মানবাধিকার নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে আরও শক্তিশালী ও স্বাধীন কমিশন গঠনে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬’-এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
সোমবার (১০ আগস্ট) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১৬তম বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জানা গেছে, নতুন এই আইনটির উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করেছে লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ। মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ রাষ্ট্রের অন্যতম অঙ্গীকার।
কমিশন গঠন ও নারী প্রতিনিধিত্ব
কমিশন গঠন এবং এর মেয়াদকাল সম্পর্কে আইনে সুনির্দিষ্ট বিধান রাখা হয়েছে। একজন চেয়ারপার্সন ও চারজন কমিশনার সমন্বয়ে গঠিত কমিশনে ন্যূনতম একজন নারী অন্তর্ভুক্তির বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে বাছাই কমিটির সুপারিশে নৃ-গোষ্ঠী ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর যোগ্য প্রার্থীকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
বাছাই কমিটিতে নাগরিক ও নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধি
কমিশন গঠনের জন্য যে বাছাই কমিটি থাকবে, তাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, নাগরিক প্রতিনিধি এবং নৃ-গোষ্ঠী বা সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সহজ অভিযোগ গ্রহণ ব্যবস্থা
নতুন আইনে কমিশনের কার্যপরিধি আরও সুস্পষ্ট করা হয়েছে। এর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য অভিযোগ গ্রহণ ব্যবস্থা সহজ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা ও অন্তর্বর্তী আদেশ
কার্যকর তদন্ত ব্যবস্থা এবং ভুক্তভোগীর তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ কমিশনকে অন্তর্বর্তী আদেশ প্রদানের ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছে। তদন্ত চলাকালীন ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বা সম্ভাব্য ক্ষতি রোধে কমিশন এই অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দিতে পারবে।
হেফাজতে নির্যাতন ও গুম রোধে এনপিএম ইউনিট
আইনটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো জাতিসংঘের ‘নির্যাতনবিরোধী সনদের ঐচ্ছিক প্রটোকল’ (OPCAT) অনুযায়ী হেফাজতে নির্যাতন, মৃত্যু বা গুম রোধকল্পে একটি জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা বা ন্যাশনাল প্রিভেন্টিভ মেকানিজম (NPM) ইউনিট গঠনের বিধান অন্তর্ভুক্তকরণ।




