রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ৩-২ গোলে বেঁচে গেল আর্জেন্টিনা

Screenshot 2026-07-04 070620

কেপ ভার্দের মুখোমুখি হতে চলেছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। এই ম্যাচে অবশ্য চোখরাঙানি দিচ্ছে প্রকৃতি। বজ্রপাতসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে আজ।

এই ম্যাচের লাইভ আপডেট জানতে চোখ রাখুন যুগান্তর অনলাইনে।

 ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪৬ এএম

রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ৩-২ গোলে জিতল আর্জেন্টিনা

কেপ ভার্দে শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছে। আর্জেন্টিনাকে তাদের সামর্থ্যের শেষ বিন্দু দিয়ে লড়তে বাধ্য করে তবেই হেরেছে। তবে সেটা তাদের জন্য যথেষ্ট হলো না। শেষমেশ ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর ১১১ মিনিটের গোলে আর্জেন্টিনা জিতল। ৩-২ গোলের এই জয়ে তারা পৌঁছে গেল প্রতিযোগিতার শেষ ষোলতে।

কাবরালের দুর্দান্ত ফ্রি কিক ঠেকালেন মার্তিনেজ

লোপেস কাবরাল যেখান থেকে অবিশ্বাস্য গোলটা করেছিলেন, সেখান থেকেই ফ্রি কিকটা পেয়েছিল কেপ ভার্দে। সেখানে থেকে দুর্দান্ত এক ফ্রি কিক নিয়েছিলেন সেই কাবরাল। আর সে শটটা দুর্দান্তভাবে ঠেকালেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ।

আর্জেন্টিনাকে আবারও এগিয়ে দিলেন রোমেরো

লিওনেল মেসির কর্নারে মাথা ছুঁইয়ে বল কেপ ভার্দের জালে নিয়ে আছড়ে ফেললেন ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো। ১১১ মিনিটে এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা।

আবারও আর্জেন্টিনার জালে বল, আবার সমতায় কেপ ভার্দে

বাম পাশে বক্সের কোণায় ফাঁকায় বল পেয়ে গিয়েছিল কেপ ভার্দে। সিডনি লোপেস কাবরাল সেখান থেকেই কামান দাগালেন ফারপোস্ট লক্ষ্য করে। এমি মার্তিনেজের কবজার বাইরে দিয়ে বলটা গিয়ে জড়াল জালে। আবারও সমতায় কেপ ভার্দে!

অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দিলেন লিসান্দ্রো

বাম পাশ থেকে মেসির নেওয়া কর্নারটা শুরুতে ঠিকঠাক মতো কাজে লাগাতে পারেনি আর্জেন্টিনা। কেপ ভার্দে রক্ষণ ঠেকিয়ে দিয়েছিল। তবে ফিরতি সুযোগটা গিয়ে পড়ল ডান পাশে থাকা লিসান্দ্রো মার্তিনেজের পায়ে। সেখান থেকে তার বাম পায়ের আগুনে শট গিয়ে ভোজিনিয়াকে ফাঁকি দিয়ে জড়াল জালে। ম্যাচের ৯২তম ও অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে আবারও এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা।

আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময়ে যেতে বাধ্য করল কেপ ভার্দে

শেষ মুহূর্তে প্রায় দেড় মিনিট ধরে বল ছিল কেপ ভার্দের পায়ে। আর সেটা অস্বস্তিতে রেখেছিল আর্জেন্টিনাকে। যোগ করা সময়ের অষ্টম মিনিট শেষ হলো অবশেষে। তাতে স্বস্তির নিঃশ্বাসই ফেলতে পারে আর্জেন্টিনা। খেলা এখন গড়াচ্ছে যোগ করা অতিরিক্ত সময়ে।

 মেসির আরও এক ফ্রি কিক ঠেকালেন ভোজিনিয়া
ইনজুরি সময়ের ৪র্থ মিনিটে বক্সের বাইরে ডান পাশে একটা ফ্রি কিক পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। মেসি খানিকটা নিচুতে মেরেছিলেন শটটা। সেটাও ঠেকিয়ে দিলেন ভোজিনিয়া।

মেসির দুর্দান্ত ফ্রি কিক ঠেকিয়ে দিলেন ভোজিনিয়া

৭২ মিনিটে বক্সের একটু সামনে বাম পাশে ফ্রি কিক পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। সেখান থেকে দুর্দান্ত একটা ফ্রি কিক নিয়েছিলেন মেসি। সেটা আরও দারুণভাবে ঠেকিয়ে দিয়েছেন কেপ ভার্দের দেয়াল ভোজিনিয়া। এরপর কর্নার কিকটাও কাজে লাগাতে পারল না আর্জেন্টিনা। ১-১ সমতায় থেকে হাইড্রেশন ব্রেকে গেল আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দে।

মেসির শট ঠেকিয়ে দিলেন ভোজিনিয়া

ম্যাচের ৬১ মিনিটেই আবার এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। বক্সের সামনে পাস পেয়ে লিওনেল মেসি অনেকটাই একা পেয়ে গিয়েছিলেন ভোজিনিয়াকে। তার পায়ের ফাঁক দিয়ে গোলটা করতে চেয়েছিলেন মেসি, সে শটটা ঠেকিয়ে দিলেন কেপ ভার্দের কিংবদন্তি বনে যাওয়া গোলরক্ষক। গোল হলো না আর্জেন্টিনার।

৫৯ মিনিটে সমতা ফেরাল কেপ ভার্দে

দুর্দান্ত গোল!

বক্সের ভেতরে এমি মার্তিনেজ আর লিসান্দ্রো মার্তিনেজের সামনে পড়ে গিয়েছিলেন ডরি দুয়ার্তে। লিসান্দ্রোর পায়ের ফাঁক দিয়ে তার দুর্দান্ত এক শট এমি মার্তিনেজকে ফাঁকি দিয়ে জড়াল জালে। ৫৯ মিনিটে স্কোরলাইন ১-১ করল কেপ ভার্দে।

আর্জেন্টিনা রক্ষণে কেপ ভার্দের হানা, রক্ষা করলেন মার্তিনেজ

বক্সের বাইরে থেকে একটু স্পেস পেয়েই দারুণ একটা শট নিয়েছিলেন ডরি দুয়ার্তে। সে শটটা দারুণভাবে ঠেকালেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ।

১-০ গোলে এগিয়ে বিরতিতে গেল আর্জেন্টিনা

লিওনেল মেসির গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে গেল আর্জেন্টিনা। ব্যবধান বাড়তে পারত। তবে ভোজিনিয়া সেটা হতে দেননি, দুটি শট ঠেকিয়ে কেপ ভার্দের আশা জিইয়ে রেখেছেন এখনও।

লাউতারোর শট ঠেকালেন ভোজিনিয়া

বক্সের একটু বাইরে লিওনেল মেসিকে বলটা বাড়িয়েছিলেন এনজো ফের্নান্দেজ। সেটা কেপ ভার্দের রক্ষণ দেয়ালে বাধা পেয়ে পড়ে লাউতারো মার্তিনেজের পায়ে। সেখান থেকে তার নেওয়া জোরালো শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন ভোজিনিয়া, না হলে তখনই ব্যবধান দ্বিগুণ করে ফেলতে পারত আর্জেন্টিনা!

মেসির দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা
রক্ষণ থেকে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের দুর্দান্ত এক লংবল পেয়েছিলেন লিওনেল মেসি। বক্সে ঢুকে তিনি একা পেয়ে গিয়েছিলেন ভোজিনিয়াকে। এক টাচে আয়ত্বে নিয়ে বলটা দারুণ এক শটে জড়ালেন জালে। বিশ্বকাপে ২০তম গোলের দেখা পেয়ে গেলেন মেসি।

এই গোল যেন ৮ বছর আগের স্মৃতি ফিরিয়ে আনল আর্জেন্টিনা শিবিরে। ২০১৮ বিশ্বকাপে একটাই গোল করেছিলেন। সেটাও অনেকটা এই গোলের মতোই। সেবার বলটা এসেছিল সেন্টার সার্কেলের একটু সামনে থেকে, লং বলটা বাড়িয়েছিলেন এভার বানেগা। দারুণ দুই টাচে বল আয়ত্বে নিয়ে ঠিক এই জায়গা দিয়েই গোলটা করেছিলেন মেসি! নাইজেরিয়ার বিপক্ষে সে ম্যাচটা অবশ্য কষ্টেসৃষ্টে জিতেছিল আর্জেন্টিনা!

আর্জেন্টিনা ১-০ কেপ ভার্দে

প্রথম কোয়ার্টারে সফল কেপ ভার্দে

যে লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছে কেপ ভার্দে, সেটা প্রথম কোয়ার্টারে অন্তত সফল তাদের। প্রথম হাইড্রেশন ব্রেকে গোল করতে দেয়নি আর্জেন্টিনাকে। বারদুয়েক সুযোগ এসেছে আর্জেন্টিনার সামনে। তবে দুবারই ব্যর্থ হয়েছেন মেসি, প্রথমবার তার শট বেরিয়ে গেছে বাইরে দিয়ে, দ্বিতীয় বার ভোজিনিয়া ঠেকিয়ে দিয়েছেন তার ফ্রি কিক।

প্রথমার্ধে মিড ব্লকে আর্জেন্টিনাকে ঠেকাতে চেয়েছে কেপ ভার্দে। দুই ফ্ল্যাঙ্কে স্পেস পেলেও সেসব ব্যবহার করেনি বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। মাঠের মাঝ দিয়েই আক্রমণ শানানোর চেষ্টা করতে দেখা গেছে তাদের। একবার তো দ্রুতগতিতে প্রতি আক্রমণে ওঠার সুযোগ থাকলেও সেটা ব্যাকপাস দিয়ে নষ্ট করেছে দলটি!

মেসির ফ্রি কিক ঠেকালেন ভোজিনিয়া

১৮ মিনিটে বক্সের বাইরে বাম পাশে ফ্রি কিক পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। সেটা বাম পাশ দিয়েই নিতে চেয়েছিলেন মেসি। তবে তাতে জোর ছিল না খুব একটা। বেশ সহজেই বলটা দখলে নেন ভোজিনিয়া।

মেসির শট বেরিয়ে গেল বাইরে দিয়ে

ম্যাচের ১৪তম মিনিটে বক্সের বাম পাশে বল পেয়েছিলেন মেসি। সামনে ছিল কেপ ভার্দে রক্ষণ ও গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। সেখান থেকেই শটটা নিয়েছিলেন তিনি। সেটা বেরিয়ে গেল বাইরে দিয়ে।

পরিস্থিতিটা ২০১৪ বিশ্বকাপ ফাইনালের একটা ফ্ল্যাশব্যাকও যেন দিয়ে গেল। সেদিন ম্যাচের ৪৭ মিনিটে বক্সের ঠিক এই জায়গা থেকে শটটা ঠিক এই জায়গা দিয়েই বের হয়ে গিয়েছিল!

কেপ ভার্দের একাদশ যেমন

ভোজিনিয়া;

দিনেই বোর্গেস, পিকো লোপেস, সিডনি লোপেজ কাব্রাল, স্টিভেন মরেইরা;
কেভিন পিনা;
জোভানে কাব্রাল, দেরয় দুয়ার্তে, লারোস দুয়ার্তে, রায়ান মেন্দেস (অধিনায়ক);
নুনো দা কস্তা।

আর্জেন্টিনা একাদশে ফিরলেন রোমেরো

আক্রমণভাগে মেসির সঙ্গী হচ্ছেন লাউতারো মার্তিনেজ। বেঞ্চে জায়গা হয়েছে হুলিয়ান আলভারেজের। এছাড়া একাদশে আছেন ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, চোট থেকে পুরোপুরি সেরে উঠেছেন তিনি।

আর্জেন্টিনার একাদশ:
এমিলিয়ানো মার্তিনেজ;
লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, ফাকুন্দো মেদিনা, নাহুয়েল মলিনা;
রদ্রিগো দে পল, আলেক্সিস ম্যাক আলিস্তার, এনসো ফের্নান্দেজ;
লিওনেল মেসি (অধিনায়ক), থিয়াগো আলমাদা, লাউতারো মার্তিনেজ।

Pin It