১-এ প্রারম্ভিক মূল বেতন ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে দ্বিগুণ হয়ে ২৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। গ্রেড-১২-এ ১১ হাজার ৩০০ থেকে বেড়ে ২৪ হাজার ৩০০ টাকা; গ্রেড-১৩-এ ১১ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ২৪ হাজার টাকা; গ্রেড-১৪-এ ১০ হাজার ২০০ টাকা থেকে বেড়ে ২৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং গ্রেড-১৫-এ ৯ হাজার ৭০০ থেকে বেড়ে ২২ হাজার ৮০০ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া গ্রেড-১৬-এ ৯ হাজার ৩০০ থেকে ২১ হাজার ৯০০ টাকা, গ্রেড-১৭-এ ৯ হাজার টাকা থেকে ২১ হাজার ৪০০ টাকা; গ্রেড-১৮-এ ৮ হাজার ৮০০ থেকে ২১ হাজার টাকা; গ্রেড-১৯-এ ৮ হাজার ৫০০ থেকে ২০ হাজার ৫০০ টাকা এবং গ্রেড-২০-এ ৮ হাজার ২৫০ থেকে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে।

ভাতা মিলবে আরও পরে : নতুন পে-স্কেলের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো-মূল বেতন পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার পরও বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, যাতায়াতসহ বিভিন্ন ভাতা নতুন হারে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। এসব ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন কাঠামোয় কার্যকর হবে। নতুন কাঠামোয় বাড়িভাড়ার হারও গ্রেড ও কর্মস্থল ভেদে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৬-২০ গ্রেডের চাকরিজীবীরা মূল বেতনের ৬০ শতাংশ, ১০-১৫ গ্রেডে ৫০ শতাংশ, ৫-৯ গ্রেডে ৪৫ শতাংশ এবং ১-৪ ও তদূর্ধ্ব গ্রেডে ৪০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া পাবেন। অর্থাৎ কিছু ক্ষেত্রে শতাংশের হার আগের তুলনায় কমলেও মূল বেতন অনেকটা বাড়ায় টাকার অঙ্কে বাড়িভাড়া আগের চেয়ে বেশি হতে পারে। নতুন কাঠামোয় বাংলা নববর্ষ ভাতার হারও ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। তবে মূল বেতন বাড়ায় সামগ্রিক প্রাপ্তির হিসাব গ্রেড ও ভাতার ধরন অনুযায়ী আলাদা হবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়-খুলনা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, রংপুর, গাজীপুর, ময়মনসিংহ ও বগুড়া সিটি করপোরেশন এবং সাভার ও কক্সবাজার পৌর এলাকার জন্য বাড়িভাড়ার হার কিছুটা কম। এসব এলাকায় গ্রেড-২০-এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড-১৬-এর সর্বোচ্চ ধাপ পর্যন্ত বেতন পাওয়া চাকরিজীবীরা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া পাবেন। একই এলাকায় গ্রেড-১৫-এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড-১০-এর সর্বোচ্চ ধাপ পর্যন্ত বেতন পাওয়া চাকরিজীবীরা পাবেন ৪০ শতাংশ, গ্রেড-৯-এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড-৫-এর সর্বোচ্চ ধাপ পর্যন্ত বেতন পাওয়া চাকরিজীবীরা পাবেন ৩৫ শতাংশ এবং গ্রেড-৪-এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড-১ ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের চাকরিজীবীরা পাবেন মূল বেতনের ৩০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া। অন্যান্য এলাকার জন্য গ্রেড-২০-এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড-১৬-এর সর্বোচ্চ ধাপ পর্যন্ত বেতন পাওয়া চাকরিজীবীরা মূল বেতনের ৪৫ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া পাবেন। গ্রেড-১৫-এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড-১০-এর সর্বোচ্চ ধাপ পর্যন্ত বেতন পাওয়া চাকরিজীবীরা পাবেন ৩৫ শতাংশ হারে। এ ছাড়া গ্রেড-৯-এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড-৫-এর সর্বোচ্চ ধাপ পর্যন্ত বেতন পাওয়া চাকরিজীবীরা ৩০ শতাংশ এবং গ্রেড-৪-এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড-১ ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের চাকরিজীবীরা মূল বেতনের ২৫ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া পাবেন।

এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা নেই : নতুন পে-স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তবে পেনশনভোগীরা পর্যায়ক্রমে বর্ধিত নিট পেনশন পাবেন। এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা এতদিন সরকারের কাছ থেকে মূল বেতনের পাশাপাশি মাসে ১ হাজার টাকা বাড়িভাড়া ও ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পেয়ে আসছিলেন। সম্প্রতি আন্দোলনের মুখে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ভাতা মূল বেতনের ১৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

পেনশন বাড়ছে পাঁচ ধাপে : অবসরে যাওয়া পেনশনভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশন বাড়ছে পাঁচ ধাপে। ফলে যেসব পেনশনভোগী দীর্ঘদিন আগে অবসরে গেছেন ও তুলনামূলক কম পেনশন পাচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রে পেনশন বাড়ার পরিমাণ বেশি হবে। বর্তমানে সর্বনিম্ন পর্যায়ের যারা ৯ হাজার টাকা পেনশন পান তারা পাবেন ১৮ হাজার টাকা। আর বর্তমানে সর্বোচ্চ যারা মাসে ৪০ হাজার ১ টাকা থেকে তার বেশি পেনশন পান তারা পাবেন ৭০ হাজার ২০০ টাকা। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী-মাসে ৯ হাজার টাকা বা তার কম নিট পেনশন গ্রহণকারীদের পেনশন ১০০ শতাংশ, ৯ হাজার ১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশন গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ, ২০ হাজার ১ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশন গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে ৬৫ শতাংশ, ৩০ হাজার ১ টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত গ্রহণকারীদের ৬০ শতাংশ আর ৪০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি নিট পেনশন গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে নিট পেনশন বাড়বে ৫৫ শতাংশ। সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানান, নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী বর্তমান সরকার ‘এক গ্রেড এক পেনশন (ওয়ান র‌্যাংক ওয়ান পেনশন-ওআরওপি)’ পদ্ধতি চালুর বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ পদ্ধতি সামরিক ও বেসামরিক-সব ক্ষেত্রে একইসঙ্গে বাস্তবায়ন হওয়া প্রয়োজন। তবে এ পদ্ধতি চালু করতে বিপুল অর্থ প্রয়োজন হবে। একই সঙ্গে বেসামরিক কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ২০১৯ সালের আগের অবসর গ্রহণকারীদের তথ্য না থাকায় এ পদ্ধতি পর্যায়ক্রমে ২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে।

যাদের জন্য প্রযোজ্য নয় : এ আদেশের আওতায় বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসে নিয়োজিত ব্যক্তি, প্রতিরক্ষা প্রাক্কলন থেকে বেতন পাওয়া বেসামরিক কর্মচারী ছাড়া প্রতিরক্ষা সার্ভিসে নিয়োজিত কর্মচারী, পুলিশ বাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের কর্মচারীরা থাকবেন না। এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট শ্রমিক, শিক্ষানবিশ বা প্রশিক্ষণার্থী, আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োজিত ব্যক্তি, দৈনিক ভিত্তিতে সাময়িক শ্রমিক এবং চুক্তি বা খণ্ডকালীন ভিত্তিতে নিয়োজিত ব্যক্তিরাও নতুন পে-স্কেলের আওতামুক্ত থাকবেন।

Pin It