রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে পর্তুগাল জিতল ২-১ গোলে

1783038491-6a47021bbacd4

রিয়াল মাদ্রিদে দুজনে একসঙ্গে একই ড্রেসিংরুম শেয়ার করেছেন প্রায় ৬ বছর। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও লুকা মদ্রিচ দুজনে আজ মুখোমুখি শেষ বারের মতো। বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এ আজ নামছে পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়া। সেই লড়াইয়ে আজ রোনালদো-মদ্রিচদের একজনের বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হচ্ছে।

এই লড়াইয়ের আপডেট জানতে চোখ রাখুন যুগান্তর অনলাইনে।

রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে পর্তুগাল জিতল ২-১ গোলে

চতুর্থ অফিসিয়াল যখন ১০ মিনিট অতিরিক্ত সময় দিয়েছিলেন, তখন মনে হচ্ছিল খেলাটা বুঝি যোগ করা সময়ে যাচ্ছেই! দুই দলই যে ১-১ গোলে সমতায় ছিল!

কিন্তু সেই অতিরিক্ত সময়ে কী থেকে কী হয়ে গেল! পর্তুগাল গোল করে এগিয়ে গেল। এরপর ১০ মিনিট পেরিয়ে ১২ মিনিটে গিয়ে ক্রোয়েশিয়া সমতা ফিরিয়েই ফেলেছিল। তবে অফসাইডে সে গোল বাতিল হলো শেষমেশ!

এরপরও একটা আক্রমণ করতে দেওয়া হয়েছে দুই দলকে। সেই যোগ করা সময় গিয়ে শেষ হয়েছে প্রায় ১৮ মিনিটে গিয়ে। শেষ বাঁশি বাজতেই পর্তুগিজ শিবিরে উল্লাস, কারণ দলের ২-১ গোলের জয় নিশ্চিত হয়ে গেছে তাতে! রোনালদোর দল চলে গেছে শেষ ১৬-তে।

শেষ মুহূর্তে ক্রোয়েশিয়ার গোল বাতিল অফসাইডে!

যোগ করা সময়েরও যোগ করা সময়ে পর্তুগালের জালে বল জড়িয়েছিল ক্রোয়েশিয়া। তবে এরপরই তা চলে যায় ভিএআরে। অফসাইড হয়েছে কি না তা যাচাইয়ে।

পাসালিচকে অফসাইড মনে হচ্ছিল। একমাত্র প্রশ্ন ছিল, বলটি পাসালিচের দিকে যাওয়ার সময় ক্রোয়েশিয়া সেটি স্পর্শ করেছিল কি না; পাসালিচ বলটি নিয়ন্ত্রণে এনে গার্দিওলের দিকে বাড়িয়ে দেন, যিনি খুব কাছ থেকে গোলটি করেন।

ভিএআরে লম্বা যাচাইয়ে দেখা গেল ক্রোয়েশিয়ার একজনের গায়ে লেগেছিল পাসালিচের কাছে বল যাওয়ার আগে। আর তাতেই গোলটা বাতিল হলো অফসাইডে। হতাশই হতে হলো ক্রোয়েশিয়াকে।

রামোসের গোলে শেষ ১৬’র পথে পর্তুগাল

ইনজুরি সময়ের তৃতীয় মিনিটে এসে ম্যাচে এগিয়ে গেল পর্তুগাল। রাফায়েল লিয়াওয়ের ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে বলটা জালে জড়ালেন গনসালো রামোস। শেষ ১৬ থেকে পর্তুগালের অপেক্ষাটা এখন মোটে ৭ মিনিটের!

৮০ মিনিটে তুলে নেওয়া হলো রোনালদোকে

অবিশ্বাস্যই বটে। রোনালদো মন্দ খেলছিলেন না। দারুণ এক ফিনিশে বল জালে জড়িয়েও অফসাইডে বাতিল হয়েছিল তার প্রথম চেষ্টা। পেনাল্টি থেকে এরপর দলকে সমতায় ফিরিয়েছেন তিনিই। তবে তাকে ৮০ মিনিটের মাথায় তুলে নিলেন কোচ রবার্তো মার্তিনেজ।

ক্রোয়েশিয়ার আরও এক গোল বাতিল অফসাইডে

মাঝমাঠ থেকে আসা সুসিচ দারুণ এক ফিনিশে বল জড়ালেন পর্তুগালের জালে। তবে এরপরই দেখা গেল সে গোলটা বাতিল হলো অফসাইডে! গোলটা হয়ে গেলে কঠিনই হয়ে পড়ত পর্তুগালের কাজটা, কারণ হাতে ছিল আর মোটে ১১ মিনিট!

পেনাল্টি থেকে বিশ্বকাপ নকআউটের প্রথম গোল পেলেন রোনালদো

কর্নার থেকে সুযোগ পেয়েছিল পর্তুগাল। সেখানে ফাউল করা হয় রাফা লিয়াওকে। ভিএআর যাচাইয়ের পর পেনাল্টি পায় পর্তুগাল।

স্পটকিক থেকে পর্তুগালকে সমতায় ফেরান ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। এটি তার ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ নকআউট গোল।

রোনালদোর গোল বাতিল হলো অফসাইডে!

৫৪ থেকে ৬১! টরন্টো স্টেডিয়ামে একটা ঝড়ই বয়ে গেছে রীতিমতো! এবার দৃশ্যপটে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। মাঝমাঠ থেকে ভেসে আসা এক বলে দারুণ এক ফিনিশই করে বসেছিলেন তিনি। গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে পাঠালেন জালে। তবে তখনই ভেসে এল অফসাইডের বাঁশি। ভিএআর যাচাইয়ে দেখা গেল রোনালদোর শরীরের ওপরের অংশ ছিল অফসাইডে। আবারও আফসোসে পুড়ল রোনালদোর দল!

গনসালো রামোসের শট গিয়ে লাগল ক্রসবারে

এক গোলের পর খেলার মেজাজটাই বদলে গেছে যেন। ওপাশে ক্রোয়েশিয়ার আরেক গোল বাতিলের পরমুহূর্তেই সমতার খুব কাছে চলে গিয়েছিল পর্তুগাল। বাম পাশ থেকে আক্রমণে উঠে দারুণ এক শট নিয়েছিলেন গনসালো রামোস। তবে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া সে শটটা গিয়ে লাগল ক্রসবারে! আফসোস!

আবারও পর্তুগালের জালে বল, তবু গোল পেল না ক্রোয়েশিয়া

গোল হজম করে হকচকিয়েই গেছে পর্তুগাল। তারই সুযোগ নিয়ে ক্রোয়েশিয়া আবারও বল জড়িয়েছিল জালে। তবে এরপরই উঠল লাইন্সম্যানের পতাকা, অফসাইড! হাঁফ ছেড়ে বাঁচল যেন পর্তুগাল!

পর্তুগালের জালে পেরিসিচের গোল, বিপাকে রোনালদোরা

প্রথমার্ধ দেখে মনে হচ্ছিল ক্রোয়েশিয়া বুঝি পেনাল্টি শ্যুটআউটের জন্যই খেলছে। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আড়মোড়া ভাঙে দলটা। একাধিক আক্রমণ কোনো গোলের মুখ দেখেনি। দেখল ৫৪ মিনিটে। বক্সের জটলায় সুযোগ পেয়েই বলটা জালে জড়ালেন ইভান পেরিসিচ!

ক্রোয়েশিয়া ১-০ পর্তুগাল

গোল ছাড়াই প্রথমার্ধ শেষ ‘মহারণের’

পর্তুগাল শুরু থেকে আক্রমণের দিক থেকে এগিয়ে আছে। ওদিকে ক্রোয়েশিয়া খেলছে রক্ষণাত্মক মেজাজে। ফলে প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি কোনো দল।

অল্পের জন্য গোল পেলেন না রোনালদো

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর এখনও বিশ্বকাপের নকআউটে গোল নেই। এই অপবাদ ঘোচানোর খুব কাছে চলে গিয়েছিলেন তিনি।

ডান পাশ থেকে পেদ্রো নেতো ক্রস করেছিলেন। বক্সে বাম পাশের পোস্টের সামনে তিনি বলে শরীর ছোঁয়াতে পারেননি। ফলে বল বেরিয়ে যায় বাইরে।

প্রথম কোয়ার্টারে গোল পেল না কোনো দলই

শুরুর ২৩ মিনিটে আক্রমণের দিক থেকে এগিয়ে ছিল পর্তুগাল। বলের দখল থেকে শুরু করে শট, কর্নার সর্বত্র ছিল তাদেরই দাপট। তবে গোলের দেখা পায়নি রোনালদোর দল। হাইড্রেশন ব্রেকে তাই দুই দল যাচ্ছে ০-০ স্কোরলাইন নিয়ে।

ক্রোয়েশিয়া একাদশে আছেন মদ্রিচ

অভিজ্ঞ লুকা মদ্রিচকে নিয়েই গড়া হয়েছে ক্রোয়েশিয়া একাদশ।

ক্রোয়েশিয়া একাদশ:

লিভাকোভিচ;
পেরিসিচ, পনগ্রাচিচ, সুতালো, স্টানিসিচ;
কোভাচিচ, মদ্রিচ;
বাতুরিনা, সুচিচ, ভ্লাসিচ;
বুদিমির।

রোনালদোকে নিয়েই পর্তুগাল একাদশ

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে রাখা হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে কোচ রবার্তো মার্তিনেজ বেশ কুশলী আচরণ করেছিলেন সংবাদ সম্মেলনে। তবে তাকে নিয়েই আজ পর্তুগাল নামছে মাঠে।

পর্তুগাল দলে অবশ্য একটি পরিবর্তন আছে, জোয়াও ফেলিক্সের জায়গায় একাদশে এসেছেন রাফায়েল লিয়াও।

পর্তুগাল একাদশ-
ডিয়োগো কস্তা;
মেন্ডেস, ভেইগা, ডায়াস, কানসেলো;
ভিতিনিয়া, জোয়াও নেভেস;
লিয়াও, ফের্নান্দেজ, নেতো;
রোনালদো।

অস্ট্রিয়াকে উড়িয়ে দিয়ে ১৬ বছরের খরা কাটাল স্পেন

বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এ ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে স্পেন। দুটি গোল করেছেন মিকেল ওইয়েরজাবাল। বাকি গোলটি করেছেন পেদ্রো পোরো। এই জয়ের ফলে ২০১০ বিশ্বকাপের ফাইনালের পর এই প্রথম কোনো বিশ্বকাপ নকআউট ম্যাচে জিতল স্পেন।

২০১০ বিশ্বকাপের ফাইনালের পর নকআউট পর্বের কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি স্পেন। ২০১৪ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল দলটিকে। ২০১৮ আর ২০২২ বিশ্বকাপে নকআউটে উঠলেও শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল স্পেনকে। এবার সেই খরা কাটাতে কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল নেমেছিল অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে। সে লক্ষ্য পূরণ করে তবেই মাঠ ছেড়েছে স্প্যানিশরা।

ম্যাচের ৩৬ মিনিটে প্রথম গোলটি করে স্পেন। মার্ক কুকুরেলার পাস থেকে সহজেই বল জালে জড়ান ওইয়েরজাবাল। ২০১০ সালে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার গোলের পর এই প্রথম নিজেদের কোনো খেলোয়াড়ের পা থেকে বিশ্বকাপের নকআউটে গোল পেল স্পেন। মাঝে ২০১৮ বিশ্বকাপে রাশিয়ার বিপক্ষে গোল এলেও সেটা ছিল আত্মঘাতী গোল।

তার আগে অবশ্য আরও একটি গোল পেয়েছিল স্পেন। লামিন ইয়ামালের কর্নার থেকে বল জালে জড়ান কুকুরেলা। কিন্তু ভিএআর যাচাইয়ে দেখা যায়, গোলের আগে স্পেনের একজন খেলোয়াড় অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষককে ফাউল করেছিলেন। তাই গোলটি বাতিল হয়ে যায়।

প্রথমার্ধে আরও দুবার গোলের কাছে গিয়েছিল স্পেন। অ্যালেক্স বায়েনার ফ্রি কিক ঠেকিয়ে দেন অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক অ্যালেক্সান্ডার শ্লাগার। ফিরতি বলে ইয়ামালের শটও ঠেকিয়ে দেন তিনি। তাই ১-০ ব্যবধান নিয়েই বিরতিতে যায় স্পেন।

দ্বিতীয়ার্ধের ৬৫ মিনিটে ব্যবধান বাড়ায় স্পেন। বায়েনার ক্রস থেকে হেডে গোল করেন পেদ্রো পোরো। এটি ছিল এই টটেনহ্যাম ডিফেন্ডারের প্রথম আন্তর্জাতিক গোল। এই গোলের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় স্পেন।

৬০ মিনিটের পর অস্ট্রিয়া একটু আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করে। বদলি খেলোয়াড় সাশা কালাইজিচ মাঠে নামার পর সাবিতজারের ক্রস থেকে হেড করেন তিনি। তবে বল লক্ষ্যে থাকেনি। পুরো ম্যাচে এটিই ছিল অস্ট্রিয়ার সবচেয়ে ভালো সুযোগ।

শেষ পর্যন্ত ৮৮ মিনিটে তৃতীয় গোলটি করে স্পেন। কুকুরেলার পাস থেকে বক্সের ভেতরে ফাঁকায় দাঁড়িয়ে গোল করেন ওইয়েরজাবাল। এই গোলের মাধ্যমে নিজের দ্বিতীয় গোলটিও তুলে নেন তিনি। শেষমেশ ৩-০ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্পেন।

Pin It