২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পর্তুগালের ২-১ ব্যবধানের জয়ের ম্যাচে জয়সূচক পেনাল্টিটি নিয়েছিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তবে টরন্টোর সেই ম্যাচের পর মাঠের ফুটবল ছাপিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড় তুলেছে রোনালদোর একটি ভাইরাল ভিডিও।
আর তা নিয়েই শুরু হয়েছে তীব্র গুঞ্জন।
লাইভ ব্রডকাস্ট থেকে নেওয়া একটি ছোট ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, রোনালদো পেনাল্টি শট নেওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে নিজের মনে ফিসফিস করে কিছু একটা বলছেন।
নেটিজেন এবং ফুটবল ভক্তদের একাংশের দাবি, ৪১ বছর বয়সী এই পর্তুগিজ অধিনায়ক শট নেওয়ার আগে মনোযোগ ধরে রাখতে এবং নিজেকে শান্ত করতে মুখাবয়ব নাড়িয়ে ‘বিসমিল্লাহ’ (আল্লাহর নামে শুরু করছি) শব্দগুচ্ছ উচ্চারণ করেছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই দাবি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর ফুটবল বিশ্বে প্রশ্ন উঠেছে বিগত ৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরে খেলার কারণেই কি এই ইসলামিক পরিভাষাটি এখন সিআরসেভেনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে?
ইন্টারনেটে তোলপাড় সৃষ্টি করা এই ভিডিওর পেছনের আসল সত্যটি আসলে কোনো ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে জড়িত নয়, বরং এটি খেলোয়াড়দের একটি সাধারণ মনস্তাত্ত্বিক অনুশীলনের অংশ।
যা সাধারণ মানুষ বা দর্শকরা সহজে বুঝতে পারেন না।
মূল ভিডিওটির একটি বিস্তারিত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পেনাল্টি শট নেওয়ার আগে নিজের নিয়মিত প্রস্তুতির অংশ হিসেবে রোনালদো মূলত দীর্ঘ এবং গভীর শ্বাস নিচ্ছিলেন এবং নিজেকে অনুপ্রাণিত করার জন্য কিছু আত্মউন্নয়নমূলক কথা (মোটিভেশনাল স্টেটমেন্ট) আওড়াচ্ছিলেন।
যদিও বিশ্বজুড়ে ফুটবল ভক্তদের অনেকেই বিশ্বাস করছেন যে পেনাল্টি শুটআউটে ভাগ্যের সহায়তার জন্য তিনি দুবার শব্দটি উচ্চারণ করেছেন, তবে এই বিষয়ে রোনালদো বা পর্তুগাল দলের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। অবশ্য অনেক ভক্তের ধারণা, দীর্ঘদিন সৌদি আরবে থাকার সুবাদে বেশ কিছু আরবি শব্দের সঙ্গে তিনি সুপরিচিত হয়ে উঠেছেন এবং অবচেতনভাবেই হয়তো তা তার মুখ থেকে বেরিয়ে এসেছে। তবে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্যপ্রমাণ না থাকায়, ভাইরাল হওয়া এই ক্লিপটি এখনো কেবলই এক ব্যাখ্যার বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে।





